ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি জ্ঞান সংগ্রহের জন্য ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক ‘এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা তাদের ছাপানো সংস্করণ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করলো। প্রিন্ট সংস্করণ বন্ধ করে শুধু ডিজিটাল সংস্করণে যাওয়ার মূল কারণ আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার প্রায় ৪ হাজার প্রিন্ট কপি রয়েছে। এটি শেষ হলে নতুনভাবে আর কোনও সংস্করণ প্রকাশ করা হবে না। ১৭৬৮ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরা থেকে সর্বপ্রথম এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার প্রথম ছাপানো সংস্করণ প্রকাশ হয়।

এটা একদিকে যেমন সূর্যাস্ত তেমনি সূর্যোদয়ও বলা যেতে পারে। সূর্যাস্ত হচ্ছে ছাপাখানার জন্য আর সূর্যোদয় হলো ছাপাখানা ছাড়াই ছাপা হওয়া অনলাইন মিডিয়ার জন্য। অনলাইন মিডিয়া বা যাকে এখন আখ্যায়িত করা হচ্ছে ‘নিউ মিডিয়া’ হিসেবে একের পর এক চমক দেখিয়েই চলেছে। ‘আরব বসন্ত’ কিংবা জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জের উইকিলিকসের কথাই ধরুন। রাজনীতির পাঠ উল্টোপাল্টে ক্ষমতার মসনদ কাঁপিয়ে দিয়েছেন কয়েকজন ব্লগার! সরকার টিকে থাকতে পারেনি সেই কম্পনে। ধসে পড়েছে সিংহাসন। আরব বসন্ত মনে হয় প্রথম চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলো নতুন গণমাধ্যমের (নিউ মিডিয়া) সূর্যোদয়ের আলোকছটা।

এরপর জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জের উইকিলিকস। মূলত গোপন তথ্য চুরি করাটাই উইকিলিকসের কাজ ছিলো। কিন্তু তার ফলে উপকার হয়েছে জনসাধারণের। রাজনীতিবিদ, আমলা, কূটনীতিকদের মনের সোজাসাপ্টা কথা তারা কিছুটা জানতে পেরেছেন এর মাধ্যমে।

আমাদের দেশেও নতুন গণমাধ্যমের প্রভাব লক্ষণীয়। সংসদের দেয়া কোন নবীন সাংসদের জ্বালাময়ী বক্তৃতা, সমাবেশে মুখ ফসকে বেফাঁস কথা বলে ফেলা নেতার কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা কিংবা ভিকারুননিসা স্কুলের ছাত্রীদের আন্দোলন এখন বাংলা ব্লগ, ফেসবুক, ইউটিউবের মত বিকল্প মাধ্যমে সর্বত্র সম্প্রচারিত হচ্ছে। সরকার তো বটেই কখনো কখনো মূল ধারার গণমাধ্যমের মুখে চপেটাঘাত করছে নতুন গণমাধ্যম। মূল গণমাধ্যমে অন্যদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা সাংবাদিককে প্রশ্নের মুখোমুখি করছে বিকল্প গণমাধ্যম।

আর এভাবেই অনলাইন ভিত্তিক এসব মিডিয়া ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত, অতিদ্রুত। সময় এবং খরচা বাঁচিয়ে এর উদ্যোক্তারা যেমন পাঠকদের চাহিদা মেটাতে তৎপর, তেমনি পাঠকরাও এখন সকালে কাগজে ছাপা খবরকে মোটামুটি পুরনো বলেই গণ্য করা শুরু করেছেন। তাই এই সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময়ে আপনি উদীয়মান সূর্যের সাথী হবেন নাকি অস্তগামী সূর্যের পেছনে ছুটবেন সেই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের তথ্য প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ।