ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের বিরোধী শত্রুরা ছিল–
১। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনি।
২। পাকিস্তানিদের সহযোগী বাহিনি রাজাকার, আলবদর, আলশামস।
৩। পাকিস্তানিদের সহায়তাকারি রাজনৈতিক দল জামাত, মুসলিমলীগ, নেজামি ইসলামি।
৪। পাকিস্তানিদের অনুগত ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী সরকারি, বেসরকারি কর্মচারি, পুলিশ ও সামরিক বাহিনির সদস্য।
৫। পাকিস্তানপন্থী সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া সংগঠনের সদস্য; ব্যাংক, বীমা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক।
এদের সংখ্যা সর্বসাকুল্যে কয়েক লাখের বেশী ছিল না। তবে পাকিস্তান সরকারের সাহায্যপুষ্ট হওয়ায় তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান শক্তিশালী ছিল।
১৯৭১ সালে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পাক-বাহিনি সারেন্ডার করে। কিন্তু উপরোল্লিখিত ২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর শত্রুরা অপরাজিত থাকে এবং স্বাধীন বাংলাদেশে তারা বাংলাদেশ বিরোধী সকল কর্মকান্ড চালাতে থাকে।
১৬ই ডিসেম্বরের পর যে ভুলগুলো করা হয়—
১। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরগুলো দ্রুত গুটিয়ে ফেলা হয় এবং ২,৩,৪,৫ নম্বরের
শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা আন্দোলন জারি না রাখা।
২। মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিলাদের অস্ত্র জমা নেয়া হয়; কিন্তু রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনির অস্ত্র জমা নেয়া ও সারেন্ডার করার নির্দেশ না
দেয়া।
৩। পাকিস্তানিদের রেখে যাওয়া প্রশাসন অবিকলভাবে এবং বিশেষ কোন যাচাই বাছাই ছাড়া চালু করা। ফলে অনেক পাক-পন্থী সরকারের বেসমরিক
ও সামরিক গুরুত্বপূর্ণ যায়গায় কর্মরত থেকে যায়।
৪। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও কাঙ্খিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের
কাজে লাগাতে কোন রাজনৈতিক কর্মসুচী নেয়া হয় না। ফলে মুক্তিযুদ্ধের
মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য মিলিয়ে যায়।
এসব ভুলের সুযোগে পাকিস্তানপন্থীরা খোন্দকার মুশতাক ও জেনারেল জিয়াগং বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে এবং বাংলাদেশকে
ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়।
তরুণদের আহ্বানে সংগঠিত গণজাগরণে ২,৩ নম্বরের শত্রুদের থেকে মুক্ত
হওয়ার আশা করা গেলেও সকল শত্রুমুক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় সম্পূর্ণ
করতে সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন আবশ্যক।