ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

আমার মতে ক্রিকেটের সবচাইতে কার্যকর ঘরোয়া ফরম্যাট হল ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট। আমার কাছে মনে হল, তাদের কাউন্টি দলগুলা খুবই পেশাদার এবং তারা ক্রিকেটের তিনটা ফরম্যাটকেই খুব গুরুত্ব দেয়। একটা দলই তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে অংশ নিয়ে থাকে।  প্রতিটা কাউন্টি দলের নিজস্ব মাঠ রয়েছে। রয়েছে নিজস্ব প্র্যাকটিসহ সকল আনুষাঙ্গিক সুবিধাও।

অপর দিকে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটটা কেমন যেন ছন্নছাড়া। ওয়ান ডে এর জন্য প্রিমিয়ার লীগ। যেখানে দলগুলার পৃষ্ঠপোশকরা খুব একটা পেশাদারিত্ব দেখাতে পারে না। চারদিনের প্রথম শ্রেণী ক্রিকেটের জন্য আছে জাতীয় ক্রিকেট লীগ। যেখানে দলগুলার দায়িত্ব নেয় স্বয়ং বিসিবি/ বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা এবং পেশাদারিত্বের ছিটে ফোটাও নেই সেখানে। সাংবাদিকরা তামাশা করে এই ক্রিকেট লীগকে পিকনিক টুর্নামেন্টও বলে। টি২০ এর জন্য কখনো এনসিএল, কখনো বিজয় দিবস টি২০। যেগুলো সম্পূর্ণ অপেশাদার লীগ। এবং একমাত্র পেশাদার লীগ বিপিএলও নানা কারণে বিতর্কিত।

আমার ব্যক্তিগত মতামত হল আমাদের ভারতের আইপিএল বা অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাসকে অনুসরণ না করে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটকে অনুসরণ করা উচিত।

ফরম্যাটটা হবে এরকম:
যেখানে মোট দল থাকবে ১৬টি বা ২০টি। প্রথম ৮/১০টি টিম খেলবে ডিভশন ১ এ এবং পরের ৮/১০টি টিম খেলবে ডিভিশন ২ তে। দলগুলার পয়েন্টের ভিত্তিতে ডিভশন ২ হতে ১ এ প্রমোশন ও ডিভিশন ১ হতে ২ এ ডিমোশন হবে। দলগুলার মালিকানা চূড়ান্ত করবে বিসিবি। নিলাম / টেন্ডার প্রথা বাদ দিয়ে অর্থনৈতিক ভাবে সামর্থবান ও ক্রিকেটের প্রতি টান ভালবাসা আছে এমন লোকদের কাছে টিমের দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। দলগুলোর মালিক হতে পারে আবাহনী, মোহামেডান কিংবা কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। তাদের সাথে চুক্তি হবে দীর্ঘ মেয়াদে ১০-২০ বছরের জন্য। এই ক্রিকেট খেলিয়ে যাতে তাদের পর্যাপ্ত আয় হয় সেদিকটাও বিসিবিকে নিশ্চিত করতে হবে। ফলে দলগুলার মধ্যে পেশাদারিত্ব আসবে। প্রতিটা দলের জন্য বয়স ভিত্তিক দল গঠন বাধ্যতামূলক থাকবে। এবং তারা বিকেএসপির অধীনে থেকে বিকেএসপির মতো করে মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্রিকেট প্রশক্ষিণের ব্যবস্থা করবেন। সেটি বৈতনিক/ অবৈতিনিক উভয়ই হতে পারে। ঐ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই দলগুলা বয়সভিত্তিক দল গঠন করবেন এবং মাইনর লীগে অংশগ্রহণ করাবেন। ফলে বছরে প্রতিটা দল ৩০ জন করে ক্রিকেটার গঠনের দায়িত্ব নিলে বছর শেষে ৬০০ ক্রিকেটার প্রস্তুত থাকবে।

চারদিনের, ওয়ান ডে ও টি২০ তিনটা ফরম্যাটই হোম এন্ড এওয়ে ভিত্তিতে ডাবল লীগ পদ্ধতিতে হতে হবে। ফলে প্রতিটা দল প্রত্যেকে ফরম্যাটে কমপক্ষে ১৪-১৮টা করে ম্যাচ খেলতে পারবে। প্রতিটা দল কমপক্ষে ৩০ জন প্লেয়ারের সাথে এক বা একাধিক বছরের জন্য চুক্তি বদ্ধ থাকবে। বিদেশী কোটা ৬-৮টি রাখা হবে। বেশী প্লেয়ারদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কারণ হলো, এর ফলে দলগুলো আলাদা আলাদা ফরম্যাটের জন্য আলাদা আলাদা প্লেয়ার দিয়ে একাদশ গঠন করাতে পারবেন। প্রতিটা দলই ক্রিকেটের তিনটা ফরম্যটে খেলাতে সারা বছরের জন্য প্লেয়ারদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হবেন। যেমন: আবাহনী যদি একটি দল হয় এবং তারা যদি ২০১৫ সালের জন্য সাকিব আল হাসানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় তবে সাকিব আল হাসানকে ২০১৫ সালে শুধুমাত্র আবাহনীর হয়ে খেলতে হবে। সেটি ওয়ানডে, চারদিনের বা টি২০ যে কোন ফরম্যাটের জন্যই। ঐ বছর সে অন্য কোন দলের হয়ে খেলতে পারবে না। দলগুলা দেশী খেলোয়াড়দের সাথে কোন একটি ফরম্যাটের জন্য চুক্তি করতে পাারবেন না। তাকে তিন ফরম্যাটের জন্যই দলে নিতে হবে। তবে একাদশ গঠন করবে দল তার নিজ ইচ্ছা মত।

ফলাফল:
১) প্রচুর ক্রিকেটার তৈরি হবে।
২) আলাদা আলাদা ফরম্যাটের জন্য স্পেশালিস্ট ক্রিকেটার তৈরি হবে।
৩) কমপক্ষের ৫০০ দেশীয় ক্রিকেটারের কর্মসংস্থান হবে।
৪) ক্রিকেটে পেশাদারিত্ব বাড়বে।
৫) তিন ফরম্যাটেই প্রচুর ম্যাচ খেলা হবে। সারা বছরই ব্যস্ত থাকবে ক্রিকেট সূচি।
৬) ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটের জন্যই জাতীয় দলে প্রচুর ক্রিকেটারের সাপ্লাই থাকবে।
৭) বাংলাদেশ ক্রিকেট পরাশক্তি হয়ে আবির্ভূত হবে।

লেখাটা খুব একটা গুছানো হয় নি। তাই দু:খিত।