ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

এ জাতি আজ বড়ই বিপদাপন্ন, সে পুড়ছে, নির্মম-নৃশংসভাবে তাকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। একাত্তরে পরাজিত হওয়ার গভীর মর্মপীড়ার প্রশমন করার জন্য জামাত-শিবির আজ প্রতিশোধ নিতে চাইছে, বিকলাঙ্গ করে দিতে চাইছে এ জাতিকে। তীব্র এ প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার সহজ মাধ্যম হিসাবে তারা বিএনপি-কে বেছে নিয়েছে। আর জামাত-শিবিরের হরিহর আত্মা বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার উপায় হিসাবে তাদের সাদরে লুফে নিয়েছে। ‘প্রতিশোধ এবং ক্ষমতা দখল’ তাদে্র যুগপৎ যুগলবন্দি এ Deadly Mission-এর শিকার হয়ে এ জাতি, এ দেশ আজ দাউদাউ করে জ্বলছে। ঘুমন্ত নিষ্পাপ মানবশিশুর পোড়া চামড়ার গন্ধে দিনদিন ভারী হচ্ছে এ জনপদের বাতাস।

জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়াকে Fourth Estate বা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মিডিয়া কি ভুমিকা রাখে কিংবা রাখছে বর্তমানে? এদেশে আজ মানবতা চরমভাবে বিপন্ন। বিএনপি-জামাত-শিবির ত্রয়ীর তীব্র আক্রোশে বাংলাদেশের রাস্তায় রাস্তায় আজ জীবন্ত পুড়ে মরছে নিরীহ নারী-পুরুষ-শিশু। ঐ পাষণ্ডদের ছুড়ে মারা বিভীষিকাময় পেট্রোলের আগুনে একের পর এক প্রাণবন্ত মানুষগুলো পুড়ে কাল কয়লা হচ্ছে, কর্মক্ষম একেকটি মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করে কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে। নিজেদের জগতে হেসেখেলে বিচরণ করতে থাকা যে মানুষগুলো হঠাৎ করে এ ভয়াবহতার শিকার হয়ে জীবন থেকে ছিটকে পড়ছে, রাজনীতির সাথে তাদের কোনই সম্পর্ক নেই। বিএনপির ভোগের রাজনীতি কিংবা জামাত-শিবিরের প্রতিশোধ প্রক্রিয়ার সাথে এ মানুষগুলোর আদৌ কোন সম্পৃক্ততা নেই। একেবারে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। বিএনপি-জামাত-শিবির নিজেদের Agenda বাস্তবায়নের জন্য নিরীহ-নিরপরাধ এ মানুষগুলোকে নৃশংসভাবে বলি দিচ্ছে। সরকারের সাথে সরাসরি যুদ্ধে পেরে উঠবেনা জেনে এ নরপিশাচরা রাষ্ট্রের একেবারে নিরাপরাধ মানুষগুলোকে টার্গেট করেছে। প্রবৃত্তিগতভাবে রক্তলোলুপ এ চক্রটি লাশের পর লাশ ফেলে এ দেশের মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলে নিজেদের Agenda বাস্তবায়ন করতে চাইছে।

এ রাষ্ট্রের নিরীহ-নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে যখন চরম মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন হচ্ছে তখন এ রাষ্ট্রের মিডিয়া গণতন্ত্রী আচরণ করছে! দুই পক্ষের সাথে balance করে আপন পথে হাঁটছে! সত্য এবং মিথ্যা উভয়ের কাঁধে হাত রেখে পথ চলছে! অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনকারীদেরই favor করছে বাংলাদেশের এ মিডিয়া! কেন? মানবতাবিরোধী এ অপরাধীরা যদি সফল হয়ে যায়,  যদি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে ফেলে তখন যেন তাদের হাত থেকে জানটা বাঁচে, এ সমীকরণটা মাথায় রেখেই কি মিডিয়া এমন অস্বাভাবিক আচরণ করছে! নাকি বিএনপি-জামাত-শিবিরের কর্মকাণ্ডকে তারা মানবতাবিরোধী মনে করছে না? নাকি মীর কাশিম আলীদের বিশাল ধনরাশি কিনে নিয়েছে মিডিয়ার বিবেক? রাষ্ট্রকে আজ এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য।

বাংলাদেশ হাইকোর্ট সংবাদবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হরতাল অবরোধ আহ্বান বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তথ্যমন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেন গত ১৬.০২.১৫ তারিখ। হাইকোর্ট থেকে মিডিয়ার অভিভাবক মন্ত্রণালয়টির প্রতি এমন একটা নির্দেশ জারি হওয়ার পরেও মিডিয়া তারপর দিন আবার বিএনপির যুগ্মমহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদের কথিত লিখিত বিবৃতি প্রচার করে ৪৮ ঘণ্টার বায়বীয় হরতাল আহ্বান করেছে। কি আশ্চর্য মাননীয় হাইকোর্টও মিডিয়ার এ অস্বাভাবিক আচরণকে থামাতে পারছে না! কি চাইছে এ বেপরোয়া মিডিয়া? কে তাদের পিছন থেকে ইন্ধন দিচ্ছে এমন ‘Who Care’ টাইপের আচরণ করার জন্য। বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মীরা নিরাপদে ঘরে বসে আছে। আন্দোলনের জন্য মাঠে নামার এতটুকু ত্যাগও তারা স্বীকার করছে না। অথচ মিডিয়া দিনের পর দিন বিএনপি-জামাতের কথিত লিখিত বিবৃতি প্রচার করে তাদের বায়বীয় হরতাল আহ্বান করে চলেছে! দেশে হরতাল-অবরোধের নামে চলমান এ অরাজকতা ছড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব মিডিয়া নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে! আমি মিডিয়ার কাছে  বিনীতভাবে জানতে চাই এসব বিবৃতিগুলো  প্রচার করার আগে তারা দায়িত্বশীলতার সাথে আদৌ যাচাই-বাছাই করেন  কি-না?

বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর টকশোতে ইনিয়ে বিনিয়ে একটানা চলছে বিএনপি-জামাতের চলমান গণহত্যা জায়েজকরণ প্রক্রিয়া। দায়িত্ব নিয়ে কয়েকটি চ্যানেলের কয়েকজন সঞ্চালকের নাম উল্লেখ করছি। যেমন- হাসান আহমেদ চৌধুরি (Rtv), গোলাম মোর্তোজা (সম্পাদক সাপ্তাহিক), মোস্তফা ফিরোজ (বাংলাভিশন), নাঈমুল ইসলাম খান (সম্পাদক আমাদের অর্থনীতি), খালেদ মহিউদ্দিন (ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি)। দেশ জ্বলছে, মানুষ পুড়ছে। আর ওনারা সুবেশে, চকচকে চেহারা নিয়ে বেশ জম্পেশে জাঁকিয়ে বসেন টকশো চেম্বারে, সামনে চায়ের কাপ! পক্ষ-বিপক্ষ সামনে বসিয়ে তাদের খোঁচাতে থাকেন আর অধিকাংশ সময় ‘টকার’দের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে নিজেরা ‘গদ্যে-পদ্যে’ বিদ্যা জাহির করতে থাকেন। অধিকাংশ টকশোর ক্ষেত্রে এসব সঞ্চালকরা ‘পাণ্ডিত্যহীন পণ্ডিতির’ এক বিভ্রান্তিকর পসরা সাজিয়ে বসেন। এসব সঞ্চালকরা টকশোগুলোতে ‘টকার’দের রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে বাংলাদেশে চলমান সন্ত্রাস এবং পেট্রোলে বোমা ছুড়ে মানুষ পোড়ানোর বিষয়টাকে নানান কথার মারপ্যাঁচে জায়েজ করার সুযোগ করে দেন! মাত্রাজ্ঞানহীন, বিবেকবর্জিত এসব সঞ্চালকদের মধ্যে খালেদ মহিউদ্দিন (ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি) সবচেয়ে বেশি তৎপর বিএনপি-জামাতের প্রাণঘাতী এ সন্ত্রাসকে রাজনৈতিক আন্দোলনরূপে প্রতিষ্ঠা করার জন্য! এ লোকটিকে আমি স্পষ্ট সরাসরি বলতে চাই সঞ্চালকের চেয়ারে বসে আপনি যা করছেন তা বর্তমানে বিপন্ন এ রাষ্ট্রে্র বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ সংঘটনের শামিল। আপনি দয়া করে এবার থামেন! নইলে পুড়তে থাকা সাধারণ মানুষরা এক সময় ধৈর্য হারাবে। আর সাধারণ মানুষরা ধৈর্য হারালে কি ঘটে তার প্রমাণ ইতিহাসে অনেক আছে।

রাষ্ট্র, নাগরিক এবং মিডিয়া এই তিনের মিথস্ক্রিয়ার ক্ষেত্রে বক্তব্য হচ্ছে, রাষ্ট্র তার নাগরিকদের প্রতিপালন করবে আর রাষ্ট্রের সংকটের সময় নাগরিকরা রাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবে, ঐক্যবদ্ধভাবে সংকট মোকাবেলা করবে। এর ব্যত্যয় ঘটার কোন সুযোগ নেই। একইভাবে রাষ্ট্র মিডিয়াকে সহযোগিতা করে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে। বিনিময়ে রাষ্ট্রের সংকটের সময় মিডিয়া রাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবে। এটারও ব্যত্যয় ঘটার কোন সুযোগ নেই। নাগরিকদের জীবনমান উন্নত করার জন্য আজ রাষ্ট্রের তরফ থেকে চেষ্টার কমতি দেখি না। সাধারণ মানুষরাও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবনমান উন্নত করার কাজে ব্যাপৃত। ‘ভোটের অধিকার দাও’, ‘গণতন্ত্র দাও’  সাধারণ মানুষরা তো এমন চিল্লাচিল্লি করে না। তারা নিজেদের সামনে এগিয়ে নেয়ার কাজে ব্যস্ত। মিডিয়ার প্রতিও আজ রাষ্ট্র পূর্ণ নমনীয় ও সহযোগিতাপূর্ণ। তারপরও কেন মিডিয়া ও তথাকথিত কিছু বিশেষ নাগরিক এমন নেতিবাচক আচরণ করছে? কেন রাষ্ট্রেকে অসহযোগিতা করছে? নানানভাবে বিপন্ন করতে চাইছে? সেদিন একাত্তর টিভির একাত্তর জার্নাল অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের এক নাগরিককে রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইংগিত করে চরম ঔদ্ধত্যতার সাথে হাতের তর্জনী উঁচিয়ে বলতে শুনলাম “আমি আপনার পার্টি করি না, আপনার কথা কেন শুনব!” বর্তমানে চলমান সহিংসতার কারণে রাষ্ট্রে তৈরি হওয়া Panic Situation ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করার জন্য রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে রাষ্ট্রের সমস্ত নাগরিকদের প্রতি আহ্বানের জবাব মাহামুদুর রহমান মান্না নামে ঐ নাগরিক এভাবে দিলেন! আর মিডিয়া ঐ নাগরিককে মিডিয়ার কাঁদে চড়ে ওরকম ঔদ্ধত্য প্রকাশের সুযোগ করে দিল! Freedom of Expressionএর সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এভাবে বিষোদগার করা, Insurgency উস্কে দেয়া রাষ্ট্র আর কতদিন প্রশ্রয় দিবে? রাষ্ট্রের কঠোর হওয়ার সময় এসেছে!

মিডিয়া্র মানুষদের স্পষ্টভাবে বলতে চাই রাষ্ট্রের এ ঘোর সংকটের সময় আপনারা আর গণতন্ত্রী(!) হয়েন না! নিরপেক্ষতার পরাকাষ্ঠা দেখাতে গিয়ে ওদের দাওয়াত করে এনে আপনাদের টকশো চেম্বারে বসিয়ে হাতে চা-কফির মগ দিয়ে আদর-আপ্যায়ন করে দেশে Insurgency ছড়িয়ে দেয়ার সুযোগ করে দিয়েন না… দেশ আজ জলছে, নিরীহ মানুষ পুড়ে মরছে, দেশ আজ বিপন্ন!

Media, Enough is Enough!  প্লিজ এবার থামুন! দেশে আজ পক্ষ দুইটি, মানবতা আর মানবতাবিরোধী। মানবতাবিরোধীদের দ্বারা মানবতা আজ বিপন্ন। প্রশ্নবিদ্ধ নিরপেক্ষ আচরণের নামে দেশের বিপদজ্জনক পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করবেন না। মানবতার পক্ষে দাঁড়ান। দেশকে বাচান!