ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

১৩/০১/২০১৫, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন, আজকের বাংলাদেশ, রাত ১১-২০মিনিট।

কথা বলছিলেন এক ভদ্রলোক(?), নাম তার নাঈমুল ইসলাম খান। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে তিনি বললেন- “৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়া কক্ষনোই অবরোধের ডাক দিতেন না, যদি-না মিডিয়া তাকে বাধ্য করত।” কথাটা শুনে মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিবশ বোধ করলাম, গা গুলিয়ে উথল, বমি-বমি বোধ করলাম। হতবাক হয়ে টিভির দিকে চেয়ে রইলাম, লোকটা বলছে কি? তবে কি সেদিন সব মিডিয়া এক হয়ে পূর্বসিদ্ধান্ত নিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে গিয়েছিল অনিচ্ছুক খালেদা জিয়াকে অবরোধ ডাকতে বাধ্য করতে? নানানভাবে, নানান কারণে যে মিডিয়ার কাছে আমরা আশ্রয়ের জন্য ছুটে যাই, সে মিডিয়া কি সেদিন খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশে বিরামহীন হত্যাযজ্ঞের ঘোষণা দিতে বাধ্য করেছিল? বাংলাদেশের মিডিয়া কি তবে এখন সরকার পতনের আন্দোলনে খালেদার জিয়ার সাথে এক হয়ে কাজ করছে?

না-কি বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি লোকটার গভীর প্রীতির কারণে বাংলাদেশে বর্তমানে চলমান ‘নির্মম হত্যা যজ্ঞের’ দায় থেকে খালেদা জিয়াকে বাঁচানোর জন্য এমন বক্তব্য দিয়েছেন।

মত প্রকাশের বলগাহীন স্বাধীনতার ফায়দা লুটে এ নাঈমুল ইসলাম খানরা এ জাতির ঘাড়ে তাদের বিষাক্ত নিঃশ্বাস ফেলে চলেছেন।এদের হৃৎপিণ্ড কি প্লাস্টিকের তৈরি? ন্যূনতম বিবেক, মানবিক মূল্যবোধও কি নেই এদের? ক্ষমতা দখলের জন্য আন্দোলনের নামে দেশে আজ নির্মমভাবে মানুষ পোড়ানো হচ্ছে, ছোট্টও নিষ্পাপ শিশুর গায়েও পেট্রোল বোমা মেরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে, পুড়িয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। অথচ সাংবাদিকতার নামে, Paranoid Killer এসব রাজনীতিবিদদের পক্ষে তারা কথা বলছেন, এ বর্বর হত্যাযজ্ঞকে জায়েজ করার কথা বলছেন।

এবং দিব্যি তারা এসব করে চলেছেন, তাদের থামানোর কেউ নাই। হে আল্লাহ্‌ চিৎকার করে তোমার কাছে ফরিয়াদ জানাচ্ছি, তুমি আমাদের রক্ষা করার জন্য কাউকে পাঠাও। মানুষ পোড়ানোর এ গণতন্ত্র আমরা চাই না, মত প্রকাশের এ কুৎসিত স্বাধীনতা আমরা চাই না। হে আল্লাহ্‌, আমরা অসহায়, তুমি ওদের থামাও, আমাদের বাঁচাও !