ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

আমরা প্রত্যেকেই জন্মগ্রহণ করি মানব সন্তান হিসেবে কোন পিতামাতা ও পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রে। অতঃপর মানব সন্তান ব্যক্তিতে পরিণত হয় প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশে অনানুষ্ঠানিক এবং আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহনের মাধ্যমে। পঞ্চেন্দ্রিয়র সাহায্যে গৃহীত সংকেত সমূহ মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে ধারণ, বিশ্লেষণ ও পরিশীলন পূর্বক সংরক্ষিত হয়। এসকল সংরক্ষিত ও নব গৃহীত সংকেত সিরিব্রাল কর্টেক্সে চেতনা ও জ্ঞান সৃষ্টি করে এবং যে জ্ঞানের দ্বারা আমরা কোন বিষয়কে বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করি। তাই চিন্তাচেতনা, বিচার বিশ্লেষণ ও জ্ঞানবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ ব্যক্তিতে পরিণত হয়। সবাই মানুষ হলেও প্রত্যেক ব্যক্তি স্বতন্ত্র; প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বধারী।

সুখশান্তি ও সমৃদ্ধশালী সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করতে হলে উক্ত স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব মানব সমূহকে(জনগণ) একক লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধ হতে হয়।সমাজের অধিকাংশ মানুষ যখন কোন লক্ষ্য অর্জনে সক্রিয় ও সচেষ্ট হয়; তখন সে লক্ষ্য অর্জিত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ফলে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ও স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশ কেমন হবে সে লক্ষ্যও ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১ম, ২য় ও ৩য় ভাগের অনুচ্ছেদ সমুহে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল; যাকে এক কথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলা হয়।এই চেতনায় জনগণ ঐক্যমত হলেও কিছু বামপন্থী ও পাকিস্থান পন্থী রাজনীতিবিদ চেতনা বিরোধী ছিল এবং তারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করে। দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের সহায়তায় উক্ত ক্ষুদ্র অংশটি ১৯৭৫ সালে নৃশংস হত্যাকান্ডের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে এবং দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংসের চেষ্টা করে। এই কাজে তারা ধর্মকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।

মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্খিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঐক্য পুনরায় দৃঢ় করা আবশ্যক এবং তার জন্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সংস্কার করতে হবে। বহুধা বিভক্ত প্রাথমিক শিক্ষা(৮ম শ্রেণী পর্যন্ত) পদ্ধতিকে একক, সার্বজনীন, আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী এবং বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুখী করে গঠন করতে হবে। তাহলেই সুখী সমৃদ্ধ প্রগতিশীল মুক্তবুদ্ধি ও উন্নত নৈতিকতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।