ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

বল আর রানের ব্যবধান বেড়েই যাচ্ছিল। আর বাড়ছিল স্নায়ুর চাপ। শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা হলোনা শ্রীলংকার। জয়ের তরী গিয়ে ভিড়লো পাকিস্তানিদের কুলে। আর সাথে সাথে বিহারি ক্যাম্পগুলো যেন স্ফুলিংগের মত ঝলসে উঠলো। বিজয়ের আনন্দে ছোট বড় বৃদ্ধ সবাই রাস্তায় বেড়িয়ে এল। আর যারা রাস্তায় ছিল তারা সেখান থেকেই সামিল হল পাকিস্তানের এই বিজয়ে। ঢোল বাজিয়ে, ভুভুজেলা হাকিয়ে, পটকা ফাটিয়ে বিজয়ের সাথে তারা একাত্মতা জানালো। তাদের এই উল্লাস গত কালকের খেলায় আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশের বিজয় উল্লাসকেও যেন হার মানাল। সত্যি বলতে কি গতকাল বাংলাদেশের বিজয়ে তাদের মধ্যে চোখে পড়ার মত কোন প্রতিক্রিয়াই আমার নজরে পড়েনি।

আমি থাকি ঢাকার মিরপুরের এক বিহারি অধ্যুষিত এলাকার একটি বিহারি ক্যাম্পের কাছাকাছি। আমি এদের কর্মকান্ডের সাথে খুব ভাল করে পরিচিত। সকালে ঘুম ভাঙ্গে তাদের হামকো তুমকো টাইপ উর্দু কথা শুনি আর রাতে ঘুমুতে যাই সেই একই অভিজ্ঞতা নিয়ে। বছরের উল্লেখযোগ্য সব বাঙ্গালী উৎসব যেমন, বিজয় দিবস, ভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস ইত্যাদি দিবসে এদের দেখি একেবারেই নির্জীব। পক্ষান্তরে পাকিস্তানের কোন উৎসব পার্বনে তারা এতটাই সক্রিয় থাকে যে মনে হবে আমরা যেন পাকিস্তানেরই কোন এক এলাকায় বসবাস করছি। এদের কোন কোন ক্যাম্পে সারা বছর ধরেই পতপত করে উড়তে থাকে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস বা অন্যান্য দিবসে কোথায় বাংলাদেশের কোন পতাকা দেখা যায়না। বাংলাদেশে থেকে বাঙ্গালীদের নাকের ডগায় এবং রাজধানী ঢাকার মত একটি জায়গায় বিহারীদের এই পাকিস্তান প্রীতি সত্যিই আমাকে মর্মাহত করে। এটি যেকোন দেশপ্রেমিক বাঙ্গালিকেই কষ্ট দেবে। এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।