ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
Pegion of Peace 2

আপনারা এই যে একজন আরেকজনের দিকে ধেয়ে আসছেন, তা আসুন – যদি এর বাইরে আপনাদের কাছে সত্যিই অন্য আর কোন অপশন থেকে না থাকে ! কিন্ত দয়া করে আমাদের এসবের বাইরে রাখুন । আপনাদের তো খাবার ভাবনা নাই, মাস শেষে ঘর ভাড়া দেয়ার ভাবনা নাই। এসব নিয়ে আমাদের সাধারণ মানুষদের অনেক-অনেক ভাবনা আছে। কিভাবে সন্তানের মুখের অন্ন যোগাব, যে ঘরটি তাদের মাথা গোজার ঠাঁই, মাসশেষে কিভাবে সেটির ভাড়া  যোগাব। জীবনধারণের জন্য এরকম আরো অনেক কিছু নিয়ে আমাদের গভীর ভাবনায় ডুবে থাকতে হয়। জীবনযাপনের একেবারেই মৌলিক এ প্রয়োজনগুলো মেটাতে আমাদের এ খেটে খাওয়া মানুষগুলোর ঘর থেকে বার হতে হয়, কাজে যেতে হয়। আমরা কাজে যাই কি করে? আমাদের অবরোধ করা হচ্ছে, হরতাল দেয়া হচ্ছে কিংবা অন্য কোনভাবে রাস্তা থেকে গাড়ি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ঘরের বার হলে বেয়াদবির শাস্তি স্বরূপ  আমাদের লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা আর পাথর ছোড়া হচ্ছে। আমরা পরিবারের মানুষরা একসাথে রাস্তায় বার হলে, প্রিয় কোন একজনকে রাস্তায় হারাচ্ছি। পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে কিংবা পেট্রোল বোমায় পুড়ে পরিবারের প্রিয় মানুষটিকে রাস্তায় মরে যেতে দেখছি। প্রিয় সে মানুষটিকে হাসপাতালের মর্গে ফেলে রেখে আসতে হচ্ছে। পরিবারের মানুষরা সবাই একসাথে ঘরের বার হয়ে, নিরাপদে আবার একসাথে ঘরে ফিরে আসার অধিকার হারাচ্ছি। আপনারা প্রবলবেগে একজন আরেকজনের দিকে ধেয়ে আসছেন, কিন্ত রাষ্ট্রের দেয়া নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় আপনারা বরাবর নিরাপদেই থাকছেন। অথচ রাষ্ট্রের মালিক বলা হচ্ছে-  যে জনগণকে, আমরা সে জনগণ আপনাদের এ বাক্তিগত রক্তাক্ত যুদ্ধের নির্মম শিকার হচ্ছি। আপনাদের এ লড়াই ক্ষমতা দখলের, সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নয়। আপনাদের বাক্তিগত এ দ্বন্দ্বে আরো কত মানুষকে মরতে হবে, স্বজন হারাতে হবে?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীদ্বয় বিনিতভাবে বলি, আপনারা একজন আরেকজনকে একেবারেই নিশ্চিহ্ন করে ফেলবেন এরকমই যদি মরণপণ করে ফেলেন তবে আপনারা Pitched Battle করুন। রাষ্ট্রের কোন একটি স্থান নির্ধারণ করুন, পূর্ব ঘোষণা দিয়ে সে স্থান থেকে জনগণকে অন্যত্র সরিয়ে নিন, তারপর আপনারা আপনাদের লোকজনদের সেখানে নিয়ে গিয়ে পরস্পরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হোন। আপনাদের বাক্তিগত অভীষ্ট হাসিলের জন্য গোটা রাষ্ট্রটাকে আপনারা কুরুক্ষেত্র বানাবেন না দয়া করে। গোটা রাষ্ট্রটাকে আপনাদের যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে আমাদের বেঘোরে আর মারবেন না দয়া করে।

আপনারা আমাদের নেতা। আমরা আপনাদের ভালবাসি, আপনারাও আমাদের ভালবাসুন। আর সেজন্য আপনারা একজন আরেকজনের উপর থেকে প্রতিহিংসা প্রত্যাহার করে নিন্। আপনাদের প্রতিহিংসার ভয়াবহ এক পরিণতিতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আপনাদের একজন তো প্রায় নিশ্চিহ্ন-ই হয়ে গিয়েছিলেন। অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর হাত দিয়ে এদেশের জন্য মহান কিছু করাবেন বলেই হয়তো মহামহিম স্রষ্টা সেদিন তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। আপনারা একজন আরেকজনকে বরণ করে নিন্। একসাথে কাজ করুন। আমাদের ভাগ্য বদলে দিন। আমরা আছি আপনাদের সাথে।

Dear Mothers please be our Savior or please leave us alone……! May Allah bless this beloved country !

 

 

 

বিঃ দ্রঃ শান্তির কবুতরের ছবিটি  www.shutterstock.com থেকে নেয়া।