ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ‘১১ বিকেলে বাংলা নিউজের সৌজন্যে ঢাকা শহরে বিএনপির শোডাউন দেখলাম। অনলাইন সংস্করিত এ পত্রিকাটির একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে ঢাকা শহর যেন এক আতংকের নগরীতে পরিনত হয়েছে। মিছিল আর যানজটে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারন নাগরিকদের। হায়রে শান্তি! শেখ হাসিনা যখন বিশ্বশান্তি কায়েমে ব্যস্ত তখন তার নিজের ঘরের এ বেহাল অবস্থা দেখে আকাশের চাঁদও যেন লজ্জায় ম্রিয়মাণ হয়ে যায়। যেখানে সুপার পাওয়ার দেশ গুলো সহ সারা বিশ্ব বর্তমান অর্থনৈতিক রেসিসান থেকে কেটে উটার জন্য মরিয়া হয়ে লড়ছে সেখানে আমাদের দেশের মহান নেতারা হরতাল বিক্ষুবের মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি টাকা ধংশ করে দিচ্ছেন নিছক দলীয় স্বার্থে। বেশ কিছু দিন আগে বিএনপি আহুত হরতাল পালিত হওয়ার সময় একটি প্রথম শ্রেণীর জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানী রিপোর্টে দেখেছিলাম এক দিনের হরতালে ক্ষতি হয় প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। ভাবা যায়! আমদের রাজনীতিবিদরা কি একবারো ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখেছেন সেই এরশাদ সাহেবের আমল থেকে আজকের আওয়ামি শাসনামল পর্যন্ত হরতালের মাধ্যমে দেশের কতো বিলিয়ন-বিলিয়ন টাকা নষ্ট করেছেন শুধুই “ক্ষমতা” নামক বস্তুটির জন্য। মানুষের জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি বা সমস্যার কথা না হয় বাদই দিলাম, সেই পুরনো আমল থেকে অধ্যাবদি হরতাল ডেকে অর্থনৈতিক ভাবে দেশকে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে তা থেকেও যদি আমাদের রাজনৈতিক নেতারা বিরত থাকতে পারতেন তাহলে দেশ আজ সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়ার কাতারে দাঁড়াতে পারত বলে আমার বিশ্বাস। যে দেশের নেতারা কেবলই গলাবাজিতে ওস্তাদ, গনতান্ত্রিক অধিকারের নামে হরতাল বিক্ষোভের মাধ্যমে দেশে অরাজকতার সৃষ্টি করে ও জাতীয় সম্পদ বিনষ্ট করে দিয়ে গনতান্ত্রিক সরকারকেই উচ্ছেদ করতে চায় কিংবা সরকার নিজেও যখন স্বীয় স্বার্থে লুকুছুরি খেলেন নিরীহ জনগনের সাথে, সেখানে শান্তিকামী মানুষের শান্তিতো কেবলই যেন সোনার হরিণ।

ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকার সম্পর্কে বিরুধী দলীয় নেতাদের কিছু সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে আলোকপাত করবো। এর মধ্যে নজর পড়লো বাংলা নিউজের আরেকটি আপডেটিং সংবাদের উপর। সংবাদটির শিরোনাম হচ্ছে – “সমাবেশে খালেদার এক গুচ্ছ ওয়াদা।” অর্থাৎ গতকাল বিএনপি আয়োজিত পল্টন সমাবেশে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জনগনের উদ্দশ্যে বলেছেন তাঁর দল আবার ক্ষমতায় গেলে তিনি সব সমস্য সমাধান করে ফেলবেন। তিনি ওয়াদার বরাত দিয়ে আরও বলেছেন, দেশে দুর্নীতি থাকবেনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে, স্বার্থ রক্ষা করে গ্যাস ও কয়লা উত্তলনের ব্যবস্থা করা হবে, জিনিস-পত্রের দাম ক্রয়ক্ষমতার আওতাধীন থাকবে, না খেয়ে মানুষকে মরতে হবেনা ইত্যাদি ইত্যাদি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জনগনের জন্য কঠিন সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার দৃঢ়তার কথা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

যততুকু জানি গর্জন নেতা হিসেবেই খ্যাত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির যেখানে প্রায় সময় ডিজিটাল আন্দোলনের কথা বলে বেড়ান সেখানে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রির মুখে বস্তা পচা এক গাঁদা ব্যাকডেটেড ওয়াদা শুনে আমার সাড়ে চার বছরের মেয়ের পোষা বেড়ালটাও না হেসে পারেনি।

আচ্ছা, আপনারা যারা রাজনীতি করেন তারা কি কেবল নিজেদেরকেই মহা জ্ঞানী পণ্ডিত মশাই মনে করেন! জনগন কি এতই বোকা! আর কতো ধুকাবাজির খেলা খেলবেন! দু দুবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আপনার ছেলের হাওয়া ভবনের রসালো কীর্তি এখনো মানুষের মুখে মুখে। আজ আপনি পল্টনের মহা সমাবেশে দাঁড়িয়ে যে সব সমস্যা সমাধানের কথা বলছেন ওগুলো আপনাদের আমলেরই ফসল। আজ রসাতল সমাজের পরতে পরতে যা দেখা যাচ্ছে তাতো কেবল তাঁর ধারাবাহিকতা মাত্র। এতটা দীর্ঘ সময় মসনদে থাকার পরেও নেতিবাচক কোন দিকের বিষদাঁত ভাংতে পারেননি। অথচ বিরুধী শিবিরে থেকে এখন আপনি সরকারকে ছি ছি করছেন, অর্থনৈতিক মন্দার কথা বলে অর্থমন্ত্রীকে ভিক্ষুক বলছেন, রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর নামে মিথ্যে বলা সহ সরকারকে অসংখ্য অভিযগের কাটগরায় দাঁড় করিয়ে জনসমাবেশে বেশ মুখরোচক কথা মানুষকে শুনিয়েছেন। মাসতুতো ভাই জামায়াতের ব্যাপারে সাপাই গাইতেও ভুল করেননি।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যিনি কঠিন অঙ্গিকারের কথা ব্যক্ত করেছেন তাঁর কথাতো বিশ্বাস না করে উপায় নেই। কিন্তু খটকা এখানেই, দু দুবার প্রধানমন্ত্রীত্বর গদিতে আসীন থেকেও যিনি সমস্যার “স” সমাধান করার পথ ঊণ্মূচোন করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি কোন যাদুকরী মন্ত্র বলে পুনর্বার ক্ষমতায় পৌঁছেই সকল সমস্যা এক ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেবেন! এর মাজেজা কী? কথাবার্তার ধরণ দেখে মনে হলো আমাদের মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে আলাঊদদীনের চেরাগ আছে!