ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

অনলাইনে ঢুকে বাংলানিউজ পড়ছিলাম। প্রচ্ছদ পাতায় একটি ফিচার জাতীয় লেখার উপর নজর পড়লো। শিরোনাম – “একটি উদ্ভাবন”। আমার মতো হয়ত অনেকের দৃষ্টি-ই ওটার উপর পড়েছে। তারপরো জনস্বার্থে বিষয়টার আরও বহুল প্রচার ও প্রসার প্রয়োজন। এ দিকটি বিবেচনায় এনেই বিডি ব্লগে লিখার আবশ্যকতা অনুভব করলাম।

আমাদের দেশে অনেক জ্ঞানী-গুণী পণ্ডিত ব্যক্তি আছেন। কিন্তু দেশ বা জাতি নিয়ে ভাবেন এরকম পণ্ডিত জ্ঞানী লোকের বড়ই আকাল। অনেকে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা বা বিভিন্ন প্রতিকুলতার দরুন ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও স্বীয় পাণ্ডিত্য জ্ঞান খাটিয়ে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হতে পারেননা। উন্নত বিশ্বে কোন প্রতিভাবান উদ্ভাবকের আবির্ভাব ঘটলে সরকারী পৃষ্টপোষকতায় তারা কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে যান। কিন্তু আমাদের দেশে এ ধরনের উদাহরণ নেই বললেই চলে। উল্টো নিজের জ্ঞানগরিমা বা প্রজ্ঞার মাধ্যমে কেউ নতুন কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম হলেও তাকে অনেক সময় আমন্ত্রিত হতে শ্রী ঘরের কর্তা কতৃক। জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত ব্যক্তিদের প্রতি সরকারের অনাদর কিংবা তাদের নিজেদের অনিহা বা প্রতিকুলতার দরুন আমাদের দেশ যখন প্রযুক্তির দিক থেকে অনেকটা দীনতায় ভুগছে ঠিক তখন শাহরিয়ার হোসেন নামে এক প্রকৌশলী আত্ম প্রকাশ করলেন বিদ্যুৎ সঙ্কটের ক্রান্তিকালে সমাধানের এক বিরল বার্তা নিয়ে।

জনগনের ভোগান্তি ও অনেক সমস্যার ভীরে বিদ্যুৎ সঙ্কট সরকারের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ এ কথা মাথায় এনে তিনি সমস্যা সমাধানের জন্য নিজেকে নিযুক্ত করেন। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ করার কথা ও ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আহবান জানিয়েছেন তা তাকে অনেকটা আলোড়িত ও উৎসাহিত করে যা তাকে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে সাফল্যের স্বর্ণ শিকড়ে।

শাহরিয়ার হোসেন লিখেছেন যে, দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার কথা চিন্তা করে আর প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের প্রতি শদ্ধা রেখে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন। বায়ুগতিবিদ্যা, ইলেকট্রিক্যাল, ম্যাকানিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক্স বিয়য়ে অনেক গবেষণার পর তিনি দেশিয় পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। যেটি এখন তিনি পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করছেন। তিনি উন্নত বিশ্বে ব্যবহৃত ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির পথ পরিহার করে আমাদের দেশের সমস্যার কথা মাথায় রেখেই বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গবেষণা করেন। এ কাজে হাত দিয়ে তিনি উপলব্ধি করতে পারেন যে ঢাকা শহরে ব্যবহৃত বায়ু বিদ্যুৎ যন্ত্র গুলো পর্যাপ্ত বাতাসের অভাবে প্রয়োজনীয় বিদ্যুত সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে তিনি অল্প বায়ু ব্যবহার করে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এক ধরনের যন্ত্র আবিস্কার করেন যা কিনা অল্প বাতাসে চলে এবং ২৪ ঘণ্টাই নুন্যতম ঘণ্টায় ১ কি মি গতিতে বাতাস দিয়ে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে তিনি আলো জালানোর জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে একটি ফ্যানও চালাতে সক্ষম হচ্ছেন। শুধু তাই নয় তিনি বিদ্যুৎ সাশ্রয়কারি বিশেষ এক ধরনের ফ্যান ও লাইট উদ্ভাবন করতেও সক্ষম হয়েছেন।

যেখানে কোন বিখ্যাত ব্র্যান্ডের ফ্যান চালাতে কমপক্ষে ৮৬ ওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় সেখানে মাত্র ১৮-২৪ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করে তার উদ্ভাবিত ফ্যান চালানো সম্ভব। লাইটের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যে কোন লাইট জ্বালাতে যেখানে কম করে হলেও ৬০ ওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন সেখানে তার উদ্ভাবিত লাইট জ্বালাতে ব্যয় হয় মাত্র ৭ ওয়াট বিদ্যুৎ। ফ্যান বা লাইট দুটোই বাজারে প্রচলিত সাধারন ফ্যান বা লাইটের মতোই বাতাস বা আলো সরবরাহ করে থাকে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে সাধারন ফ্যান ও লাইট জ্বালাতে যেখানে ৮৬+৬০= ১৪৬ ওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন সেখানে তার আবিষ্কৃত ফ্যান ও লাইট চালাতে মাত্র ২৪+৭=৩১ ওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন অর্থাৎ মাত্র একটি ফ্যান ও লাইটের ক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পরিমান দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১১৫ ওয়াট। তাই বিদ্যুৎ সঙ্কটের এ ক্রান্তিলগ্নে জনগনের স্বার্থে এ প্রযুক্তিকে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন কেবল সরকারের সুদৃষ্টি।

বিদ্যুৎ সমস্যা কোন নতুন সমস্যা নয়। যে কয়টি সমস্যা সরকারের ভাব মূর্তিকে নষ্ট করার জন্য দায়ী তন্মধ্যে বিদ্যুৎ সঙ্কট একটি। সরকারের অনেক রথী মহারথীরা এ সমস্যা সমাধানের কথা বল্লেও আমরা বাস্তব ভিত্তিক সঠিক বা সফল কোন কার্যকরী পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। এ রকম একটি আকাল সময়ে জনাব শাহরিয়ার হোসেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন বিষয়ক উদ্ভাবিত প্রযুক্তিকে “চৈত্রের খরায় যেন আষাঢ়ের ঢল” বলেই অভিহিত করা যায়। এ ঢলকে ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে সরকার ও জাতি দুয়ের জন্যই হবে অমঙ্গল।

এক্ষত্রে আমরা মনে করি, জনাব হোসেনের প্রযুক্তিকে সরকার পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করে পর্যবেক্ষণে রাখতে পারেন। যথার্থ ফলপ্রসু মনে হলে সরকার এ প্রযুক্তিকে হস্তক্ষেপ করে নিজ দায়িত্তে পরিচালনার মাধ্যমে এর সুফল জনগনের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে বাড়াতে পারেন তাদের ক্রেডিবিলিটি।

উদ্ভাবক মিঃ শাহরিয়ার হোসেন বিষয়টির উপর আলকপাত করতে গিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আমরাও তার সাথে সুর মিলিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো বিষয়টি কারো উপর গা ছাড়া ভাবে ছেড়ে না দিয়ে তিনি নিজে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় এনে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন। কে জানে, হালে বিদ্যুৎ সমস্যার ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তি হতেও তো পারে এক মিরাকল সমাধান।