ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

‘ইসলাম’ কথার অর্থ হল শান্তি । এর আরেকটি অর্থ হল ‘নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর কাছে সমর্পন করে শান্তি অর্জন করা’ । কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ এই শান্তির ধর্মটি অমুসলিমদের কাছে অশান্তি, সন্ত্রাস ও অবিচারের ধর্ম বলেই প্রচারিত হচ্ছে । এর জন্য অনেকটাই দায়ি মিডিয়া । মিডিয়াকে দোষী এ কারণেই বলছি যে, যখন ‘তথাকথিত মুসলিম নামধারী’ কোনো সাধারন মানুষ বা সন্ত্রাসবাদী কোনো সন্ত্রাসমূলক কাজ করে তখন মিডিয়া সেটাকে বারবার জনসাধারনের সামনে তুলে ধরে । অথচ যখন সারা বিশ্বের সাড়ে ছয় হাজার উলেমা মিলে দিল্লিতে ফতোয়া দিল যে, যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসই ইসলামে নিষিদ্ধ এবং যে সকল সন্ত্রাসবাদী যারা সাধারন মানুষকে হত্যা করে তারা মুসলিম নয় । সেটা তেমন ভাবে দেখানোই হল না । এমনকি লেখালেখিও তেমন ভাবে হলনা । যাইহোক সেই সব কথা অন্য কোনোদিন লেখা যাবে । তবে মিডিয়ার কাছে আমার অনুরোধ আপনারা যদি কুরান হাদিস এবং মাদ্রাসা ও উলেমাদের কথা জনসাধারনের কাছে তুলে ধরেন তাহলে দেখবেন জনসাধারনের মধ্যে তা জাদুর মতো কাজ করছে । সাধারন মুসলমানদের তখন কোনো দুষ্ট লোক খারাপ কাজে ব্যবহার করতে পারবে না এবং তার সাথে অমুসলিমদের ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা গুলিও দূর হবে । ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতি গড়ে উঠবে ।
তবে আসুন কয়েকটি আল্লাহর নির্দেশ দেখে নেওয়া যাকঃ

“ধর্মে বল প্রয়োগের কোনো স্থান নেই । সঠিক পথ প্রকৃতই ভুল পথ হতে পৃথক । যে শয়তানে অবিশ্বাসী এবং আল্লাহতে বিশ্বাসী সে বাস্তবিকই এমন এক মজবুত হাতল ধরবে যা কখনো ভাঙে না । আল্লাহ সবার কথা শোনেন । তিনি সবকিছুই জানেন (সুরা বাক্কারাহ/২৫৬) ।

“ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে স্বদেশ থেকে বহিস্কৃত করেনি তাদের প্রতি মহানুভবতা দেখাতে ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না । আল্লাহ তো ন্যায়পরায়নদেরকে ভালোবাসেন । আল্লাহ শুধু তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন যারা ধর্মের কারনে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেছে । তোমাদের দেশান্তরিত করেছে এবং তাতে সাহায্য করেছে । তাদের সাথে যারা বন্ধুত্ব করে তারা তো যালিম” (কুরআন; ৬০/৮-৯)

যে সকল অমুসলিমরা আল্লাহ ছেড়ে অন্যদের উপাসনা করে তাদের নিয়ে মুসলিমরা যাতে কোনো রকম ব্যাঙ্গ বা কটুক্তি না করেন সে ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহকে ছেড়ে যাদেরকে তারা ডাকে তাদের তোমরা গালি দিও না…..(কুরান;৬/১০৮) ।

কোনো মুসলমান যাতে অমুসলিমদের সাথে কোনো রকম অবিচার না করেন সে ব্যাপারে মুসলমানদের সাবধান করে আল্লাহ তা’আলা ঘোষনা করেছেন, “হে মুউমিনগণ! আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় স্বাক্ষরদানে তোমরা অবিচল থাকবে; কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদেরকে যেন কখনো সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে, সুবিচার করবে এটি তাকওয়ার নিকটতর এবং আল্লাহকে ভয় করবে, তোমরা যা কর আল্লাহ তা পুরো খবর রাখেন” (সুরা মায়েদা/৮) ।

বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সা) বলেছেন, “কোনো মানুষেরই কারও প্রতি ব্যাঙ্গাত্মক আচরন করা উচিত নয় । মুসলমানরা ব্যাঙ্গাত্মক আচরন করেন না, কারও প্রতি কারও প্রতি কঠোর আচরন বা দুর্ব্যবহারও করেন না । আমাকে ধ্বংস করতে পাঠানো হয়নি । পাঠনো হয়েছে করুনা বর্ষণ করতে । যে আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়াশীল আল্লাহ তার প্রতি দয়াশীল” । এমন আরও অনেক আয়াত ও হাদীস আছে । ইহায়া-উল-উলুমে আছে, ‘একজন মুসলমান যেমন অন্যদের ভালোবাসে, তেমনি অন্যরাও তাকে ভালোবাসে । যে অন্যদের ভালোবাসে না সে অন্যের ভালোবাসাও পায়না’ ।

শেষ করছি আল্লাহর বাণী দিয়ে, “ওগো মানবজাতি আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও নারী হতে এবং পরে তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও উপজাতিতে যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো । নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে সেই ব্যাক্তিই আল্লাহর কাছে বেশী মর্যাদা সম্পন্ন যিনি বেশী খোদাভীরু । আল্লাহ হচ্ছেন সর্বজ্ঞেয়, তিনি সবকিছুই জানেন (সুরা হুজুরাত/১৩) ।