ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

 

পুত্রের মরদেহের পাশে এক মায়ের আহাজারির genuineness নিয়ে প্রশ্ন তোলা পাশবিক ধৃষ্টতা।   কিনতু পুত্র কোকোর মরদেহের পাশে অশ্রুবিসর্জনের এক ফাঁকে সত্যিই তিনি ক্যামেরার দিকে তাকিয়েছিলেন। কেন ? ক্যামেরা তার কান্নার দৃশ্যটি ধারণ করছে কি-না এবং সে দৃশ্য বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছছে কি-না, এরকম কোন ভাবনা কি চলছিল তার মধ্যে ?

এমন একটি বিয়োগান্ত জীবননাট্যের অতি শোকাবহ একটি দৃশ্যের সততা সম্পর্কে নানান কারণে কারো মনে যদি প্রশ্ন জাগে দোষ কি বলুন ? স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করা পুত্রের কফিনের পাশে যে মা- টি কাঁদছিলেন এবং যখন তিনি কাঁদছিলেন ঠিক তখনই এ লাল-সবুজ ভূখণ্ডের অন্য দুটি জায়গায় ডুগরে কাঁদছিলেন আরো দুই মা, আব্দুর রশীদ এবং বকুল দেবনাথের মা। একেবারে genuine কান্না। কারণ সেখানে কোন ক্যামেরা ছিল না এবং ভোটারদের Emotional Blackmail করে ঐ দুই মায়ের বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের কোন বালাইও ছিল না—অতএব ঐ দুটি কান্নার দৃশ্য set up নয় একথা নিঃসন্দেহে বুকে হাত দিয়ে বলা যায়।এ আব্দুর রশীদ এবং বকুল দেবনাথ ট্রাকচালক ছিলেন। পণ্য বোঝাই ট্রাক নিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার পথে তারা পেট্রোল বোমার আগুনে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে অন্তহীন যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে আজ সকালে মৃত্যুবরণ করেন। বেগম খালেদা জিয়া নামের যে মা ক্যামেরার সামনে পুত্রশোক করছিলেন,  তারই সৌজন্যে  ঐ পেট্রোল বোমাগুলো ছোড়া হয় তাদের দিকে  । বেগম খালেদা জিয়া গত ২২ দিন ধরে দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানোর পাশাপাশি এমন কিছু কুৎসিত শঠতার আশ্রয় নিয়েছেন তাতে তার কোন কিছুই আর মানুষের কাছে সত্য বলে মনে হ্য় না, এমনকি ছেলের মরদেহের পাশে তার কান্নাও !

কি ছিলেন এই কোকো ? পিতার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রের অনুদানে চলা এ লোকটি রাষ্ট্রকে বিনিময়ে কিছু দিয়েছিলেন কি ? নানান অপরাধের জন্য আদালত কতৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন তিনি। আদালতের কাছে নিজেকে সোপর্দ না করে Fugitive হয়ে বিদেশে পালিয়ে ছিলেন। এমন ধাঁচের আরও কত কি। অথচ তার মৃত্যুর পর খালেদা এবং বিএনপি মহাকাণ্ডকীর্তন চালালো। আর  রাষ্ট্রও তাকে মহানায়কের মতো বিদায় নেয়ার সুযোগ করে দিল ! অথচ এ রাষ্ট্রের Total Mechanism-এর একেকটি vital part ছিলেন খালেদার হাতে নির্মমভাবে খুন হওয়া মানুষগুলো। কেউ ট্রাক চালাতেন – পণ্য পৌঁছে দিতেন দুরদুরান্তে, বাংলাদেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায়। কেউ কাজ করতেন বাংলাদেশের মেরুদণ্ড পোষাকশিল্পে। অথচ নির্মমতার শিকার হয়ে নীরবে চলে গেলেন তারা। সত্যিকার কোন শোক কি হচ্ছে তাদের জন্য ? না। নিজের ছেলের মৃত্যুর পর খালেদা মূর্ছা গেলেন, দুঃখ ভোলার জন্য চেতনানাশক ইনজেকশন নিলেন !!! অথচ ২২ দিনে হায়েনার হিংস্রতায় খুন করলেন ৪০ টি মায়ের সন্তানকে। নিজপুত্রশোকে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন !  সবাই হায় হায় করতে লাগলো, আর বলতে থাকলো চুপচুপ, আস্তে কথা বল- জননী শোকে মুহ্যমান ! আহারে মুহ্যমান জননী, রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের বিভীষিকাময় প্রক্রিয়ায় যে মানুষ পুড়িয়ে মারে অবলীলায় !