ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

কর্ণেল অলি। সাবেক জাদরেল সেনা অফিসার। রাজনীতির মাঠেও ঠিক একই রকম। মন্ত্রীত্ব বাগাতে না পেরে গত বিএনপি সরকারের আমলে দল ত্যাগ করে যোগ দিয়েছিলেন আরেক সাবেক বিএনপি নেতা ডা: বি চৌধুরীর দল বিকল্পধারাতে। সেখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বিকল্প ধারা ছেড়ে তৈরি করেন নতুন দল এল.ডি.পি। কিছু একটা পাওয়ার আশায় যোগ দেন মহাজোটে। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ, উল্টো আওয়ামীলীগ কমীদের ইট পাটকেল খেয়েছেন। ফলে আবার তার দল নিয়ে ভিড়েছেন বিএনপির দরজায়। দেখা যাক, বিএনপি তাকে আবার পুনর্মূল্যায়ন করে কিনা। কিন্তু সেটি বাগাতে হলে পটাতে হবে বিএনপি চেয়ারপারসনকে। সেই কাজটির প্রথম ধাপ সম্পন্ন করলেন গত কাল। চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে বিএনপির জনসভায় তিনি বললেন, “জিয়াউর রহমান হলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি”। এমনিক বঙ্গবন্ধুকে হাসিনার পিতা বলে সম্বোধন করেছেন। সামান্য সৌজন্যতাবোধ তিনি দেখালেন না বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণে। কর্ণেল অলির কাছে আমার প্রশ্ন, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনি কি সেই রাতে সেদিন জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন? আপনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। কোন নেতার নামে আপনি আপনার জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন? জিয়াউর রহমান সেদিন কোন নেতার ডাকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল? শত শত মুক্তিযোদ্ধার কয়জন চিনত সেদিনের মেজর জিয়াকে?

সেনাবাহিনীর একজন সাধারণ মেজরের কথায় মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে, এই আশাটা মনে হয় স্বপ্নেও করা যায় না। আজকে আর্মি থেকে একজন মেজর অথবা আরো উচ্চ পদস্থ কাউকে দিয়ে যদি আপনি একটি সমাবেশ করান সেখানে, ১০০ জন মানুষও হবে কিনা সন্দেহ। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানীরা কেন আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল? কারণ তারা জানত তাদের ক্ষমতার মসনদ খুব শীঘ্রই ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। এবং তা শেখ মুজিবের নির্দেশেই। তাই তারা ভয় পেয়ে গ্রেফতার করেছিল শেখ মুজিবকেই। শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগারে ছিল, একথা সত্যি। কিন্তু প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার বুকে, প্রতিটি বাঙ্গালীর বুকে, প্রতিটি স্বাধীনতাকামীর বুকে একজন করে মুজিব ছিল। সেটা আপনার বুকেও ছিল। ছিল মেজর জিয়ার বুকেও। জিয়াউর রহমানকে প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দাবী করে আপনি বঙ্গবন্ধু কিংবা সৈয়দ নজরুল ইসলামকে খাটো করার চেষ্টা করেননি, আপনি খাটো করছেন জিয়াউর রহমানকে। এতে বর্তমান প্রজন্মের সবাই মনে করবে, তাহলে কি জিয়াউর রহমান ক্ষমতা লোভী ছিলেন? কিন্তু আমি মনে করি তিনি তখন ক্ষমতা লোভী ছিলেন না। তাকে এই পরিচয় দিচ্ছে বর্তমানে বিএনপি করা ও তাদের আশে পাশের কিছু অতি উৎসাহী লোকেরা। তারাই ডোবাচ্ছে জিয়াউর রহমান কে।

আপনারা দাবী করেন, তখন আওয়ামীলীগ নেতারা ভারতে পালিয়েছিল। ঐ মুহুর্তে তাহলে তাদের কি করার ছিল? আপনারা কি ঐ মুহুর্তে পাকিস্তানী হানাদারকে মুখোমুখি হয়ে মল্লযুদ্ধ করেছিলেন? নিরস্ত্র লোকের একটাই উপায় থাকে। সেটা হল আত্মগোপন করে নিজেদের সংগঠিত করা। কারণ অসংগঠিত হয়ে কোন কাজেই সফল হওয়া যায় না। আর এটা তো যুদ্ধ। উনারা ভারতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেছিলেন। আপনারা না হয় প্রশিক্ষিত ছিলেন। কিন্তু গ্রামের লুঙ্গি পড়া কৃষকটি তো আর আপনার মতো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিল না। কলম ধরা ছাত্রটি তো কখনো অস্ত্র ধরে নি। আপনি মনে রাখবেন সেই কৃষক, ছাত্র ও শ্রমিক মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা আপনাদের মত প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের চাইতে কিন্তু অনেক বেশি ছিল। তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে শুরু করে অস্ত্র সংগ্রহ, উদ্বাস্তুদের খাবার ও বাসস্থান ব্যবস্থা করার কাজটি কিন্তু ঐ পালিয়ে যাওয়া আওয়ামীলীগ নেতারা করেছিল।

ঐ সময় আপনারা উদ্ভুদ্ধ হতেন কিন্তু সেই “জয় বাংলা” স্লেগানে, পরবর্তীতে আপনারা তা বানান “বাংলাদেশ জিন্দাবাদ”। “মহান দেশের মহান নেতা, শেখ মুজিব শেখ মুজিব” এই স্লোগানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনি ও জিয়াউর রহমান কতবার বলেছিলেন, সেটা কি আপনার মনে আছে?

আপনার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধার নিকট থেকে এটা প্রত্যাশা করা যায় না। আজ বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ শেষ করছি।