ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

এ এক অদ্ভূত দেশে যেন বাস করছি। আমাদের রাজনীতিবিদরা তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে যাচ্ছেতাই করবেন, আর আমাদেরকে একটা কিছু বলে বুঝ দেয়ার চেষ্টা করবেন। এ সরকারেরর আমলে এই প্রবণতা মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে যেন।

মাত্র চার মিনিটে বিল পাস করে আমাদের প্রিয় শহর ঢাকাকে দুই ভাগ করে দিলেন বঙ্গ বন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা। আর বললেন, জনসেবা বাড়াতে এই ব্যবস্থা।

সংসদে বললেন, উত্তরা থেকে সদর ঘাট পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার দূরত্বের ঢাকা নাকি এক মেয়রের পক্ষে চালানো সম্ভব নয়। এজন্য এই বিভক্তি। আবার বললেন, দক্ষিন ঢাকা হচ্ছে মূল ঢাকা, আর উত্তর ঢাকা হচ্ছে- সম্প্রসারিত ঢাকা। এজন্য নাকি বিভক্তি।

ঢাকাকে ভাগ করে সেবা বাড়াতে হবে- এমন দাবির কথাতো দূরে থাক, প্রসঙ্গটিই ইতিপূর্বে কারো মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছে এমনটি জানা নেই। ঢাকার একটি মানুষও এর বিভক্তি চায়, এটি আমার মনে হয়না। আমি জানি, ডিসিসিতে ২০-২৫জন আওয়ামীলীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সলির রয়েছেন। তারাও প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ করেছেন। এখন হয়তো দলীয় কারনে চুপসে গেছেন।

আমার জানামতে, ডিসিসি ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা আছেই। প্রত্যেক অঞ্চলে আলাদা কার্যালয় আছে। এই সংস্থাটির সকল কাজই এই আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমেই হচ্ছে। এটা অনেকটাই বিকেন্দ্রীকরনের মতোই আছে। এখানে যেটা করা যেত প্রত্যেক অঞ্চলের জন্য একজন করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি করা যেতে পারে।

তাছাড়া ডিসিসি’র সেবার মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে মূল সমস্যা এর বিস্তৃতি নয়। প্রধান কারণ অন্যান্য সেবা সংস্থা যেমন:ওয়াসা, ডেসা, রাজউকের সাথে সমন্বয়হীনতা, অব্যবস্থাপনা, অনিয়মন, স্বল্প বরাদ্দ ইত্যাদি। এসব সমস্যা সমাধান করলেই চলে। কিন্ত তা না করে এক কোপেই ঢাকাকে দুই ভাগ করা হলো।

এটার উদ্দেশ্য যে সেবার মান বাড়ানো নয়, সেটা কারো বুঝতে বাকি নেই। হীন রাজনীতি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরশনে শোচনীয় পরাজয় আওয়ালীগের মনে যে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে তারই প্রতিফলন ঢাকাকে ভাগ করে আত্মরক্ষার চেষ্টা। এই কাজটি করে আওয়ালীগ নিজেদের আরো বেশী ক্ষতি করলো। এর মধ্য দিয়ে জন রায়ের আগেই যেন আওয়ামীলীগ নিজেদের পরাজয় মেনে নিল। এরপর কি হয়, আওয়ামীলীগ কী করে, ঢাকা বাসি , নাগরিক সমাজ কী করে দেখার অপেক্ষা।