ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

 

থার্টি ফার্স্ট নাইট অর্থাৎ ৩১ শে ডিসেম্বর দিবাগত রাত। ঐ দিন রাত ১২ টার পর পুরনো বছর কে বিদায় জানিয়ে আমন্ত্রন জানানো হয় নতুন বছরকে।

১৫৮২সালে প্রবর্তন হয় পোপ গ্রেগরীর নামানুসারে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। এর পরথেকেই মূলত ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে পহেলা জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষ পালন করাশুরু হয়।পঞ্জিকাঅনুযায়ী ইংরেজি নববর্ষ শুরু হতো ১ মার্চ এবং খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৩ এর পরে ১ জানুয়ারিতে।

পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসনে থার্টিফার্স্ট নাইট উদযাপন করাটা যেন বাঙ্গালিরও অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে কয়েক যুগ ধরেই। আর এই দিবসের পার্ট না হলে কি জাত থাকবে?

উঁচুতলার মানুষের কাছে তা পাঁচ তারকা হোটেলে- ডিজের গানের সাথে সাথে উন্মাদ নৃত্য আর মদের গেলাসে গেলাসে পরিপূর্ণতা পায়। নিচু শ্রেণীর লোকেরা তার স্বাদ আস্বাদন করে বাংলা মদের বোতলে ঢুক গিলে বা গাঁজার ধোঁয়ায় উড়িয়ে দিয়ে সকল দুঃখকে। তার চেয়ে বেশি মজা খুঁজে নেয় তরুণসমাজ। তাদের নিজস্ব সার্কেলে থাকে এর গুপ্ত আয়োজন। বারবিকিউ , লাউড স্পীকারে গান বাজনা, আতশবাজি, নাইট আউট সেই সাথে পিনিক তো চাই চাই। কত ধরনের পিনিক এর উপকরণ! বিদেশি মদ,বিয়ার, ইয়াবা, গাঁজা , ফেন্সিডিল , কফ সিরাপ , ঘুমের ওষুধ আরও কত্ত কি! যার যার সাধ্য আর স্ট্যাটাস নিয়ে চলে এসকল উপকরন সেবন এর পাল্লা। যুগ এগিয়ে যাচ্ছে তারা কি পিছিয়ে থাকতে পারে? আজকাল অবশ্য ছেলেমেয়ে একসাথে মিলে চলে এসব পার্টি। নেশাগ্রস্ত ছেলেমেয়ে ভুলে যায় তাদের পৃথক সত্তা ও নৈতিক মূল্যবোধ। অবাধ মেলামেশাও এ রাতেরই যেন একটা অঙ্গ। সেকেলে লোকেরা হয়তো একে অবাধ যৌনাচার বা সমাজ বিরোধী কোন কাজ বলতে পারে কিন্তু এ যুগের ভেরি ভেরি স্মার্ট ছেলেমেয়েরা একে আলট্রা মডার্ন কালচার এর একটা পার্ট বলে স্বীকার করতে রাজি মাত্র।

এগিয়ে যাচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ, সেই সাথে সাথে তারিখ বা উৎসব নির্ভর স্মার্ট যুগের জনগণও।

তবে তাই হোক- থার্টিফার্স্ট উদযাপন করে নিউ ইয়ার বলে আগে বারো…

কিন্তু ফলাফল যেনে রেখ শূন্য। বাঙালি  আগেও যেমন বিদেশি সংস্কৃতির খারাপ গুণ/ অভ্যাস গুলোকে আপন করে নিয়েছে, এখনও তাই করছে। অপ্রিয় হলেও সত্য যে এই অধপতন থেকে পরিত্রানের উপায় আজ আমাদের অজানা। বিজ্ঞ জনের ভাষায়, যদি কোন জাতিকে ধ্বংস করতে চাও তাহলে তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধ্বংস করে দাও।

কে থামাতে পারে এই ধ্বংস? সরকার? পরিবার? না আমার ‘আমি’ নিজেই ?

slide