ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা অঙ্গীকার গুলো বাস্তবায়ন করতে হলে প্রয়োজন কিছু ব্যবস্থার সুসমন্বয়।

১) আইন প্রণয়ন (উপযুক্ত সংসদীয়)ব্যবস্থা;
২) আইন প্রয়োগ (উপযুক্ত নির্বাহী)ব্যবস্থা;
৩) কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার প্রতিকার (উপযুক্ত বিচার)ব্যবস্থা; এবং,
৪) রাষ্ট্রের এই তিন বিভাগের কার্য পরিচালনার জন্য অর্থ ও জনবল সাপোর্ট(লজিস্টিক সাপোর্ট) দিতে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সংবিধিবদ্ধ কমিশন সমূহ( নির্বাচন কমিশন, কর্ম কমিশন, অর্থ কমিশন ইত্যাদি)।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত: এইটা আমাকে স্বীকার করতেই হয় যে, ১৯৭২ সালের সংবিধানে যে আইন সভা বা আইন প্রণয়ন ব্যবস্থা(পঞ্চম ভাগ), নির্বাহী বিভাগ বা আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা(চতুর্থ ভাগ)এবং বিচার বিভাগ বা আইন ভঙ্গের প্রতিকার(ষষ্ঠ ভাগ)ব্যবস্থার কাঠামো বর্ণিত হয়েছে; তা অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী প্রদত্ত অধিকার- জনগণের সার্বভৌমত্ব- প্রতিষ্ঠার উপযোগী নয় এবং একইভাবে সংবিধানে বিধিবদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য কার্যকরও নয়। ব্যাপারটা এই রকম যে, আমি আপনাকে ধান কাটার অধিকার দিলাম কিন্তু কাস্তে ব্যবহার করার অধিকার/অনুমতি দিলাম না। । কিংবা বলতে পারেন, সরকার আপনাকে ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাধীনতা দিয়েছে কিন্তু কম্পিউটার ব্যবহারের স্বাধীনতা দেয়নি (ফলে, আপনি কার্যত অধিকার আদায়ে অক্ষম ও পরাধীন হয়ে রইলেন)।

১৯৭১ সালে যে সকল রাজনৈতিক দল, যেমন- মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামি, নেজামে ইসলামি ইত্যাদি ও তাদের অনুসারীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন; তারা স্বাভাবিকভাবেই ১৯৭২ এর সংবিধান বিরোধী এবং বিশেষ করে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী। একারণে ১৯৭৫ সালে জঘন্যতম হত্যাকান্ডের মাধ্যমে খোন্দকার মুশতাক ও জেনারেল জিয়া গং রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারাগুলো বাদ দেন বা পরিবর্তন করেন। (এইখানে মনে রাখতে হবে, জিয়া মানসিক ভাবে পাকিস্তানপন্থী ছিলেন নাকি রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলে রাখতে বা লীগের দুর্বিনীত দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ ও চ্যালাচামুন্ডাদের ঠেকাতে শত্রুর সাথে হাত মিলিয়েছিলেন- এই কুতর্কে যাওয়া ঠিক হবে না। এইখানে আমি কোন কারণ খুঁজবো না, শুধু সংবিধানের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে সেটাকেই প্রমাণ বা ঘটনা হিসেবে নেব, এবং তা থেকে মোটিভের ব্যাপারে অনুসিদ্ধান্ত টানবো) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধীরা রাষ্ট্রের চরিত্র বদল করে বাংলাদেশকে রাজাকারী চেতনা (অগণতান্ত্রিক,সাম্প্রদায়িক,অর্থনৈতিক বৈষম্য, ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক,সন্ত্রাসী রাষ্ট্র)বিশিষ্ট রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেষ্টা করেন। অমানবিক ও জঘন্য রাজাকারী চেতনা অনুসরণ করে ধর্ম অপব্যবহারকারী রাজনৈতিক দলসমূহ ১৯৭২ সালের সংবিধান লঙ্ঘন এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টায় এখনো রত আছেন। কিন্তু বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের বলিদানের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশে তাদের কোন রাজনৈতিক অধিকার থাকা সংবিধান বহি:র্ভূত ও অবৈধ।

অন্যদিকে যে সকল রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি (তথাকথিত)এবং ইতিহাস ও নির্বাচনী ইস্তেহার অনুযায়ী ১৯৭২ সালের সংবিধানের স্বপক্ষ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী; দেখা যায় তারা ক্ষমতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে সংবিধানের প্রস্তাবনা,১ম, ২য় ও তয় ভাগে প্রদত্ত বিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করেন না। এমনকি ১৯৭২ সালের সংবিধানের আইন,নির্বাহী ও বিচার বিভাগের বিধি সমূহ এবং তদানুসারে গঠিত রাষ্ট্র কাঠামো যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের পক্ষে যথেষ্ট নয় সে সম্পর্কেও তাদের কোন উপলব্ধি আছে বলে মনে হয় না। তারা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে পারলে বলেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করার জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংস্কারের কার্যক্রম গ্রহন করেন না। তারা প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার মাধ্যমে সোসিও-পলিটিক্যাল ও সোসিও-ইকোনমিক ক্ষমতা অপব্যবহার করে নিজেদের ধনসম্পদ এর পাহাড় গঠনে লিপ্ত হন।

জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রের বিভাগ গুলোতে ক্ষমতার বিভাজন নীতি অনুসারে আধুনিক রাষ্ট্রের বিভাগ হওয়া উচিৎ ৪টি (৩টি নয়)। যেমন — আইন প্রণয়ন (সংসদ); আইন প্রয়োগ (নির্বাহী); আইন ভঙ্গের প্রতিকার (বিচার) এবং রাষ্ট্রের উক্ত তিনটা বিভাগ ও সার্বিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য জনবল ও অর্থসম্পদ যোগান দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক বিভাগ (নির্বাচন কমিশন, সরকারী কর্মকমিশন, অর্থ ও পরিকল্পনা কমিশন ইত্যাদি)। নিচে এদের বর্ণনা দেওয়া হলোঃ

আইন প্রণয়ন (সংসদ ব্যস্থা)

আইন রাষ্ট্রের মৌলিক স্তম্ভ। আইন প্রণয়ন,প্রয়োগ,আইন ভঙ্গের প্রতিকার এবং লজিস্টিক সাপোর্ট ব্যবস্থার উপর রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো গড়ে ওঠে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৫ম ভাগে অনুচ্ছেদ ৬৫ থেকে ৭৯ তে আইন প্রণয়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন পদ্ধতির বিধান দেয়া হয়েছে এবং অনুচ্ছেদ ৮০ থেকে ৯২-এ সরকারী ব্যয়, করারোপ ও অর্থ বিষয়ে বিধান দেয়া হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৬৫ (সংসদ প্রতিষ্ঠা) —

(১)জাতীয় সংসদ নামে বাংলাদেশের একটা সংসদ থাকিবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হইবে”।….
(২) একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাসমূহ হইতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুযায়ী নির্বাচিত তিনশত সদস্য লইয়া….সংসদ গঠিত হইবে।
(৪) রাজধানীতে সংসদের আসন থাকিবে

খুব ভালো করে চিন্তা করে দেখুন-এই বিধান অনুসারে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা মাত্র ৩০০ সংসদ প্রতিনিধির কাছে কুক্ষিগত হয়ে গেছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা নীতির ফলে শুধু সরকার গঠনকারী দলের প্রতিনিধিদের কাছে সে ক্ষমতা বন্দী থাকে। অথচ প্রকৃত গণতন্ত্র বলে যে- আইন প্রণয়নে দলমত,শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে সকল জনগণের অংশগ্রহনের সুযোগ থাকা উচিৎ ।

অনুচ্ছেদ ৭০ (রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া)

কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন; তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে

৭০ অনুচ্ছেদের বিধান হাতে গোনা নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরও আইন প্রণয়নে স্বাধীন মতামত দানের ক্ষমতা সম্পূর্ণ হরণ করেছে। দল হতে পদত্যাগ করলে আসন শূন্য ঘোষণা যুক্তিযুক্ত হতে পারে; কিন্তু দলের বিপক্ষে ভোট দিলে আসন শূন্য হবে মেনে নিলে সংসদ সদস্যের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা একেবারেই থাকে না। তারা হয়ে পড়েন এক একজন ঠুঁটো জগন্নাথ, বাস্তবিক হাতের পুতুল এক একটা “ইয়েস মিনিস্টার”। এই বিধি দলনেতাকে স্বৈরাচারী হওয়ার সুযোগ করে দেয় এবং রাজনৈতিক দলের নিজেদের মাঝেই আর গণতন্ত্র বলে কিছু থাকে না। দলীয় নেতা (একজন মাত্র ব্যক্তি) যা বলবেন-মূলত তাকেই মেনে নিতে হবে। তার মানে দেশ চলবে মাত্র একজনের কথায়। ভিন্ন মত প্রকাশের পথ রুদ্ধ ও দলীয় নেতার ইচ্ছাধীন।

অনুচ্ছেদ ৭২(৩) অনুযায়ী –

রাষ্ট্রপতি পূর্বে ভাঙ্গিয়া না দিয়া থাকিলে প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে পাচ বছর অতিবাহিত হইলে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবে। (৫) এই অনুচ্ছেদের(১) দফার বিধানাবলী সাপেক্ষে কার্যপ্রণালী বিধি দ্বারা বা অন্যভাবে সংসদ যেরূপ নির্ধারণ করিবে, সংসদের বৈঠক সেইরূপ সময়ে ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে

অনুচ্ছেদ ৭৪(১)

কোন সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মধ্য হইতে সংসদ একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করিবে

অনুচ্ছেদ ৭৬(সংসদে স্থায়ী কমিটি সমূহ) “

(১) সংসদের প্রত্যেক অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মধ্য হইতে সদস্য লইয়া সংসদ নিম্নলিখিত স্থায়ী কমিটি সমূহ নিয়োগ করিবে: (ক) সরকারী হিসাব কমিটি; (খ) বিশেষ অধিকার কমিটি; (গ) সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে নির্দিষ্ট অন্যান্য স্থায়ী কমিটি। (২)… নিযুক্ত কমিটি এই সংবিধান ও অন্যকোনো আইন সাপেক্ষে- (ক) খসড়া বিল ও অন্যান্য আইনগত প্রস্তাব পরীক্ষা করিতে পারিবে; (খ) আইনের বলবৎ করণ পর্যালোচনা এবং অনুরূপ বলবৎ করণের জন্য ব্যবস্থাদি গ্রহনের প্রস্তাব করিতে পারিবে;(গ) জনগুরুত্বসম্পন্ন বলিয়া সংসদ কোন বিষয় সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করিলে সেই বিষয়ে কোন মন্ত্রণালয়ের কার্য বা প্রশাসন সম্বন্ধে অনুসন্ধান বা তদন্ত করিতে পারিবে এবং কোন মন্ত্রণালয়ের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি সংগ্রহের এবং প্রশ্নাদি মৌখিক বা লিখিত উত্তর লাভের ব্যবস্থাদি করিতে পারিবে; (ঘ) সংসদ কর্তৃক অর্পিত অন্য যে কোন দায়িত্ব পালন করিতে পারিবে।(৩) সংসদ আইনের দ্বারা এই অনুচ্ছেদের অধীন নিযুক্ত কমিটি সমূহকে-(ক) সাক্ষীদের হাজিরা বলবৎ করিবার এবং শপথ, ঘোষণা বা অন্য কোন উপায়ের অধীন করিয়া তাহাদের সাক্ষ্যগ্রহণের,(খ) দলিলপত্র দাখিল করিতে বাধ্য করিবার ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে

অনুচ্ছেদ ৭৭ (ন্যায়পাল)

(১) সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করিতে পারিবে। (২) সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালকে কোন মন্ত্রণালয়, সরকারী কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের যে কোন কার্য সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেরূপ ক্ষমতা কিংবা যেরূপ দায়িত্ব প্রদান করিবে, ন্যায়পাল সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবে

ন্যায়পালের পদ সৃষ্টি না করে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দ্বারা উক্ত দায়িত্ব পালন যুক্তিযুক্ত। কারণ ন্যায়পালের ন্যায়পরায়ণতা ব্যক্তি নির্ভর এবং তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায় না। অন্তত তুলনামূলকভাবে, সংসদ সদস্যদের জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

অনুচ্ছেদ ৮০ (আইন প্রণয়ন পদ্ধতি)

(১) আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হইবে। (২) সংসদ কর্তৃক কোন বিল গৃহীত হইলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে। (৩) রাষ্ট্রপতির নিকট কোন বিল পেশ করিবার পর ১৫ দিনের মধ্যে তিনি তাহাতে সম্মতিদান করিবেন কিংবা অর্থবিল ব্যতীত অন্যকোনো বিলের ক্ষেত্রে বিলটি বা তাহার কোন বিশেষ বিধান পুনর্বিবেচনার কিংবা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্দেশিত কোন সংশোধনী বিবেচনার অনুরোধ জ্ঞাপন করিয়া একটি বার্তাসহ তিনি বিলটি সংসদে ফেরত দিতে পারিবেন; এবং রাষ্ট্রপতি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে। (৪) রাষ্ট্রপতি যদি বিলটি অনুরূপভাবে সংসদে ফেরত পাঠান তাহা হইলে সংসদ রাষ্ট্রপতির বার্তাসহ তাহা পুনর্বিবেচনা করিবে; এবং সংশোধনীসহ বা সংশোধনী ব্যতিরেকে সংসদ পুনরায় বিলটি গ্রহন করিলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে এবং অনুরূপ উপস্থাপনের সাতদিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন; এবং রাষ্ট্রপতি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে। (৫) সংসদ কর্তৃক গৃহীত বিলটিতে রাষ্ট্রপতি সম্মতিদান করিলে বা তিনি সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইলে তাহা আইনে পরিণত বলিয়া অভিহিত হইবে

অনুচ্ছেদ ৮১-অর্থবিলের সংঙ্গা; অনুচ্ছেদ ৮২

সরকারী অর্থব্যয়ের প্রশ্ন জড়িত রহিয়াছে, এমন কোন অর্থবিল বা বিল রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ব্যতীত সংসদে উত্থাপন করা যাইবে না

অনুচ্ছেদ ৮৩ ( সংসদের আইন ব্যতীত করারোপে বাধা) “

সংসদের কোন আইন দ্বারা বা কর্তৃত্ব ব্যতীত কোন কর আরোপ বা সংগ্রহ করা যাইবে না

এখন কথা হলো- (মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে) সমাজ ও রাষ্ট্রের সৃষ্টিকর্তা জনগণ; রাষ্ট্রের গঠন, সংরক্ষণ ও পরিবর্তনের চূড়ান্ত ক্ষমতা হওয়ার কথা জনগণের। এজন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জনগণ সার্বভৌম যা অনুচ্ছেদ ৭-এ যথার্থভাবে বিধায়িত হয়েছে। জনগণের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তের অভিব্যক্তিরূপে সংবিধান সর্বোচ্চ আইন এবং সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্য হলে কোন আইন বাতিল হবে বলে ঘোষিত হয়েছে। জনগণের পক্ষে সার্বভৌম সংবিধানের অধীন সংসদ, নির্বাহী, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সকল সংস্থা পরিচালিত হবে। অর্থাৎ সংসদ, নির্বাহী, বিচারসহ রাষ্ট্রের সকল বিভাগ ও সংস্থা জনগণ প্রদত্ত সংবিধান তথা জনগণের সার্বভৌমত্বের অধীন। দ্বিতীয় ভাগ অনুচ্ছেদ ৮(২) “

এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ পরিচালনার মূলসূত্র হইবে, আইন প্রণয়নকালে রাষ্ট্র তাহা প্রয়োগ করিবে, এই সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তাহা নির্দেশক হইবে…….

অর্থাৎ জনগণের সার্বভৌমত্বে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাসহ দ্বিতীয় ভাগে বর্ণিত বিধিসমূহ) অনুসারে সংসদে আইন প্রণীত হবে। রাষ্ট্র নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার ব্যবহার যাতে জনগণের অভিপ্রায় রূপে সম্পাদিত হয় তার জন্য আইন প্রণয়ন করার অধিকার জনগণের এবং তা একমাত্র জনগণের কর্তৃত্বে হওয়াই সাংবিধানিক ভাবে বৈধ।

কিন্তু প্রচলিত সংসদ ব্যবস্থায় আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদকে সার্বভৌমত্ব দেয়া হয়েছে। যেখানে জনগণের মতামত দেয়া বা অংশগ্রহনের কোন সুযোগই কার্যত নেই। এই ব্যবস্থায় আইন প্রণয়নের সার্বভৌমত্ব ১৫ কোটি নাগরিক তথা প্রায় ৬ কোটি ভোটারের কাছ থেকে জনগণের মাত্র ৩০০ প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তরিত হয়ে গেছে যা সম্পূর্ণ ভাবে[sb] অগণতান্ত্রিক[/sb]। এখানে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি (সংসদ সদস্য) মালিকের (জনগণের) ক্ষমতা দখল করে খোদ মালিকের প্রভু বনে যায়। কিন্তু “প্রতিনিধি” কথাটার অর্থ হলো একজন সাংসদ মালিকের (জনগণ) নির্দেশ অনুসারে মালিকের (জনগণ) মতামতকে উপস্থাপন করবে- যা বর্তমান বিধি ও প্রয়োগ অনুযায়ী সংসদে আইন প্রণয়ন পদ্ধতিতে (অনুচ্ছেদ ৮০) এবং অর্থবিল উত্থাপনে একেবারেই প্রয়োগ হয় না। বরং সংসদ সদস্যদের মতামতই জনগণের মতামত হিসেবে গৃহীত হয় যা অগণতান্ত্রিক এবং অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। সুতরাং আইন প্রণয়নে অর্থবিল সহ সকল বিলে জনগণের বৃহত্তর অংশের মতামত দানের জন্য স্থানীয় সংসদসমূহের পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যাতে করে – আগে সাধারণ মানুষ স্থানীয় পর্যায়ে আইন ও বিল উত্থাপন করবে এবং পরে সেই আইন ও বিল ধাপে ধাপে আলোচনা ও সংশোধনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে উঠে , সংসদে পাশ হবে।

অনুচ্ছেদ ৬৫তে বলা হয়েছে “

বাংলাদেশে একটা সংসদ থাকিবে…. প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত থাকিবে।.. রাজধানীতে সংসদের আসন থাকিবে

এই বিধানটি মূলত আইন প্রণয়ন ব্যবস্থাকে রাজধানীতে (সংসদে) কেন্দ্রীভূত করে ফেলেছে; এবং আইন প্রণয়নের ক্ষমতা গুটিকয়েক লোকের হাতে (সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া দলের কাছে) কুক্ষিগত করে রেখেছে। আইন প্রণয়ন পদ্ধতি অনুচ্ছেদ: ৮০তে বিল প্রস্তাবে জনগণের মতামত দেয়া বা অংশগ্রহনের কোন ব্যবস্থাই নেই। বিল উত্থাপিত হয় আমলাতান্ত্রিক ভাবে যা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আইন প্রণয়ন বাস্তবায়ন করে না। আইন প্রণয়ন ব্যবস্থার গণতন্ত্রায়ন করতে হলে আইন প্রণয়ন পদ্ধতির বিকেন্দ্রায়ন (Decentralization)করতে হবে। অর্থাৎ স্থানীয় সংসদ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ ব্যবস্থার ক্ষমতার বিকেন্দ্রায়ন করতে হবে। জনগণের প্রতিনিধিদের দ্বারা ইউনিয়ন সংসদ, উপজেলা সংসদ, পৌর সংসদ, জেলা সংসদ এবং সিটি বা নগর সংসদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা গুটিকয়েক সংসদ সদস্যদের (তথা সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রীর) নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে ব্যাপক জনগণের প্রতিনিধিত্ব স্থাপন করতে হবে। আইনের খসড়া প্রস্তাব স্থানীয় সংসদের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে হবে এবং মন্ত্রণালয় বা কেবিনেটের মাধ্যমে করা আইনের প্রস্তাবকে স্থানীয় সংসদের মাধ্যমে জনগণের মতামত নিতে হবে।

এখন বলতে পারেন, এই ধরনের ব্যবস্থার সাফল্যের উদাহরণ কোথায়? সুইডেন একটি ভালো উদাহরণ যেইখানে কাউন্টি নামক স্থানীয় সরকার অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বলাই বাহুল্য সুইডেনে সাধারণ জনগণের স্বার্থবিরোধী কোন আইন বা প্রজেক্ট নেওয়া প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। জনগণের মত নিয়ে কাজ করার “আদর্শটা” সেখানে কাজীর খাতায় (সংবিধানে) রেখে দিয়েই খালাস হয়নি, বরং এর প্রয়োগকে আইন কানুন ও চর্চা দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক (Institutionalize) করা হয়েছে।

আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে প্রচলিত সংসদ পদ্ধতিতে অধিকাংশ জনগণের মতামত প্রতিফলিত করা যায় না । ঠিক এই কারণেই- বিকল্প হিসেবে সার্বভৌমত্বের বহুত্ববাদী ধারণায় রাষ্ট্র এর ভিতরে কিন্তু (সংসদের বাইরে) বিভিন্ন বহুদলীয় ব্যবস্থা, সংঘ, পেশাজীবি সংগঠন, গণ-উদ্যোগ, জনমত যাচাই, লবিং গ্রুপ, সিভিল সোসাইটি (অধুনা কুখ্যাত সুশীল সমাজ), বুদ্ধিজীবী সংস্থা, ট্রেড ইউনিয়ন, কৃষক- শ্রমিক সংগঠন, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ইত্যাদির মাধ্যমে মতামত প্রকাশ এবং সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির কৌশল গ্রহণকে গণতন্ত্রের সম্পূরক ধরা হয়। প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সভা সমাবেশ, মিছিল, আন্দোলন, হরতাল প্রভৃতির সাহায্যে সরকারের কাছে দাবী-দাওয়া পেশের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার দুর্বল চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল যাতে একলার ইচ্ছায় সকল সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে না পারে; বরং তাদের সিদ্ধান্তের বেলায় জনমতকে যেন উপেক্ষা না করা হয় তার জন্য সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের বাইরে এসব উদ্যোগ গ্রহন করা হয় এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলও এতে সামিল হয়। কিন্তু এইসব বিকল্প ব্যবস্থায় জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার বা ক্ষমতা (জনগণের সমর্থনে বা মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়া) প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

প্রথমত:রাষ্ট্র ব্যবস্থার ( সংসদের) বাইরে এ সকল সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ বা দাবী-দাওয়া গ্রহন করা না করার কোন আইনী বাধ্যবাধকতা থাকে না এবং এসব আমলে নেয়া সরকারের সদিচ্ছা নির্ভর হয়। বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের নেতাদেরও (যারা সক্রিয় রাজনীতি করেন না) ধারণা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতারা তাদের কথার গুরুত্ব দেন না।
দ্বিতীয়ত: বিভিন্ন দল,গ্রুপ, সংস্থা, সংগঠন, ইউনিয়ন, রাজনৈতিক দলের অঙ্গ-সংগঠন, লবিং গ্রুপ তাদের দাবী (যা বেশীর ভাগ সময় জাতীয় বা জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট না হয়ে নিজস্ব গ্রুপের স্বার্থ বিশিষ্ট হয়) আদায়ের জন্য সরকার ও ক্ষমতাসীনদের সাথে দর-কষাকষিতে হাত মিলায়। এইটা আবার সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ঘুষ কালচার-দুর্নীতির জন্ম দেয়। অনেক সময় দাবী আদায়ের জন্য পেশী-শক্তির ব্যবহার ও সন্ত্রাসের পথ অনুসরণ করা হয় যা হরতালসহ নানা রকম ভয়ভীতি মুলক চাপের সৃষ্টি করে এবং সরকারকে জিম্মি অথবা বাধ্য করে দাবী আদায়ের সংস্কৃতি চালু হয়। কিন্তু এই সব বিধ্বংসী পথ বাদ দিয়ে স্থানীয় সংসদ ব্যবস্থা প্রচলিত হলে এই অপসংস্কৃতি (ধীরে ধীরে) বন্ধ হবে- এইটুকু আশা করা যায়।

নীতি ও আইন প্রণয়নে রাষ্ট্রের সকল শ্রেণী পেশা, দলমত, নরনারী নির্বিশেষে সবার মতামত বিবেচনা করা অত্যাবশ্যক। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের পার্লামেন্টে সেই সুযোগ থাকে না। এধরণের সংসদে বরং জনগণের ইচ্ছার স্থলে দলীয় অভিপ্রায় প্রাধান্য পায় এবং গণতন্ত্রের বদলে দলতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্যগণ যাতে জনগণের অগোচরে বা সমর্থন ব্যতিরেকে আইন প্রণয়ন করতে না পারে তার জন্য আইন প্রণয়নে সকল শ্রেণীপেশার জনগণের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা আবশ্যক। এজন্য সংসদীয় ব্যবস্থার বিকেন্দ্রায়ন এবং সংসদীয় ক্ষমতার গণতন্ত্রায়ন করে জনগণের ক্ষমতায়ন করা প্রয়োজন।

আমার মতে সংসদীয় ব্যবস্থাকে স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় – স্তরে সাজাতে হবে। স্থানীয় সংসদ যেখানে সকল শ্রেণী পেশা ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতিনিধিত্ব থাকবে এবং জাতীয় সংসদ যেখানে প্রচলিত নির্বাচনী এলাকা ভিত্তিক প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। স্থানীয় সংসদের স্তরগুলো ইউনিয়ন সংসদ, উপজেলা সংসদ, জেলা সংসদ এবং পৌর এলাকায় ওয়ার্ড সংসদ ও পৌর সংসদ এবং সিটি এলাকায় ওয়ার্ড সংসদ ও সিটি-করপোরেশন সংসদরূপে গঠন করা যায়। স্থানীয় সংসদের সদস্য হবে—পণ্য উৎপাদনকারী ও সেবাদানকারী সকল পেশাজীবি( চাষী, তাতী, মৎসজীবী,কামার, কুমোর,ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি) সংগঠনের নির্বাচিত প্রতিনিধি; এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক/ শিক্ষক প্রতিনিধি; সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের (মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, মঠ) পুরোহিত বা ইমাম; সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নির্বাচিত সভাপতি; সকল ব্যবসায়ী সমিতি ও চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচিত সভাপতি;বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সভাপতি; প্রেস ক্লাব ও কাউন্সিলের নির্বাচিত সভাপতি;সকল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নির্বাচিত প্রতিনিধি; সকল রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ( ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা, জেলা ইত্যাদি) প্রতিনিধি।

এলাকার সংসদ সদস্য উপজেলা সংসদের সমন্বয়ক; এবং জেলার সংসদ সদস্যগণ জেলা সংসদের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবেন। জাতীয় সংসদ সদস্যগণ যেহেতু কেন্দ্রীয় সংসদ সদস্য এবং তাদের কাজ দেশের জন্য আইন প্রণয়ন করা; সেহেতু তারা স্থানীয় সংসদের আওতার উর্ধ্বে এবং স্থানীয় সংসদ কর্তৃক প্রদত্ত বিষয়গুলো সমন্বয় করে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করবেন। এই সংসদীয় ব্যবস্থা মিটিং,মিছিল, হরতাল প্রভৃতির মাধ্যমে দাবী-দাওয়া পেশ; সরকার বিরোধী অন্দোলন ইত্যাদির বদলে দাবী ও মতামত জ্ঞাপনের নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করবে এবং একই সাথে বিজয়ী ক্ষমতাসীন দলের একনায়কতন্ত্রের ( উইনার টেকস‌‌ অল; লুজার গেটস নাথিং) অবসান করবে। কারণ স্থানীয় সংসদের মাধ্যমে যে সকল প্রস্তাব ও বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে তা বিবেচনা করা বা মেনে নেয়ার আইনী বাধ্যবাধকতা তৈরী হবে।

এভাবে জনগণের অংশগ্রহণে বা প্রতিনিধিত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা আজ আমাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব এবং তার জন্য ১৯৭২ সালের সংবিধানের উপযুক্ত সংস্কার প্রয়োজন যা গণ-সংসদের অনুমোদনে করতে হবে।

(চলবে)

***
মুক্তিযোদ্ধার চোখে: সংবিধান, সমস্যা, পর্যালোচনা ও সমাধানে কিছু প্রস্তাব-পর্ব ১