ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

সম্প্রতি ভারতের বেসরকারি টেলিভিশন এনডিটিভি সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নির্যাতন সচিত্র প্রতিবেদন প্রচার করেছে। দেশে-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও ওই প্রতিবেদন সম্পর্কে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ‘সীমান্তে যা কিছু ঘটছে তা নিয়ে রাষ্ট্র চিন্তিত নয়। সব কাজ ফেলে রেখে শুধু এদিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলেও সরকার মনে করে না।

‘সীমান্তে যা কিছু ঘটছে তার সঙ্গে বহু বিষয় জড়িত। এগুলো রাষ্ট্রীয় বিচারযোগ্য কোনো বিষয় নয়। দুই দেশের পক্ষ থেকেই চোরাকারবারি, মাদক পাচার ও গরু চুরি হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ঘটনাগুলো ঘটছে। এসব অতীতে ঘটেছে, এখনো ঘটছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে। এগুলো নিয়ে রাষ্ট্র খুব বেশি চিন্তিত নয়।’

চিন্তিত হবে কীভাবে! সীমান্তে তো তারা বিএসএফ-এর নির্যাতন, হত্যা, উলঙ্গ করার মত ঘটনার সম্মুখীন হন না। সীমান্তে তো তাদের আত্মীয়-স্বজন, পরিবারের কেউ হত্যা, নির্যাতনের শিকার হন না।

রাষ্ট্র কোন বিষয় নিয়ে চিন্তিত তাই তো আমি বুঝতে পারছি না।
শেয়ার বাজার নিয়ে রাষ্ট্র চিন্তিত নয়।
দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি নিয়ে রাষ্ট্র চিন্তিত নয়।
ঋণ সহায়তা ছাড় হচ্ছে না বলে রিজার্ভ ফল করছে, রাষ্ট্র চিন্তিত নয়।
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, রাষ্ট্র চিন্তিত নয়।
সীমান্তে কি ঘটছে, রাষ্ট্র চিন্তিত নয়।
কী নিয়ে চিন্তা করে রাষ্ট্র??

আপনি ঠিকই বলেছেন স্যার সব কাজ ফেলে রেখে শুধু এদিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন নেই
সব কাজ ফেলে রেখে শুধু শেয়ার বাজারের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন নেই
সব কাজ ফেলে রেখে শুধু ভাঙা রাস্তা আর অহরহ দূঘটনায় মানুষ মরার দিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন নেই
সব কাজ ফেলে রেখে শুধু ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কাজের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন নেই
সব কাজ ফেলে রেখে শুধু টিপাইমুখি বাঁধের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন নেই
আসুন আমরা বাকি কাজগুলো গুরুত্বসহকারে শেষ কর…!!!!

~~~…মাননীয় মন্ত্রী, আপনার মন্তব্য জনগণের প্রতি একটা চরমঅবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।
অথবা সমস্যা জর্জরিত এই দেশের বিশাল সমস্যার ভারে আপনি ক্লান্ত…
কিছুদিনের জন্য আপনি ছুটি নিন, বিশ্রাম করুন…~~~

ওপর দিকে আমাদের মাননীয়া স্বরাষ্ট্ মন্ত্রী সাহারা খাতুন কাল রাতের সকল নিউজের ভিডিও রেকর্ডে আছে, যেখানে উনি বলেছেন “আমাদের বিজিবি সদস্য লুৎফর রহমান চোরাকারবারী দ্বারা অপহৃত নয় বিএসএফ এর কাছে আশ্রয় নিয়েছে।” এখন আমাদের প্রশ্ন, সুস্থ-অক্ষত বিজিবি সদস্য আপনার ভাষ্য অনুযায়ী বিএসএফ কাছে আশ্রয় নিলে, কেন তাঁকে আজ গভীর রাত ৩ টায় সারা শরীর থেতলানো, সব দাঁত ভেঙে এবং মাথায় একাধিক সেলাই দেয়া অবস্থায় বিএসএফ ফেরত দিল?? কেন কাল সকালে তাঁকে নিয়ে যাবার পর সারাদিন ফেরত না দিয়ে রাতের অন্ধকারে ফেরত দেয়া হল?? আপনাকেই উত্তর দিতে হবে সাহারা খাতুন। কারন আপনি বলেছেন আমাদের বিজিবি সদস্য বিএসএফ এর আশ্রয়ে ছিল। নাহলে আনুষ্ঠানিক ভাবে সবাইকে বলতে হবে, ভারতীয় বাহিনী বিএসএফ আমাদের বিজিবি সদস্যকে ধরে নিয়ে অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছে।

এর পাশাপাশি আজ আবার একজন বাংলাদেশীকে হত্যা করলো বিএসএফ। বেনাপোলের ধান্যখোলা সীমান্তে রাশেদুল ইসলাম (২২) নামে এক বাংলাদেশী যুবককে শনিবার ভোরে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। নিহত রাশেদুল যশোরের শার্শা উপজেলার মাটিপুকুর গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে। ভোরের দিকে রাশেদুলসহ একদল বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী ভারত থেকে গরু নিয়ে বাংলাদেশে আসছিল। এসময় বিএসএফ গুলি চালালে রাশেদুল ঘটনাস্থলেই মারা যায়। তার লাশ এখনও বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ে আছে। [সূত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম]

পরিশেষে একটা কথা জানতে খুব ইচ্ছে করে সাহারা খাতুন ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এর কাছ থেকে সীমান্তে যা কিছু ঘটছে তা নিয়ে যদি রাষ্ট্র চিন্তিত না হয় তবে আমাদের সীমান্তে যারা অতন্দ্রীয় প্রহরীর দায়িত্বে যারা আছেন সীমান্ত নিয়ে শুধুই তারাই কি চিন্তিত থাকবেন।