ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

দেশে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের যে খবর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন। আসলে কী হয়েছে বা হচ্ছে? একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার কাছেও অনেকে জানতে চেয়েছে। আমি কিন্তু পরিস্কার কোন ধারণা কাউকে দিতে পারিনি। কারণ এখন পর্যন্ত বিষয়টি আমার কাছেও পরিস্কার নয়।

তদুপরি প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামীলীগ নেতাদের বক্তব্যে আরো বেশী বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তারা এই ঘটনার সাথে বিএনপির সংশ্লিষ্টতার কথা অনেকটা পরিস্কার করেই বলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেনা ব্রিফিংয়ে পরিস্কারভাবে হিযবুত তাহরির নামে নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে। যদিও বেগম জিয়ার একটি বক্তবেরও সমালোচনা করা হয়েছে।

হিযবুত তাহরীর সম্পর্কে দেশের মানুষ কতটুকু জানে। বাংলাদেশে এ সংগঠনের কার্যক্রম বেশী দিনের নয়। এই সংগঠনটি বাংলাদেশের একটি সুশৃংখল সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান প্রস্তুতি নেয়ার মতো ক্ষমতা রাখে-এটা আমার মনে হচ্ছেনা।

আবার কথায় কথায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের যে কথা বলা হয় সেটি অবশ্য এক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কেউ সেভাবে বলেনি। তবে কিছু রংঢং লাগিয়ে কিছু পত্রিকায় একই ধাচের রিপোর্ট প্রকাশিত হবার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আবার যে সেনাবাহনীর ভিতরের খবর কোন সাংবাদিক শত চেষ্টা করেও বের করে প্রকাশ করতে গলদঘর্ম হতে হয় বলে শুনেছি, আজ দেখলাম কয়েকটি পত্রিকায় অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত সন্দেহে কতজনকে গ্রেফতার ও নজরদারিতে আনা হয়েছে তাদের পদবী উল্লেখ করে প্রায় অভিন্ন খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এখানে আসলে কী ঘটতে যাচ্ছিল, আসলে কী ঘটছে কিংবা কিছু ঘটানোর জন্য ক্ষেত্র তৈরী করা হচ্ছে কিনা-এসব প্রশ্ন আমার মতো অনেকের মনে দানা বেধে উঠছে।

আমাদের গৌরব সেনাবাহিনীকে কেউ দলীয় রাজনৈতিক এজেন্ডা বান্তবায়নে সুকৌশলে ব্যবহার করছে কিনা-এমন সন্দেহ বাড়ছে। এর কারণ খালেদা জিয়ার একটি রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর মুখ দিয়ে কিন্তু কড়া সমালোচনামূলক বক্তব্য এসেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, বেগম জিয়া পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উপর ভিত্তি করে চট্টগ্রামে সেদিন উক্তিটি করেছিলেন। যদিও বিষয়িটি ষ্পশর্কতর ছিল। সাধারণ মানুষের গুম হওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গক্রমে পত্রিকার খবরের ভিত্তিতে তিনি ওই কথাটি বলে থাকতে পারেন।

সেনাবাহিনীকে কোন রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী কোনভাবে ব্যবহার করে ফায়দা লুটুক-সেটা আমরা দেখতে চাইনা। আমরা চাই সেনাবাহিনী তাদের মতোই চলুক। এক্ষেত্র আমরা সেনাবাহিনীর অতি সতর্কতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করি।