ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

গত কদিন আগে উঠতি বয়সের এক তরুনের সঙ্গে আমার এক পরিচিত বন্ধুপত্নির অর্ধ নগ্ন ছবি সম্বলিত বেহাল্লাপনা প্রেম লীলা জাতীয় রসালো ও নোংরা মন্তব্য বিনিময় ফেসবুকে দেখতে পেয়ে খুব মর্মাহত হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ফেসবুকের এসব অনাচার ও নেতিবাচকতা নিয়ে কিছু লিখা প্রয়োজন। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা আমার প্রতি যথেষ্ট সদয় নয় বলে তা আর হয়ে উঠেনি। সামাজিক মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করলেও এর ভেতরে আমি খুব বেশি একটা ডুব দেইনা বা দেয়ার খুব বেশি একটা আবশ্যকতাও খুঁজে পাইনা। আজ বিকেলে অনেকটা আনমনা ভাবে ফেসবুকে নজর দিলে সহসাই দৃষ্টি পিছলে পড়ে একটি ছবির উপর। ছবিটা দেখে হৃদয়ের ভেতর কেমন যেন একটা কামড় দিয়ে উঠলো। এও কি সম্ভব! মানুষ, মানবতার কি কোন বালাই নেই আমাদের মধ্যে? সভ্যতার তলোয়ার দিয়ে সভ্যতাকেই যেন বলি দেয়া হচ্ছে এ ডিজিটাল যুগে। গুহা যুগের পশুত্বের বলয় থেকে যেন এখনো আমরা বেরিয়ে আসতে পারিনি।

একটা ছবি। ফেইক ছবি। ছবিটা আর কারো নয়। আমাদের মতো এক দুর্ভাগা দেশের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার। বিরোধী দলীয় নেত্রীর বড় পুত্র তারেক রহমানের আইডি ব্যবহৃত ফেসবুক থেকে ছবিটা প্রচার করা হয়েছে। বুকের অর্ধাংশ অনাবৃত সম্পন্ন জঘন্যতম এ ছবিটির বর্ণনা দিলেও যে বড্ড অপরাধী ও পাপি হতে হবে। তাই সে ব্যাপারে আমি অগ্রসর হবনা। যে ছবিটি পোষ্ট করেছে তাকে শুধু আক্ষেপ আস্ফালন করে বলব, ধিক তোকে, ধিক তোর জন্মকে। তুই শেখ হাসিনার শত্রু, খালেদা-তারেকের শত্রু, তুই মানুষ ও মানবতার শত্রু । মানুষ নামের কলঙ্কিত এক জানয়ার তুই। আল্লহ তোকে হেফাজত করুন!

ছবিটির শেয়ারকারি অনেকেই বিভিন্ন রকমের মন্তব্য করেছেন। কেউ নোংরা মন্তব্যের মাধ্যমে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে চেয়েছেন, কেউ এর তীব্র বিরুদ্ধাচারন করেছেন কেউবা ভাল গুগত মন্তব্য করেছেন। তারেক জিয়াকে নিস্পাপ নিরপরাধ হিসেবে তুলে ধরতে গিয়ে কেউ কেউ ভারতীয় স্পাই “র”কে এ কুকর্মের হোতা বলে মন্তব্য করেছেন।

ছবিটি যেহেতু তারেক রহমানের আই ডি সম্বলিত ফেসবুক থেকে বেরিয়ে এসেছে সে প্রেক্ষাপটে আমরা তাকেই দায়ি করতে পারি। হয়ত তিনি নিজে করেছেন অথবা অন্য কাউকে স্বীয় আইডি ব্যবহারের মাধ্যমে যা’চ্ছে তাই করার অনুমতি দিয়েছেন। যদি তিনি নিজে কিংবা কাউকে দিয়ে এ রকম হীন ও জঘন্যতম কাজ করিয়ে তার মাতৃসম মহিলাকে খাটো করার মাধ্যমে নিজের সার্থকতা খুজে পাওয়ার চেষ্টা করে থাকেন তাহলে তা শুধু তার নিজের জন্য নয় সমস্থ দলের জন্যই কবর রচনা করার মত কাজ তিনি করেছেন। তবে এ কথাও সত্য তার মত একজন লোক কি করে এ ধরনের একটি ন্যক্কারজঙ্ক কর্মে লিপ্ত হতে পারেন তাও কোন অবস্থাতেই বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে সায় পাওয়া যায়না। যে বিন্দু পরিমান হিতাহিত জ্ঞান রাখার ক্ষমতা রাখে তার পক্ষে এহেন অশ্লিল কাজে লিপ্ত হওয়া মোটেও সম্ভব নয়। যুক্তির খাতিরে যদি ধরে নেই যে তারেক জিয়া এ কাজ করেননি কিংবা অতি উৎসাহি কেউ তার অজ্ঞাতে ফেইক ফেসবুক আইডি বানিয়ে এ ধরনের কোন অশ্লীল ন্যক্কারজনক কাজ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তিকে নষ্ট করার একটা নষ্ট উপায় বেছে নিয়েছে তার পরো এ কথাতো বলতেই হবে সে যেই হোক অন্তত পক্ষে আওয়ামী বলয়ের কেউ নয়। আওয়ামীলীগ ত দুরের কথা, দেশ ও জাতির প্রতি যার বিন্দু পরিমান মমতা ও শ্রদ্ধাবোধ আছে তার পক্ষে এ রকম একটা হীন অশ্লীল কাজ বেছে নেয়া সম্ভব নয়।

আজ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যে নগ্ন খেলার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হল, তাকে পদাঙ্ক করে কেউ যদি বিরোধী দলীয় নেত্রীকে নিয়েও একই খেলা খেলেন তাহলে অবাক হয়ার মতো কিছুই থাকবেনা। ঢিলটি মারলে ত পাটকেলটি খেতেই হয়। তাছাড়া, আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে যতোটুকু শালিন বা শরিফা বলে ভাবা যায়, দেশের অন্য কোন নেতা বা নেত্রীর মধ্যে এতোটুকু শরিয়তের ছোঁয়া মেলানোটাই ভার। তাকে নিয়ে অশ্লিলতা রচনা করতে যেহেতু কুলাঙ্গারদের বুক কেঁপে উঠেনি তাই অন্য কাউকে নিয়ে এ খেলায় মেতে উঠলে কারো কিছু বলার থাকবেনা। এতে সমাজ কোষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হবে, পচন দশা বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রী তো দুরের কথা, একজন সাধারন নাগরিকের চরিত্র বা শ্লীলতা নিয়ে ব্যঙ্গ করার এখতিয়ার কারো নেই। কোন সচেতন লোকই এ জঘন্যতাকে সমর্থন দিতে পারেনা। তাই এ ধরনের একটা ন্যাক্কারজঙ্ক কাজের মাধ্যমে যে একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর অশ্লীলতা ফুটিয়ে তোলার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা করেছে সে যেই হোক তাকে কঠিন বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানো শুধু সরকারের নয় প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। একজন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন মন্ত্রী প্রধান, সরকার প্রধান, জনগনের শীর্ষ মনি। ফেইস বুকের মতো একটি নন্দিত সামাজিক নেটওয়ার্কে তার ফেইক ছবি দিয়ে তাকে নিয়ে এভাবে অশ্লীল খেলা খেলে যে দৃষ্টতা দেখিয়েছে তা শুধু আমাদের প্রধানমন্ত্রীর জন্যই মান হানিকর নয়, সমস্থ জাতির জন্যই কলঙ্ক ও লজ্জা। জাতিকে কলঙ্ক ও লজ্জামুক্ত করতে হলে এ কলঙ্ক ঘটানোতে পঠিয়ষী কুলাঙ্গারকে খুজে বের করে যথাযত বিচারের মাধ্যমে দেশে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে হবে যাথে করে পরবর্তীতে এ ধরনের উন্মাদনায় মত্ত হতে কেউ সাহস না পায়। এসব অনৈতিক কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে সমাজে ভারসাম্য বজায়ে রেখে একে সুস্থ ধারায় এগিয়ে নিতে হলেও ওদের বিষ দাঁত ভেঙ্গে দিতে হবে। অন্যথায় অসভ্য ইতরের শৃঙ্কলে সমাজ, দেশ ও জাতিকে বন্দি থেকে কেবল নিস্ফল কান্নাই করে যেতে হবে, আর কিছু নয়।