ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সংবিধান সংশোধন,তত্ত্বাবধায়ক সরকার, তেল গ্যাস চুক্তি প্রভৃতি নিয়ে আলোচনার ঝড় সর্বত্র চলছে। বিরোধী দল ইস্যুগুলো ব্যবহার করে ক্ষমতা দখলের মরিয়া চেষ্টা করছে। কিন্তু অতীত বলে তারা ক্ষমতায় গেলেও স্বৈরাচার বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়া কমবে না। কারণঃ-

সংবিধান আনু-৪৮(৩), ৫৫(১), (২), ৫৬(১),৫৮(২) এবং ৭০ অনুসারে রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করা হয় এক ব্যক্তির(প্রধানমন্ত্রী) কাছে।
তিনি সংখাগরিষ্ঠের দলের নেতা হিসেবে সংসদের নেতা এবং তার ইচ্ছানুসারে আইন প্রণীত হয়।
তিনি নির্বাহী প্রধান এবং তার কর্তৃত্বে সকল মন্ত্রণালয় ও নির্বাহী বিভাগ সমূহ পরিচালিত হয়।
শাসক দলের নেতা হিসেবে তিনি দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

এই অবস্থায় একনায়কতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র, দলতন্ত্র ব্যতীত গণতন্ত্রের আশা করা দুরাশা; উক্ত ক্ষমতাধারীর(প্রধান মন্ত্রী) দয়া বা বদান্যতা। নির্বাচনে ভোট দেয়ার পর পাচ বছর যাবত জনগণ তার কাছে গণতন্ত্রের জন্য প্রার্থনা করতে পারে মাত্র। এটা কোন ব্যক্তির বিষয় নয়; এটা রাষ্ট্র ব্যবস্থার ত্রুটি। ক্ষমতার একচ্ছত্রতা বা চরম কেন্দ্রায়ন যতদিন থাকবে; ততদিন গ্যাস চুক্তি, রাষ্ট্র ধর্ম, সংবিধান সংশোধন ইত্যাদি একক ইচ্ছা অনিচ্ছা নির্ভর হবে।

রাষ্ট্রপতির অভিশংসন অনু-৫২; রাষ্ট্রপতির অপসারণ অনু-৫৩; বিচারপতিদের পদের মেয়াদ অনু- ৯৬ বিধি অনুসারে রাষ্ট্রপতি ও বিচারকদের অপসারণের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সংসদে অনাস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করার বিধান(অনু-৫৭(২)) আছে; তাও আবার অনু-৭০ দ্বারা অকেজো করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচিত হওয়ার পর ৫ বছরের মধ্যে একমাত্র গণ আন্দোলনে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের কোন সাংবিধানিক পদ্ধতি বা বিধান নেই। তাই সর্বময় ক্ষমতাধারী প্রধান মন্ত্রীর হাতে গণতন্ত্র ও জনগণের ইচ্ছা তার সদয় ইচ্ছা নির্ভর। জনগণের কাছে জবাবদিহিতা? সে পাঁচ বছর পরে দেখা যাবে।

সুতরাং ব্যক্তি নয় সিস্টেমের পরিবর্তন দরকার; জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য সংবিধানের পরিবর্তন প্রয়োজন। রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতন্ত্রায়নের জন্য সংসদ, নির্বাহী, বিচার ব্যবস্থার বিকেন্দ্রায়ন এবং সর্বস্তরে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা আবশ্যক।