ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

জনগণের মতামত ও সমর্থনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা গণতান্ত্রিক। কিন্তু প্রচলিত প্রতিনিধিত্বকারী গণতন্ত্রে জনগণের মতামতের পরিবর্তে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। তদুপরি যারা নির্বাচিত প্রতিনিধির বিরোধী প্রাথীকে ভোট দেয় এবং যারা ভোট দেয় না একত্রে তাদের ভোট সংখ্যা নির্বাচিত প্রতিনিধির ভোট সংখ্যার তুলনায় বেশী হয়। ফলে দেখা যায় নির্বাচিত প্রতিনিধি সর্বদা সংখ্যালঘু ( 40%–45%) ভোটে নির্বাচিত হয়। প্রতিনিধিত্ব মূলক গণতন্ত্রের এসব দুর্বলতা দূর করতে প্রয়োজন অংশ গ্রহণ মূলক গণতন্ত্র যা স্থানীয় সংসদ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করা যায়।

শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে ধ্বনিত হচ্ছে লাখ ও জনতার মতামত। যার সাথে সারা দেশে শহরে বন্দরে একই দাবী ধ্বনিত হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসী এখন জনতার দাবী। এ দাবী ধ্বনিত হচ্ছে রাস্তার আন্দোলনে, অবস্থান আন্দোলনে।

জনগণের এ দাবী বাস্তবায়নের উপায় রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে—1) প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করে; 2) আদালতের রায় ঘোষণা করে এবং 3) নির্বাহী প্রক্রিয়ায় রায় কার্যকর করে। এর ব্যতিক্রম গণ বিপ্লব , গণ একশন যা রাষ্ট্রহীনটা এবং সভ্য সমাজে স্বভাবিক অবস্থায় গ্রহণ যোগ্য নয় । এটা সমাজ পরিবর্তনের চরম অবস্থা যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় অভাবনীয়।

গণ আন্দোলনের প্রতি রাষ্ট্র বা সরকারের প্রতিক্রিয়া হতে পারে —1) দাবী না মেনে রাষ্ট্রের পেশী শক্তি (পুলিশ, আধাসামরিক, সামরিক বাহিনী) প্রয়োগ করে গণদাবীকে স্তব্দ করার চেষ্টা করা। 2) দাবী মানার মনভাব দেখিয়ে নানা অজুহাতে আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ ,বিভাজন ইত্যাদি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নস্যাত করা।

এ ছাড়া জনগণের মতামত রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বাস্তবায়নের কিছু মৌলিক দিক আছে যেমন—1) জনগণের মতামত প্রকাশের বহু পদ্ধতি —সভা সেমিনার প্রবন্ধ প্রকাশ; সংবাদ পত্র, টেলিভিশন , রেডিও ; ইন্টারনেট, ফেসবুক,টুইটার ইত্যাদি। এভাবে প্রকাশিত মতামত অধিকাংশ জনগণের মতামত কী না বা এর বিপরীত মতামত কী তা নিশ্চিত করা দরকার হয়। 2)জনগণের মতামত রাষ্ট্র ব্যবস্থায় গৃহীত হতে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় উত্থাপনের প্রয়োজন হয়। 3)প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ( আইন প্রণয়ন , বিচার, নির্বাহী কার্য) একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। যেমন 1952 সালে গৃহীত বাংলা ভাষা আজ ও বাস্তবায়িত হয় নাই।

অতএব নিয়মিতভাবে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় জনগণের মতামত দানের নির্দিষ্ট পদ্ধতি থাকা বাঞ্ছনীয়। যা স্থানীয় সংসদ ( ইউনিয়ন সংসদ /ওয়ার্ড সংসদ, উপজেলা সংসদ, জেলা সংসদ ) ব্যবস্থার মাধ্যমে করা যায়। স্থানীয় সংসদ গঠিত হবে–1) পণ্য উত্পাদন ও সেবাদানকারী সমিতি; 2) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ; 3)ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান; 4) সামাজিক, সংস্কৃতি, ক্রীড়া সংগঠন,5) ক্ষুদ্র জাতি 6) রাজনৈতিক দল সমূহ ইত্যাদি সমাজের সকল শ্রেণী পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে। এই ব্যবস্থার দ্বারা জনগণের মতামত জাতীয় সংসদে উত্থাপনের ব্যবস্থা হলে গণ আন্দোলন , শাহবাগ মঞ্চ , তাহরীর স্কয়ার প্রভৃতি একমাত্র চরম অবস্থা ছাড়া প্রযোজূন হবে না।