ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

দেশে এখন মহাসমারোহে চলিতেছে জামাত-শিবির দমন অভিযান । সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে চলমান এই অভিযানে শরিক হয়ে নিজের জীবনকে ধন্য করতে পারেন আপনিও। বিডি ব্লগের অনেকে এই অভিযানে অংশ নিয়ে প্রাণপণ সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে উচ্ছেদ বা নিধন অভিযান চালানোর সাহস বা সামর্থ বা সুযোগ বোধ হয় নেই। সেটা বুঝাই গেছে, জামাত শিবিরের একদিনের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টাতেই (পল্টন- কাকরাইলে ঘটনা)। সরকারের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সে যে কী অবস্থা !

তারপর অফিস থেকে ধরে নিয়ে নিয়ে জামাতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মাওলানা আজহার ও মাওলানা তাসনীম আলমকে নিয়ে ধোলাই দেয়া। আদালতে ডান্ডাবেডী পরিয়ে হাজির করে ক্ষোভের প্রকাশ ঘটানো। ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুলসহ সবাইকে মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি ও মালামাল ক্রোকের নির্দেশ। আজ প্রধান একটি পত্রিকায় দেখলাম মামলার ফাঁদে জামাত। চমৎকার!

উচ্ছেদ অভিযান সম্ভব না হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে –
এদের শিকড় অনেক গভীরে চলে গেছে
এরা সংখ্যায় অনেক বেড়ে গেছে
এরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিজেদের অবস্থান পাকপোক্ত করেছে
এরা সাধারন মানুষের কাছে অগ্রহনযোগ্য নয়, যতটা তাদের প্রতিপক্ষ প্রচার করে
এদের নৈতিক চরিত্র দমন বা উচ্ছেদকারিদের চেয়ে অনেক ভালো
এরা অন্যদের মতো হালুয়া-রুটির জন্য গতানুগতিক রাজনীতি করেনা
এরা আদর্শের রাজনীতি করে
এরা নিজেরা চাঁদা খায় না, চাঁদা দিয়ে দল চালায়
আয়ের বড় অংশ দলকে দিয়ে দেয়
এদের দলে যেমন ছাত্র-যুবকরা সক্রিয় তেমনী অশীতিপর বৃদ্ধরাও সক্রিয়
এরা মানুষের কল্যানেই কাজ করে, এটা মানুষ বিশ্বাস করে
এরা ইসলামের যে দিকটি মানুষের সামনে ফোকাস করে সেটির সাথে মদীনার ইসলামের বেশী মিল পায় মানুষ
এদের দলে মেধাবী, চিন্তাশীল লোকদের সমাগম অনেক বেশী

দমন অভিযানে তারও আগের দ্রুত চলমান পদক্ষেপগুলো হচ্ছে-

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে শুধু জামাত নেতাদের বিচারের আয়োজন
বিচারের আগেই রায় দিয়ে দেয়ার মতো পরিস্থিতি
মাওলানা সাঈদীকে দিয়ে শুরু, কারণ তিনিই আওয়ামী বাকশাল, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতির পিতা এসব ইস্যুতে সবচেয়ে বেশী বক্তব্য রেখেছেন তার তাফসীর মাহফিলে। তাছাড়া সামনে তিনিই জামাতের আমীর হওয়ার সম্ভাবনা বেশী
নিজামী-মুজাহিদকে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায জড়ানো
তারও আগে গাড়ী পোড়ানো মামলাসহ এধরনের আরও অসংখ্য মামলায় আসামী করা
জামাতকে রাস্তায় সভা-সমাবেশ করতে না দেয়া
চিরুনী অভিযান চালানো
পোস্টার লিফলেট বিতরণকালে গ্রেফতার
ধর্মীয় বইকে জেহাদী বই আখ্যা দিয়ে জব্দ ও বহনকারিকে গ্রেফতার
জামাতের লোকদের দ্বারা পরিচালিত ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সীনা হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নানাভাবে ঘায়েল করার চেস্টা ।

কার্যত জামাত-শিবির এখন অবরুদ্ধ। তাদের প্রকাশ্যে তৎপরতা চালাতে দেয়া হচ্ছেনা। তারা অফিসে বসতে পারছেনা। অথচ তারা নিষিদ্ধ নয়। যুদ্ধাপরাধ বা মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ আছে এমন ব্যক্তি অন্যান্য দলেও আছে। তাদের বেলায় সরকার কিন্তু এমন আচরণ করেছেনা। রাজপথে সংঘাত-সংঘর্ষ গাড়ী পেড়ানো ভংচুরের ঘটানা নতুন কোণ ঘটনা নয়। রাজপথে লগি-বৈঠার নিয়ে সাপোর মতো মানুষ মারার ঘটনাও ঘটেছে। দোতলা বাসে আগুন দিয়ে মানুষও মারা হয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনার জন্য কোন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের এভাবে গ্রেফতার, রিমান্ডে নেয়া, ডান্ডাবেডী পরানো হয়নি। অফিসে কাউকে বসতে না দেয়ার মতো ঘটনা কখনো ঘটেনি। যুদ্ধাপরাধী কিংবা মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার চলছে। এই বিচারের সামগ্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে দেশে বিদেশে নানা প্রশ্ন। বিরোধী দল এটিকে প্রহসনের বিচার বলছে। সরকারের নিয়ন্ত্রনে বিচার চলছে। এই বিচার কার্যক্রমকে কোনভাবে জামাত-শিবির প্রভাবিত বা বানচাল করার সুযোগ নেই। তারপরও জামাত শিবির দমনকারিদের এতো অস্থিরতা কেন সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিচ্ছে।এই অস্থিরতা আমরা অন্যান্য ক্ষেত্রের পাশাপাশি এই বিডি ব্লগেও দেখছি।