ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

বারাক ওবামা স্পেশাল শো!

প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে বারাক ওবামা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর বিশ্ববাসী ভেবেছিল এবার বুঝি শান্তি এলো। শান্তির পায়রা উড়িয়ে ওবামাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও দেওয়া হলো। কিন্তু বিশ্ববাসীকে পরিবর্তনের জোয়ারে ভাসাতে পারলেন না মিস্টার প্রেসিডেন্ট।

প্রথমে লিবিয়ায় বিরোধীদের সহায়তা এবং ‘গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার নামে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে আগ্রাসন চালালেন। এরপর পাকিস্তান সরকারকে কিছু না জানিয়েই ইসলামাবাদের অ্যাবোটাবাদে আক্রমণ চালিয়ে আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করা হলো। যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দীর্ঘদিনের বন্ধু পাকিস্তানের ‘সহেনা যাতনা’ অবস্থা হলেও নানাবিধ চাপের মুখে প্রথমে দায়িত্বশীল কেউ মুখ না খুললেও ধীরে ধীরে পাকিস্তানের ঊর্ধ্বতন সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তা এবং রাজনীতিবিদেরা যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানান।

ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপট ঘুরে যায় অনেকটাই। ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তোড়জোড়ে কিছুটা ভাটা পড়ে। মনোযোগ নিবদ্ধ হয় পাকিস্তানের দিকে। ধর্মগত দিক থেকে দুটো রাষ্ট্রই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাই যুক্তরাষ্ট্রের ভীতিও বেশি। কবে জানি আবার আক্রমণ করে বসে মুসলিম জঙ্গিরা, যে জঙ্গিবাদকে আবার একসময় যুক্তরাষ্ট্রই পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।

এ ধরনের তপ্ত বিতর্কের মধ্যে সর্বশেষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেই ফেললেন, ‘প্রয়োজন হলে অ্যাবোটাবাদের মতো অভিযান আরও চালানো হবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে।’ তবে তারা পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল কিন্তু তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে তারা বিনা নোটিশেই আক্রমণ চালাবে। অনেক রাখঢাক রেখেও ওবামা শেষ পর্যন্ত আর পারলেন না, তিনিও তার পূর্বসূরিদের মতো হুমকির সুরেই কথা বলা শুরু করলেন।

অবশ্য এর জবাবে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ সুজা পাশা বলেছেন, পাকিস্তানে মার্কিন ড্রোন বিমান হামলা বন্ধ না হলে তার উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে।

সবকিছু মিলিয়ে এখন বিশ্ব রাজনীতিতে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমকে ঘিরে তর্কবিতর্ক এবং মার্কিন আগ্রাসনের পরবর্তী সম্ভাব্য স্থান হিসেবে পাকিস্তানকেই বিবেচনা করা হচ্ছে। এই সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিনীদের সঙ্গে তর্ক করে আসা ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ একটু জিরিয়ে নেয়ার সুযোগ পেলেন।