ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

সন্ত্রাসের সলিল সমাধি

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সকালটা যেমন ভয়ংকর বা আতঙ্কের ছিলো, ২০১১ সালের ২ মে এর সকালটা কিন্তু ততটা আতঙ্কের বা স্বস্তির ছিলোনা। ২০০১ সালে আল-কায়েদার বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার বিধ্বস্ত হয় আর ২০১১ সালের ২ মে সারা পৃথিবীতে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী।

যে মানুষটাকে খোঁজার জন্য একটা যুদ্ধ (আফগানিস্তান যুদ্ধ) হলো, একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে (সাদ্দাম হোসেন) ধরে ফাঁসি পর্যন্ত দিয়ে গেলেও যে সন্ত্রাসীকে দুই দুই বার ক্ষমতায় থেকেও ধরতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, সেই দুর্ধর্ষ ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের ইসলামাবাদের কাছে মার্কিন বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন এবং পরবর্তীতে তার লাশ সাগরে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শান্তির নোবেল বুঝি এবার স্বার্থক হলো। মার্কিনরা এবার বুঝি শান্তিতে ঘুমুতে পারবে। কিন্তু বিন লাদেন নিহত হবার ঘটনা সেভাবে আলোড়িত করলো না আমাকে। ৯/১১ এর পর দীর্ঘ ১০ বছরে বিন লাদেনকে ধরতে অসংখ্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে কিন্তু তার প্রতিটিই ব্যর্থ হয়েছে। আফগানিস্তানে তালেবানদের পতনের পর কিংবা ইরাকে সাদ্দাম হোসনের ফাঁসির পর মনে হয়েছিলো শীঘ্রই বুঝি ধরা পড়বেন বিন লাদেন। কিন্তু মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক ব্যর্থতায় ধীরে ধীরে ধূসর মানবে পরিণত হচ্ছিলেন ওসামা বিন লাদেন। তাই এতদিন পর লাদেনের মৃত্যুর খবর আর কতইবা স্বস্তিদায়ক হবে, যেখানে এই দশ বছরে পৃথিবীতে আরও দশ হাজার সন্ত্রাসী জন্ম নিয়েছে।

বিন লাদেনের লাশ দাফন না করে আফগানিস্তান থেকে সাগরে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। লাশ ভাসিয়ে দেয়ার পেছনে যুক্তি ছিলো যাতে তার সমাধিস্থল সন্ত্রাসীদের জন্য মাজারে পরিণত না হয়। কিন্তু এই আল-কায়েদা এবং ওসামা বিন লাদেনকে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রই অর্থ, অস্ত্র এবং প্রশিক্ষন দিয়েছিলো ১৯৮০ এর দশকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যদি ভেবে থাকেন ওসামার লাশ ভাসিয়ে দিয়ে সন্ত্রাসকে তিনি সলিল সমাধি দিয়েছেন তবে আগামীতে হয়তো ভুলের জন্য নোবেল পেতে পারেন তিনি।

আজকে লিবিয়ায় যে যুদ্ধ চলছে, পাকিস্তান, ইরাক, আফগানিস্তান, কাশ্মীর, ফিলিস্তিনে যে অস্থিরতা চলছে সেই যুদ্ধ, সেই অস্থিরতা আগামীতে আরও ওসামা বিন লাদেন কিংবা তার চেয়েও ভয়ংকর কারো জন্ম দেবে। শান্তি-ই শান্তি ডেকে আনে, যুদ্ধ বা আগ্রাসন নয়। শান্তির জন্য নোবেল পাওয়া এবং বিন লাদেনের মত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে সলিল সমাধি দেয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা নিশ্চয়ই তা বুঝবেন।