ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

যুবায়ের-আমরা খুন হই, আমরাই খুন

আমরা নাকি জাতির ভবিষ্যত। আমাদের দিকে নাকি চেয়ে আছে দেশ ও জাতি। ছোটবেলা থেকে শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পড়তে এটাও শিখেছি জনগনের ট্যাক্সের টাকায় পড়ছি, জনগনকে তো এর বিনিময়ে কিছু দিতে হবে। কিছু ঋন তো শোধ করতে হবে।

কিন্তু কোথায় কি? কিছু দেবার সময় যখন এলো তখন আমরা খুন হয়ে যাই। আমরা কেউ খুন হই আর কেউ সেই খুনের বোঝা মাথায় নিয়ে জেল খাটি নয়তো পালিয়ে বেড়াই। অনার্সের শেষ পরীক্ষা যেদিন শেষ করলো যুবায়ের, সেদিনই বন্ধুদের হাতে রাজনীতির পুরোনো হিসাবের মাশুল হিসেবে জীবন দিতে হলো তাকে। তারপর সিন্ডিকেটের সভা বসলো। সভায় যুবায়ের হত্যার অভিযোগ মাথায় নিয়ে ৭ জনকে আজীবন বহিষ্কার আর ৬ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো। বিচার শেষ!

আমরা খুন হলাম, আমরাই খুনী!

হ্যা। আমরা রাজনীতি করেছি। আমরা খুন করেছি। আমরা খুন হয়েছি। আমাদের বহিষ্কার করুন, ফাঁসি দিন। তারপর? ক্যাম্পাসে কে থাকবে? ক্যাম্পাস কে চালাবে?

যুবায়ের বলতে গেলে বিনা চিকিৎসায় মারা গিয়েছে। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আহত ছেলেটা সঠিক চিকিৎসা পায়নি। রাত দশটায় যখন মুমুর্ষ ছেলেটাকে আইসিইউ তে নেয়া হয়, তখন তার শরীরে আর বেঁচে থাকার মত রক্ত থাকেনা। যুবায়েরের বন্ধুরা রক্ত ঝরিয়েছে। কিন্তু এই রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যেতো, ছেলেটাকে বাঁচানো যেতো। যদি নিরাপত্তা কর্মকর্তা, প্রক্টর, উপাচার্য একসাথে ঘুমিয়ে না থাকতেন।

ক্যাম্পাসের লেকে মাছ ধরার খবরে যে নিরাপত্তা কর্মকর্তা রবিন হুডের মত মোটরসাইকেল চালিয়ে হাজিন হন চোখের পলকে। একটা ছেলেকে পিটিয়ে পিটিয়ে প্রায় মেরে ফেলা হলো, আর সেই রবিন হুডের কোন দেখা পাওয়া গেলোনা। প্রক্টর বললেন, ক্যাম্পাসের সবার খোঁজ রাখা নাকি তার পক্ষে সম্ভব না। তাহলে কি লেকের মাছগুলোর চেয়ে আমাদের জীবনের দাম কম? আমাদেরকে ইজারা দেয়া যায়না, বাজারে বেচা যায়না তাই বলে কি আমাদের দাম কম?

মোটেই না। আমাদের ইজারা দেয়া না যাক, বাজারে বেচা না যাক, আমাদের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ‘অভিভাবক’ কে শিক্ষাথীদের অবরোধ থেকে মুক্ত করে আনতে পারি আমরাই!

তাই আমাদের লাঠিয়াল বানানো হয় বন্ধুকে আঘাত করার জন্য। আমাদের রাজনৈতিক কর্মী বানানো হয়, বন্ধুকে পিটিয়ে লাশ বানানোর জন্য।

আর যারা বানান তারা উপাচার্য হিসেবে বহাল তবিয়তে আমাদের বহিষ্কার করেন। প্রক্টর থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে প্রভোস্ট হয়ে থাকেন এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তা থেকে এস্টেট কর্মকর্তার আরামের পদে পদোন্নতি পান।

আমাদেরকে খুন করার অপরাধে যদি আমাদের ছাত্রত্ব বাতিল করে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়, তাহলে এর সাথে জড়িত শিক্ষকদের শিক্ষকত্ব বাতিল করে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হোক।

না হলে এদের হাতে আবারো আমরাই খুন হবো, আমরাই খুনী হবো।