ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

এদেশের গণমানুষের আশা ছিল ২০০৮ সালে আওয়ামি লীগ ক্ষমতা গ্রহণ করার পর মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে ।এক্ষেত্রে প্রথম দিকে তিনি বেশ সফলতাও দেখিয়েছেন ।তবে বিভিন্ন কারণে বর্তমান সময়ে সরকার বা সরকার দলীয় লোকজনের কর্মকাণ্ডে মানুষ খুশি নয় । মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা দেয়ার ঘোষণা শিক্ষক সমাজের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর গভীর শ্রদ্ধার সাক্ষর বহন করে এতে কোন সন্দেহ নেই ।তবে সরকার বা সরকার দলীয় লোকজনের দ্বারা একের পর এক শিক্ষক নির্যাতন আপনার কৃতিত্বকে মারাত্মকভাবে ম্লান করছে এটাও সত্য ।

কিছুদিন আগে রেজিস্টার প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকুরি জাতীয়করণের দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের জলকামান, লাঠিচার্জ পরিণতিতে একজনের মৃত্যু জনমনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে । সেই ক্ষত না সারতেই আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি ইনস্টিটিউটের দুজন প্রবীণ অধ্যাপক তাদের ছাত্র-ছাত্রী ও বাসচালকসহ মারাত্মকভাবে লাঞ্ছিত হলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার আওয়ামি লীগ নেতার হাতে ।অধ্যাপক দুজন তাদের ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে কাপ্তাই থেকে মাঠের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ শেষে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন ।রাঙ্গুনিয়া আসতেই সৃষ্টি হল শিক্ষক নির্যাতনের আরও একটি কালো অধ্যায় ।অধ্যাপক দুজনের দোষ ছিল তারা তাদের বাসটি থামিয়ে কেন ঐ নেতার মটর বাইককে ওভারটেক করার মতো অপরাধ করার সুযোগ দিলেন না ।আর এতেই সুচরিত্রবান আওয়ামি লীগ নেতা তার সন্ত্রাসী দল নিয়ে হামলা করলেন ।মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে চাই যেদুজন অধ্যাপক লাঞ্ছিত হলেন তাদের হাতে গড়া শত শত ছাত্র আজ বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা বিশেষ করে বনবিভাগের ।তারা জাতির উন্নয়নে যে অবদান রেখেছেন তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ।আজ এমন দুটি মানুষের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় আমি নিজেকে নিবৃত্ত রাখতে পারিনি, বারবার বিবেকের কাছে প্রশ্নবাণে ধ্বংসিত হচ্ছি আর কতজন শিক্ষক নির্যাতনের পর তাদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত হবে?

আব্দুল্লাহ আল মামুন
ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়