ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

সাধারন মানুষের চোখে বিএনপি এবং আওয়ামি এর মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নাই। বিএনপি এর জন্ম সেনাছাউনিতে, একজন সেনাশাসকের অবৈধ ক্ষমতা বৈধ করার জন্য। কিন্তু ওই অবৈধ শাসক দেশ পরিচালনায় যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি জিয়াউর রহমান, কেউ কেউ উনাকে শহিদ হিসেবে পরিগনিত করে।যদিও জানি না কেন তিনি শহিদ। ক্ষমতায় যেভাবে আসুক না কেন তাতে মানুষের মাথা ব্যথা আগেও ছিল না এখন অ নেই, মানুষ শান্তিতে থাকলেই হল। মানুষ শান্তিতে ছিল। কে রাজা হল কে গেল তাতে মানুশের কিছু যায় আসে না। তার কারন জিয়া সাহেবের মৃত্যুর পর এরশাদ, উনি ও দীর্ঘদিন ক্ষমতা চেটেপুটে খেয়েছেন শুধুমাত্র বিএনপি ও আওয়ামী কিছু সুবিধা বঞ্চিত নেতাদের জন্য উনাকে ক্ষমতা ছারতে হল। এখনও গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে উনি জনপ্রিয় এবং তা জিয়াউর রহমানের থেকে কমনা। উনি ক্ষমতা হারানোর সাথেই কারা বন্দি হন, দীর্ঘদিন বিনা বিচারে শাস্তি ভোগ করেন এবং যে কারনে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে জনপ্রিয়তা হারান। ঢাকা শহরের শিক্ষিত নামধারি কিছু ব্যক্তিদের কাছে উনি কিছুটা অজনপ্রিয়। সরকার যায় সরকার আসে আমাদের যে জীবন সেই জীবন ই রয়ে যায়, আমরা সাধারন মানুষ কেন রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার। যদি সবদলই এক তাহলে কেন গতবার মানুষ কেন আওয়ামি লিগ কে ভোট দিল? কারন যেটা আমার মনে হয় তাহলো ; ২০০১ বিএনপি জামাত যখন ক্ষমতায় আসে তখন জামাতের অলিখিত এবং কিঞ্চিত প্রকাশিত ইশতিহার ছিল বাংলাকে আফগান বানানোর। এবং তারা কিছুটা সফল হয়েছিল ৬৩ টি জেলায় একি সময়ে বোমা হামলা, বাংলা ভাই, হিজবুত ইত্যাদি ইত্যাদি। ওই সময়ে সরকার পরিবর্তন না হলে এতদিনে বাংলাদেশে বহু মালালার দেখা মিলত। যাই হোক কথা হলো রাজনীতি যারা করেন তারা তাদের প্রতিপক্ষকে যেমন আহসানুল্লাহ মাস্টার, শাহ এম এস কিবরিয়া, ২১ আগস্ট এর বোমা হামলা এসব এসব ঘটনা নিয়ে মানুষের অত বেশি আফসোস নেই কারন তারা রাজনীতি করেন, আর রাজা-বাদশাদের তো জবনের ঝুকি নিতেই হয়। কে রাজা এইটা নিয়ে তো আমাদের মাথা ব্যাথা নাই। আমাদের মধ্যে অত বেশি দেশপ্রেম নেই থাকলে মিরজাফর কোনভাবেই ভিনদেশীদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে পারত না। আর পারত না গোলাম আজমরা এ দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে। শুধু তারা বিরধিতা করেই বিরত থাকেন নাই এদেশের মেধাবি মানুষদের হত্যা করেছেন এবং নিজেদের মা-বোনদের রক্ষা না করে, বিদেশি প্রভুদের মনরঞ্জনের জন্য দিয়েছেন। তাদের বিচার পক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আত্মঘোষিত ওইসব অপরাধিদের শাস্তির আদেশ হয়েছে। বিএনপি নেত্রী বলেন তারা ক্ষমতায় গেলে সমস্ত যুদ্ধাপরাধিদের মুক্ত করে দেবেন।
বিচার বিভাগ প্রকত স্বাধীন নয়। তারেকের মতো বিশ্বচোরের যখন বেকুসর খালাস হয়, তখন এটা স্বাধীন বিচার বিভাগের বিষয় আর যখন রাজাকারের ফাঁসি হলেই বিচার বিভাগ সরকারের আঙ্গুলের ইশারায় চলে। বিচারবিভাগ ঠিকই পরাধিন এবং খালেদা জিয়া ক্ষমতায় গেলে উনি রাজাকারদের মুক্ত করে দিবেন এটা সবাই জানেন। তাহলে উনিও বিচার বিভাগ পরাধিন করে রাখবেন। তাহলে আওয়ামী লিগ কে বাদ দিয়ে জামাত-বিএনপি-শিবির ক্ষমতায় বসিয়ে লাভ কি? বিএনপি মানে তারেকের মত চোরদের দিয়ে বর্তমান চোরদের প্রতিস্থাপন। মুললক্ষ্য ক্ষমতা আর ব্যাপক অর্থ সম্পদের মালিক হওয়া।
এই যে তাজরিন গার্মেন্টস, রানা প্লাজাতে মানুষ মারা যাওয়ার দুর্ঘটনা তার সাথে পেট্রোল, গান পাউডার, বোমা অন্যান্য কিছু দিয়ে মানুষ মারার সাথে কি কোন পার্থক্য খুজে পাওয়া যায়। বিএনপি এর আমলে ও বহু লঞ্চটঞ্চ ডুবছে, গার্মেন্টসও পুড়ছে, সারের জন্য মানুষ মরেছে।
তাহলে এদের মধ্যে পার্থক্য কোথায়-
যদি রাজনৈতিক দল পরিবর্তনে মানুষের অবস্থার কোণ পরিবর্তন না হয় তাহলে বিএনপি কে ক্ষমতায় বসালে আমাদের লাভ কি?
আসলে বিএনপি সাংগাঠনিকভাবে খূব দুর্বল একটি দল, কিন্তু তাদের ক্ষমতায় যাওয়া চাঈ চাই আর সেকারনে তারা জামাতের উপর পুরপুরি নির্ভরশিল তার কারন আন্দোলনের মাঠে বিএনপি কোন নেতা কর্মীর দেখা মেলে না, শুধু জামাতের কক্টেল, পিস্তল বাহিনী মাঝে মাঝে গর্ত থেকে বেড়িয়ে এসে কিছু সাধারন মানুষ মেরে যায়। ব্যাস হয়ে গেল আন্দোলন এই আন্দোলনে সাধারন মানুষের সম্পৃক্ততা কোথায়? জামাত-রাজাকারের দল জানে এইদেশে এইমুহুরতে একটি পরিত্যাক্ত মতাদর্শনের দলের পক্ষে এককভাবে ক্ষমতায় গিয়ে বাংলাদেশকে আফগানিস্থান বা পাকিস্থান বানীয়ে ফেলা সম্ভব না। তাদেরও বিএনপির মতো দল দরকার যেদলের গনতান্ত্রিক এবং অগন্তান্ত্রিক ভাবে ক্ষমতা গ্রহনের ইতিহাস আছে। যে দলের কিছুটা হলেও মুক্তিযুদ্ধের গন্ধ আছে। তাহলে সম্পর্কটা কিসের উপর দাঁড়িয়ে আছে । যুদ্ধপরাধি যার তথা জামাতি নেতাদের মুক্তির বিনিময়ে বিএনপিকে আন্দোলেনে সাহায্য করা। তাহলে এখনকার ইস্যুটা তত্ত্বাবধায়ক সংক্রান্ত নয় কারন এই তত্ত্বাবধায়ক বিলটি যখন পাশ হয় তখন বিএনপি এর বিরুদ্ধে তেমন জোরালোভাবে কিছু বলে নি। ইস্যু হচ্ছে ক্ষমতার রস হতে বঞ্চিত থাকা চলবে না আর যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত ও তাদেরকে বীজ রোপন করতে দেয়া। খালেদা ও জামাতিদের মুখে প্রায়ই শুনি অতিত ভুলে যাও অতিত ভুলে যাও–
অতিত ভুলে গেলে ত আমাকে ভুলতে হবে পলাশি-
অতিত ভুলে গেলে ত আমাকে ভুলতে হবে ১৮৫৭
অতিত ভুলে গেলে ত আমাকে ভুলতে হবে ১৯৫২
অতিত ভুলে গেলে ত আমাকে ভুলতে হবে ১৯৭১
অতিত ভুলে গেলে ত আমাকে-
ভুলতে হবে অসহায় মায়ের কান্না, বোনের চিৎকার
আরও কত কি–
আমরা অতিত ভুলে যাই তাই ব্রিটিশরা, মীরজাফররা যুগে যুগে ফিরে আসে
আমরা আফগানিস্থান হতে চাই না, আমরা ভারতীয়হতে চাই না। আমরা বাংলাদেশকে বাংলাদেশের মতো দেখতে চাই।
হে অতীত ,তুমি ভুবনে ভুবনে
কাজ করে যাও গোপনে গোপনে ,
মূখর দিনের চপলতা মাঝে স্হির হয়ে তুমি রও
হে অতীত, তুমি গোপনে হৃদয়ের কথা কও কথা কও ।