ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

তারেক লক্ষ্মী-সোনা, মানিক আমার –  আমার ওপর রাগ করিস না। আমি তো কষে চেষ্টা চালাচ্ছি, পেট্রোল দিয়ে সমানে শিশু পোড়াচ্ছি, হাসিনাকে এবার বাপ ডেকে পালাতে হবে, অচিরেই আমরা মা-বেটা আবার সিংহাসনে বসব। আহ্ সিংহাসন ! কত দিন বসিনি ! কত দিন মজা লুটিনি ! আরে খোকা জানিস তুই, বাংলাদেশের মিডিয়া আমাদের জন্য কাজটা দারুণ সহজ করে দিচ্ছে। এই যে আমরা একের পর এক শিশুর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারছি,  তার বিপক্ষে কেউ কিছু বললে, মিডিয়া তাদের দিকে তেড়ে আসে। চিল্লাচিল্লি করতে থাকে, আমদেরকে সরকার কেন গাজীপুরে সমাবেশ করতে দিল না, এটা করতে দিল না, ওটা করতে দিল না……মিডিয়া আমাদের পক্ষে এভাবে অবস্থান নিয়ে আমাদের শিশু পোড়ানোর বিষয়টিকে জায়েজ করে দিচ্ছে। সিংহাসনে বসার পর মিডিয়ার এ লোকগুলোকে একটু সুযোগ-সুবিধা দিয়ে দিস, ক্ষমতা দখলের জন্য আমাদের এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ওরা আমাদের দারুণ support দিচ্ছে। আমি মুখ দিয়ে অবরোধ-হরতাল শব্দগুলো একবার শুধু উচ্চারণ করার সাথে সাথে মিডিয়া কোমড় বেঁধে নেমে পরে সেটা সফল করার জন্য। কিং সাইজের অক্ষর দিয়ে চিৎকার করতে থাকে অবরোধ-হরতাল, অবরোধ-হরতাল……। এই কাজে আমাকে সবচেয়ে বেশি সার্ভিস দেয় Independent Television, লাল রঙের বিশাল সাইজের ভীতিকর animated   অক্ষর দিয়ে অবরোধ-হরতাল, অবরোধ-হরতাল শুরু করে দেয়, আর থামে না। কখনো-কখনো মনে হয় আমি মুখ দিয়ে বলার আগেই এ টেলিভিশনটি আমার মনের কথা বুঝে ফেলে এবং আগেভাগেই অবরোধ-হরতাল, অবরোধ-হরতাল…শুরু করে দেয়। আমি ঘরে শুয়ে থাকি, সাজগোজ করি, সিনেমা দেখি আর মজা লই। আমার মতো আমার লোকজনরাও ঘরে শুয়ে থাকে। আমি শুধু ঘরে শুয়ে থেকে ফোনে খোঁজখবর নিই, পেট্রোল বোমা ঠিকমতো production হচ্ছে কি-না, সঠিক টাইমে তা ভাড়াটে লোকজনদের হাতে পৌঁছছে কি-না, শিশুদের তাক করে সেগুলো ছুড়ে মারা হচ্ছে কি-না, শিশুগুলো ঠিকঠাক মতো পুড়ছে কি-না।