ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
হলে অত্যাধিক মশা ও ছারপোকার কারণে(অবশ্য মাঝে মাঝে নামে মাত্র হলেও ওষুধ দেওয়া হয় প্রশাসন এর অশেষ দয়া) প্রতিদিনের মত আজও রাতে ভালো ঘুম হয়নি তবুও সকাল ৯ টার সময় ঘুম থেকে উঠে সস্তা টি শার্ট কোন মতে গায়ে দিয়ে ক্লাস করতে যাচ্ছিলাম ।হঠাৎ হলের গেইট এ ছাত্রলীগের এক মহান নেতা আমাকে ধামালো আর বীরের মতো বলল আজ বড় প্রোগ্রাম আছে গেষ্ট রুমে ঠুক ক্লাস করা লাগবে না ।আমি ভদ্র ভেড়ার মতো ঠুকলাম যাহোক সোনার ছেলেরা তো বলল ক্লাস করা লাগবে না ।তারপর ম্যাম হলের গেইট আটকে দিয়ে আমার মতো ভেড়াদের এক করে আপনি আসবেন যেখানে নিয়ে গেল।

ঠিক তখুনি আমার ভেড়া মাথায় গণতন্ত্র ও সাম্যের কথা মনে পড়ল ।পত্রিকায় পড়েছিলাম এক স্কুলে মন্ত্রী আসবে বলে ছাত্রদের রোদে কয়েক ঘন্টা রাস্তার দু’পাশে আমাদের মতো করে দাঁড় করে রেখেছিল আসলে এটাই তো গণতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় আর স্কুল ছাত্রদের মাঝে কোন বৈষম্য নেই ।

ম্যাম, আর আপনি যখন নামলেন সিনেট ভবনে তখন ম্যাম আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ল বাবা পাঁচ টাকা হাতে দিলে যেমন হাসতে হাসতে ছোটাছুটি করতাম স্যাররা তেমন আজকে ছোটাছুটি করছে ।

ম্যাম, আপনি সত্যিই জাদুঘর অসাধারণ আপনাকে দেখে ছাত্রলীগ নেতার মুখেও বিনয় ও ভদ্রভাব চলে আসল সে এক দেখার দৃশ্য জীবনের এই স্মৃতি নিয়ে মারা গেলেও তবুও ভোলা যাবেনা
ম্যাম। যদিও আমাদের মত ভেড়ার মাথা নিচু ছিলো তবুও আপনার উচু মাথা দেখতে বড় ভাল লাগল ।

দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত না খেয়ে থাকার পর যখন মহান নেতারা ছোট্ট এক প্যাকেট বিরানী ছুঁড়ে মেরে বলল পেট পুরে খা তখন ম্যাম কি যে ভাল লাগল মনে হল বেচেঁ থাকার কারণ আছে ।
অসাধারণ এইসব কিছু ম্যাম শুধু আপনার আসার কারণে হয়েছে ।তাই ম্যাম আপনি বার বার এসে আমাদের মূল্যায়িত করুন ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভেড়া/ছাত্র

ফেরদৌস জয়