ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ঢাকা, জুন ০৪,বিডি নিউজ ২৪, কম এর খবরে প্রকাশ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন এবং নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করার জন্য খসড়া প্রস্তাবাবলী সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিশনার বাছাইয়ের জন্য সার্চ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে যার সদস্য হবেন— সি ই সি( আহবায়ক), প্রধান বিচারপতি মনোনীত একজন বিচারক, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, পি এস সি চেয়ারম্যান ও মহাহিসাব নিরীক্ষক। কমিটির প্রস্তাবিত নাম ( প্রতি পদের জন্য ৩জন) সংসদের কার্য্ উপদেষ্টা কমিটির পরিক্ষার পর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতি তাদের মধ্য হতে নিয়োগ দেবেন। তা ছাড়া কমিশনকে সরকারের মুখাপেক্ষী না করা; আর্থিক স্বাধীনতা ও আলাদা সচিবালয়ের কথা ও বলা হচ্ছে।

সংবিধানের অনু ১১৮ থেকে ১২৬ এ নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিধান দেয়া হয়েছে। অতএব নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রের সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। তবে এই কমিশনের আওতা শুধু রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য।

সুতরাং স্থানীয় নির্বাচন উক্ত কমিশনের দায়িত্ব নয়; যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য পরিপূরক নয়।

কিন্তু অনু ৭(১)- “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ”—(২)- “জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন।” অনু ১১—” প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহন নিশ্চিত হইবে”। অনু ৫৯(১) “আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে”। অনু ১৫২– “প্রশাসনিক একাংশ” অর্থ জেলা কিংবা এই সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে আইনের দ্বারা অভিহিত অন্য কোন এলাকা।—- বিধানসমূহের আলোকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা সকল পর্যায়ের প্রশাসন পরিচালনার কথা। সেখানে স্থানীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা ও স্থানীয় নির্বাচন কমিশন না থাকলে রাষ্ট্র আমলাতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

অনু ১১৮ তে নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু অনু ৪৮(৩)— “অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধান মন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন” বিধান থাকায় নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে প্রধান মন্ত্রীর ইচ্ছা প্রতিফলিত হয়। প্রধান মন্ত্রী আইন প্রণয়ন( সংসদ নেতা হিসেবে); নির্বাহী; বিচার সহ বিধিবদ্ধ কমিশনসমূহের ও নিয়ন্তা। এর পর ও দেশে গণতন্ত্রের আশা করা নিতান্ত বাতুলতা।

অনু ১১৮(৪)– কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন; ১১৮(৫) সুপ্রিম কোর্টের বিচারক যেরূপ পদ্ধতি ও কারণে অপসারিত হইতে পারেন; সেইরূপ পদ্ধতি ও কারণ ব্যতীত কোন নির্বাচন কমিশনার অপসারিত হইবেন না”। অনু ১২৬ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কতৃপক্ষের কর্তব্য হইবে”।—- বিধান গুলো অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনার সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের সমান স্বাধীন ও শক্তিশালী ভাবে কাজ কতে পারা এবং নির্বাহী সহায়তা পাওয়া তাদের সাংবিধানিক অধিকার।

উপরোক্ত বিধান ও বক্তব্যের আলোকে উল্লেখ্য—

১।নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রের বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান যার কাজ রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ ও আইন প্রণয়ন এবং নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য জনবল তথা নির্বাচিত প্রতিনিধি সরবরাহ করা। সুতরাং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ/নির্বাচনের সর্বময় অধিকার জনগণের। তাই প্রধান মন্ত্রী, সার্চ কমিটি, আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতি, রাজনৈতিক দলের মতামত বা আলোচনা অথবা সুধীজনের পরামর্শে কমিশনার নিয়োগ অবৈধ ও সংবিধান বহির্ভূত। একমাত্র জনগণের অনুমোদনে কমিশনারদের নিয়োগ বৈধ।

২। সংবিধানের বাধ্যবাধকতা কার্যকর করতে হলে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সর্বস্তরে ( ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, জাতীয়) নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। স্থানীয় নির্বাচনের জন্য স্থানীয় নির্বাচন কমিশন( ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশন, উপজেলা নির্বাচন কমিশন, জেলা নির্বাচন কমিশন) গঠন করতে হবে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত নির্বাচন কমিশনার সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সংসদে অনুমোদনের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন।

জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রস্তাবিত নির্বাচন কমিশনার “গণ-সংসদে” অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন। এই ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদের দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কুফল দূর হবে।