ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আদিম, বর্বর ও প্রাচীন যুগ এবং রাজা বাদশাহ, দিগ্বিজয়ী বীর ও কলোনীয় যুগ পার হয়ে মানব সমাজে রাষ্ট্রকে এখন জনগণের সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হয়। রাষ্ট্র আর রাজা বাদশাহ বা শাসকদের বিলাসিতা ও ভরণ পোষণের প্রতিষ্ঠান নয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় পৃথিবীর অনেক দেশে রাষ্ট্রকে শাসক ও শোষকদের প্রতিষ্ঠান রূপে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম।

রাষ্ট্রের এই গণবিরোধী চরিত্রের পরিবর্তনের আকাঙ্খায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ লোক প্রাণ দিয়েছিল। কিন্তু পরম পরিতাপের বিষয় বৃটীশ ও পাকিস্তান রাষ্ট্র ব্যবস্থার ঐতিহ্য অনুসরণ করে ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশকে শাসক ও শোষকদের আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্র রূপে চালু করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জনগণের আকাঙ্খার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় পরিবর্তনের পদক্ষেপ নেয়া হয় না। যদি ও ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১ম ভাগ (প্রজাতন্ত্র), ২য় ভাগ ( রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি) এবং ৩য় ভাগের ( মৌলিক অধিকার) বিধান সমূহে মুক্তযুদ্ধের চেতনা ও জনগণের আকাঙ্খা পূরণের অঙ্গীকার লিপিবদ্ধ করা হয়েছে; তবে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের ৪র্থ ভাগ (নির্বাহী), ৫ম ভাগ ( আইনসভা), ৬ষ্ঠ ভাগ (বিচার বিভাগ), ৭ম ভাগ ( নির্বাচন), ৯ম ভাগে ( কর্মবিভাগ) যে সকল বিধান দেয়া হয়েছে তা উক্ত চেতনা ও আকাঙ্খা পূরনে অযোগ্য(১৯৭৫ সালের পর যাকে আর ও গণবিরোধী করা হয়েছে)। কারণ ঐসকল বিধান রাষ্ট্র ক্ষমতাকে ব্যক্তি, দল ও আমলাতন্ত্রের কাছে এমনভাবে কেন্দ্রীভূত করেছে যে রাষ্ট্র শাসক ও শোষকদের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। জনগণের কাছে আছে শুধু নির্বাচনের মাধ্যমে শাসক ও শোষকদের হাত বদল করার সামান্য সুযোগ; যাকে আমরা গণতন্ত্র বলছি।
অতএব শাসক ও শোষকের প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্রের অবশ্যম্ভাবী পরিবেশ ” রাষ্ট্র বনাম জনগণ” । এধরণের রাষ্ট্রে যারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন সেই সরকারের অবস্থান ও হয় ” সরকার বনাম জনগণ”। কারণ এবসলুট পাওয়ার করাপ্টস এবসলুটলি। এখানে সাধারণ মানুষ তাদের সামান্য মৌলিক চাহিদাটুকু পূরণের জন্য রাষ্ট্র ও সরকারে বিরুদ্ধে মরিয়া হয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করতে বাধ্য হয়। আর জনগণের এই মরিয়া অবস্থার সুযোগ গ্রহন করে সুবিধাবাদী রাজনীতি ফ্লারিশ করে।

কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া জনগণের সোসিও- পলিটিকাল এবং সোসিও-ইকোনমিক সমস্যার সমধান সম্ভব না। রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন করে রাষ্ট্রকে জনগণের সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। যার জন্য দরকার রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতন্ত্রায়ন , রাষ্ট্র ক্ষমতার বিকেন্দ্রায়ন ও জনগণের ক্ষমতায়ন। ব্যক্তি ও দলের অন্ধ সমর্থনের রাজনীতি দ্বারা এটা অর্জন করা যাবে না। সরকারি দল ও বিরোধী দল ভিত্তিক আন্দোলন ও এটা অর্জন করবে না। সুতরাং জনগণের সামাজিক প্রতিষ্ঠান রূপে রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১ম, ২য় ও ৩য় ভাগে বর্ণিত জনগণের আকঙ্খা বাস্তবায়নের রাজনীতি আজ অত্যাবশ্যক