ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

পুলিশের আচরণ, দায়িত্ব পালন, সততা ইত্যাদি নিয়ে সবাই হতাশ। কিন্তু পুলিশ তো রাষ্ট্রের একটা সংস্থা মাত্র। সার্বিক রাষ্ট্রের সমস্যা তথা রাষ্ট্রের সোসিও-পলিটিকাল এবং সোসিও-ইকোনমিক সমস্যার পুলিশী সমাধান কি সম্ভব?

সোসিও-পলিটিকাল এবং সোসিও-ইকোনমিক ক্ষমতা সামান্য সংখ্যক ব্যক্তি অথবা দল ও শ্রেণীর কাছে কুক্ষিগত শাসন শোষণ মূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় “রাষ্ট্র বনাম জনগণ” পরিবেশ বিরাজ করে। বঞ্চিত ও বিক্ষুব্ধ জনগণকে শাসন শোষণ করার জন্য চিরাচরিত নিয়ম ” ডিভাইড এন্ড রুল” ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের জনগণ যাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শাসক ও শোষকদের বিরুদ্ধে জয়ী হতে না পারে তার জন্য রাজনৈতিকভাবে জনগণকে সরকারী দল এবং বিরোধী দলের রাজনীতিতে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। বঞ্চিত ও বিক্ষুব্ধ জনগণকে প্রতিশ্রুতির লোভ ও টোপ দিয়ে ক্ষমতা দখলের ইচ্ছায় বিরোধী দল মারমুখি ধ্বংসাত্মক আন্দোলন করে। ক্ষমতা দখলের লড়াই এভাবে চালু থাকে এবং জনগণের অবস্থান থাকে সর্বদা বঞ্চিত দল হিসেবে।

উপরোক্ত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবেশে পুলিশ স্বাধীন, নিরপেক্ষ হতে পারে না। কারণ পুলিশ অন্যান্য সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীর ন্যায় রাষ্ট্রের একটা বল প্রয়োগকারী পেশী শক্তির সংস্থা। পুলিশ রাষ্ট্রের সংস্থা হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের অধীনে কাজ করে।সুতরাং ” রাষ্ট্র বনাম জনগণ” তথা সরকার বনাম জনগণ, বা ক্ষমতাধারী শাসক শোষক বনাম জনগণ অবস্থায় পুলিশকে জনগণের বন্ধু হতে হলে শাসক, সরকার, রাষ্ট্র বিরোধী হয়ে জনগণের পক্ষে যেতে হবে। যা আদৌ সম্ভব নয়।

অতএব ” রাষ্ট্র বনাম জনগণ” অবস্থার পরিবর্তন ব্যতীত পুলিশের ভূমিকা ও চরিত্রের পরিবর্তন আশা করা বৃথা।