ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

পৃথিবীতে প্রায় কয়েকশ ধর্ম আছে । ইসলাম পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম | পৃথিবীর প্রত্যেক তিন জন মানুষের একজন মুসলমান | মাত্র সারে চোদ্দোশ বছরে এই ধর্ম সারা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃতি লাভ করেছে |
মিডিয়া ও ইসলামের সমালোচকরা এই বলে অপবাদ দেয় যে, ইসলাম নারীদের অধিকার দেয় না, বহু বিবাহ বৈধ করেছে ইত্যাদি|এই বহু বিবাহ নিয়ে কয়েকটি কথা বলা যাক | আল্লাহ তালা বলেন,”বিবাহ কর নারীদের মধ্য হতে যাকে তোমাদের ভালো লাগে, দুই ,তিন আথবা চারটি | আর যদি অশঙ্কা কর যে (স্ত্রীদের মাঝে) সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে (মাত্র) একটি (বিবাহ কর)….সুরা নিসা ০৪:০৩
এই আয়াতে বোঝা যাচ্ছে যে কোনো মুসলমান ইচ্ছা করলে একের অধিক বিয়ে (চারের বেসি নয়) করতে পারে | কিন্তু তাতে শর্ত হলো তাকে তার স্ত্রী দের মাঝে সুবিচার অর্থাৎ একই রকম ভালবাসা, খাদ্য, বস্ত্র দিতে হবে এবং তাদের একের উপর অপরকে প্রাধান্য দেওয়া চলবে না | আর যে একাধিক বিয়ে করতে ইচ্ছুক কিন্তু তার মনে হচ্ছে তার স্ত্রী দের মাঝে সুবিচার বা সমতা রাখতে পারবে না তাহলে তাকে একটি বিয়েতেই সন্তুষ্ট থাকতে বলা হচ্ছে | স্ত্রী দের মাঝে সুবিচার করা নিশ্চয় কঠিন কাজ | আল্লহ মানুষ কে সাবধান করে বলেছেন ,” তোমরা যতই আগ্রহ রাখো না কেন, তোমাদের স্ত্রীদের প্রতি সমান ব্যবহার করতে কখনো সখ্ক্ষম হবে না……” সুরা নিসা ০৪:১২৭

উপরের দুটি আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে ইসলামে চারটি বিবাহ করা বৈধ কিন্তু একটি বিবাহ করতে উপদেশ দেওয়া হয়েছে এবং বহু বিবাহে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে | যেমন আল্লাহ বলেন “….তোমরা এক জনের উপর সম্পূর্ণরূপে ঝুকে পরনা ও অপর কে (অপর স্ত্রীকে) ঝুলন্ত অবস্তায় রেখে দিও না …” -সুরা নিসা ০৪:১২৭

এ ব্যপারে মুহাম্মদ (স বলেন,” যে ব্যক্তির দুটি স্ত্রী আছে, কিন্তু তার মধ্যে একটির দিকে ঝুকে যায়, এরূপ ব্যক্তি কিয়ামতের দিন অর্ধদেহ ধসা অবস্থায় উপস্থিত হবে | (আহমেদ ২/৩৪৭; আসবে সুনান; হাকিম ২/১৮৬) ইবনে হিব্বান ৪১৯)

বলা হয়ে থাকে যে, ইসলাম বহু বিবাহ বৈধ করেছে | আসলে ইসলাম বহু বিবাহের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যে কেউ চারটির বেশি বিবাহ করতে পারবে না | কারণ সে যুগে এমন কি আজ থেকে এক দেড়শ বছর আগে এই ভারতেই অনেক মানুষ ৩০-৫০-৮০ এমন কি একশোর বেশি বিবাহ করত! বিশাস না হলে ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘বহু বিবাহ’ ও ‘বাল্য বিবাহ’ বই দুটি পরে দেখতে পারেন | আপনি যদি পৃথিবীর ইতিহাস পরেন তাহলে দেখবেন যে সব যুগেই মানুষ অনেক স্ত্রী রাখত | সে জন্য ডেভেন্পর্ট বলেছেন যে, “মুহাম্মদ (স) বহু বিবাহ কে সীমার বাঁধনে বেধে ছিলেন”|

ইসলাম চারটি বিবাহকে বৈধ বলেছে এবং একটি বিবাহ করতে উপদেশ দিয়েছে | সকল ধর্মেই বহু বিবাহ বৈধ | কিন্তু কোনো সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হইনি | অর্থাত আপনি যত ইচ্ছা বিয়ে করতে পারেন কোনো আসুবিধা নেই | পাশ্চাত্যের বিখ্যাত দার্শনিক লিটনার তার “মহামেডানিসম” বই এ লিখেছেন,” অপরিমিত বহু বিবাহ প্রথাকে মুহাম্মদ (স) রুখে দিয়ে ছিলেন” | তিনি আরো লিখছেন “মুহাম্মদ (স) এর আইনের উত্সাহ কিন্তু স্পষ্টতই একটি বিবাহের পক্ষেই “| স্পস্ট ভাবে জেনে রাখা উচিত, ইসলাম কিন্তু লাগাম ছাড়া বহু বিবাহ প্রথাকে নিসিদ্ধ করেছে | মধ্যযুগে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথার মুখোসে যে বহু বিবাহ প্রথার প্রচলন করেছিলেন , সেই প্রথার সুযোগ নিয়ে কুলীন ব্রাহ্মণ শতাধিক বিবাহে মেতে উঠত | বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ ধর্মের নামে বহু কিশোরী কে ভোগ করত | নারীত্বের অপমানের কি চরম পদ্ধতিই না চালু ছিল মধ্যযুগের সেই সমাজে |

ভারতে কোনো হিন্দু কিংবা আমেরিকা বা ইংলান্ডে কোনো খ্রিস্টান বহু বিবাহ করতে পারবে না, সেটা দেশের সংবিধান কোনো ধর্মীয় আইন নয় | ধর্ম অনুযায়ী তারা বহু বিবাহ করতে পারবে | যখন পৃথিবীর সকল ধর্ম বহু বিবাহ কে বৈধ করেছে তখন ইসলামকে নিয়ে সমলোচনা কেন ? আল্লাহ সকলকে হেদায়াত দিন ….. আমিন !