ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

সঞ্চয় তরুণ বয়স থেকে শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা । জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রাখতে হলে অনেক টাকার দরকার তাই টাকার নিয়ন্ত্রণ মানে জীবনের নিয়ন্ত্রণ ।

বিশেষজ্ঞরা বলেন তরুণদের নিজের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা আনতে হবে, একটি সঞ্চয়ের লক্ষ্য ঠিক করতে হবে, সঞ্চয়কে খাদ্যের মত একটি দরকারী বিষয় হিসেবে নিতে হবে এবং আয় বাড়িয়ে খরচে কমিয়ে সঞ্চয়ে বাড়াতে হবে ।

বিশেষজ্ঞরা কিছু কৌশল বলেছেন যেভাবে তরুনরা তাদের সঞ্চয় বাড়াতে পারে । আপনার স্বপ্ন পূরণের হাতিয়ার আপনার জমানো টাকা ।

বিশেষজ্ঞরা বলেন আপনার কাছে যা টাকা আছে তার চেয়ে একটু বেশি টাকা কিভাবে আপনার এবং আপনার পরিবারের অথবা প্রিয় মানুষটির চাহিদা পূরণ করতে পারে সে বিষয়টি কল্পনা করতে হবে ।

অর্থাৎ আপনার কাছে যদি ২ লাখা টাকা থাকে তাহলে আরো দুইলাখ টাকা থাকলে আপনি হয়তো একটি গাড়ি কিনতে পারেন যাতে আপনার পরিবারের অনেক সুবিধা হবে ।

টাকা দিয়ে কি করা যায়, সেটা কল্পনা করে, টাকা জমানোর প্রেরণা বাড়াতে হবে ।

আপনি যে ভাবে জীবন যাপন করতে চান তার জন্য মাসে বা বছরে আপনার কত টাকা প্রয়োজন তা হিসাব করতে হবে । ফিনান্সিয়াল জিম এর প্রেসিডেন্ট ম্যাকলি বলেন, “আপনার মনের পর্দায় দেখতে হবে ঠিক কিভাবে আপনি আপনার জীবন কাটাতে চান, আপনাকে বের করতে তার জন্য কত টাকা দরকার, তাহলে আপনি ধারনা পাবেন মাসে আপনার কত টাকা জমাতে হবে ।”

সঞ্চয়ে থাকতে হবে জবাবদিহিতা:
সঞ্চয় শুরুর সময় থেকে যে কোন একজনকে (যার কথা আপনি শুনবেন)বিষয়টি জানিয়ে রাখতে হবে । যাতে সময় সময় তিনি এ বিষয়টি খায়াল রাখেন এবং আপনাকে সঞ্চয়ে করার বিষয়টি মনে করিয়ে দেন ।

এমন ভাবে খরচ করুন যেন আপনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন । ফিনান্সিয়াল জিম এর প্রেসিডেন্ট ম্যাক লি বলেন, “চাকরি ছেড়ে দেয়ার আগে খরচ কমালে আপনার দুটো উপকার হবে একটি হল আপনি বুঝতে পারবেন কিভাবে কম টাকায় জীবন চালাতে হয় আরেকটি হল আপনার সঞ্চয় বাড়বে ।” ম্যাক লি বলেন, “সবসময় খাদ্য এবং ব্যাক্তিগত খরচে কমানোর একটা যায়গা সবসময় পাওয়া যায় ।”

সঞ্চয়কে সয়ংক্রীয় করুন। আপনার ব্যাংক একাউন্টে এমন ব্যাবস্থা করুন যাতে টাকা আসার সাথে সাথে একটি অংশ আপনার সেভিং একাইন্টে চলে যায় । সটা যদি আপনার বেতনের ৫ শতাংশও হতে পারে ।

বিশেষজ্ঞ ও কনেল বলেন একটি অনলাই সেভিংস একাউন্ট থাকতে হবে । সঞ্চয় করা টাকা সেভিংস একাউন্টে থাকলে আপনার প্রয়োজনে আপনি টাকা তুলতে পারবেন । সঞ্চয় করা টাকা কোন দীর্ঘ মেয়াদী হিসাবে না রাখাই ভাল কারণ তাতে আপনার তারল্য কমে যেতে পারে ।
সেভিংস একাউন্টে রাখার সুবিধা হল আপনি কিছু সুদ পাবেন আবার তারল্য ঠিক থাকবে কিন্তু টাকাটা ক্রেডিট কার্ডের মত যখন তখন খরচ করে ফেলা যাবে না । সঞ্চয় বাড়াতে হলে আয় বাড়াতে হবে । পার্টটাইম চাকরী করে আয় বাড়ানো যেতে পারে অথবা আপনার বর্তমান চাকরিতে বেতন বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন ।

আয় বাড়লে সঞ্চয় বাড়ান । যখন আপনার আয় বেড়ে যাবে । আপনাকে তখন সঞ্চয় আরো বাড়াতে হবে ।সবসময় আপনার সঞ্চয়ের লক্ষ্য মাত্রাকে বাড়িয়ে নিতে হবে।

সব সময় হিসাব রাখতে হবে আয় খরচ এবং সঞ্চয়ের। দরকার হলে ব্যাবহার করতে হবে কম্পউটার সফটওয়্যার ।

আয়, খরচ এবং সঞ্চয়ের নিয়ন্ত্রণ রাখতে হলে সব কিছুর রেকর্ড রাখা দরকার মনে রাখতে হবে সঞ্চয়ের নিয়ন্ত্রন মানে জীবনের নিয়ন্ত্রণ ।