ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

কান্নার মধ্যে কোন সমাধান নেই। মৃত্যুত্তর এ মায়া কান্নার কোন দাম আছে বলে মনে হয়না। কই! এ আবেগ, এ কান্না কোথায় লুকিয়ে ছিল এতদিন! হ্যাঁ, রাজ্জাক সাহেবের মৃত্যুর পর চ্যনেল আইয়ের একটি অনুষ্ঠানে পীর হাবীবকে কাঁদতে দেখা গেল। বেশ আবেগময়ী কান্না। শুধু কান্নাই নয়, জোরেসোরে সরকারকে দায়ী করে কিছু কথা বলতেও দেখা গেছে। মৃত্যু পরবর্তী এ কান্না, এ গলাবাজির কি ফায়দা! মরার আগে কাউকে তো দেখা যায়নি- একটু গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে সরকারকে বলতে, মূমূর্ষ রাজ্জাকের সঠিক চিকিৎসা আমরা চাই। অর্থাভাবে, চিকিতসার অভাবে যদি তার কিছু হয় আমারা সবাই থুথু ফেলাব সরকারের দেমাগি মুকুটে। দু’কলম লিখতে কাউকে দেখা যায়নি। পীর হাবীবের কোন লিখায় ফুটে উঠেছে কিনা জানিনা। আমাদের পরম শ্রদ্ধাভাজন লেখক জনাব আব্দুল গাফফার চৌধুরীকেও কখনো লিখতে দেখিনি। অথচ রাজ্জাক সাহেব লন্ডনের হসপিটালে চিকিৎসাধীন থাকা কালে বাংলাদেশ হাই কমিশনার সহ আরও অনেক নেতা মন্ত্রী তাকে এক নজর দেখার প্রয়জনিওয়তা উপলব্ধি করেননি। শেখ রেহানার আবাসস্তল থেকে খুব অদুরেই ছিল হসপিটালটি। অথচ তিনিও নিজেকে অদৃশ্য আড়ালে লুকিয়ে রেখে প্রশ্ন বিদ্ধ করেছেন। এসব হয়েছে আমাদের লেখক, সাংবাদিক কিংবা বুদ্ধজিবিদের নাকের ডগায়। সুতরাং আজ আর মৃত ব্যাক্তিতিকে নিয়ে মায়া কান্না করে কি লাভ!

আমি দেখেছি একজনকে। এক সাচ্চা ব্যাক্তি। মুসাহেবি নয়। চাটুকারিতা নয়। স্বীয় স্বার্থে কোন লেখা নয়। জনাব ফজলুল বারী। অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী সাংবাদিক। তিনি লিখেছেন ওই মহান ব্যাক্তিটির কথা। তার কলমের আচরে ফুটে উঠেছে রাজ্জাক সাহেবের চিকিৎসা বা হালহকিকতের কথা। গোড়াতেই তিনি সরকারকে চিকিতসার দায়ভার গ্রহনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। রাজনৈতিক ভাবে বা কমিউনিটি ভিত্তিক কিভাবে ফাণ্ড তৈরি করা যায় সে ব্যাপারেও তিনি তার লিখায় দিক নির্দেশনা দিয়েছেলেন। শেখ রেহানাকে হসপিটালে গিয়ে এক নজর দেখার অনুরোধ জানিয়েছেলেন। হয়ত তার এ নৈতিক উদারতায় সংস্কারবাদী দোষে দুষ্ট ভেবে যে সব ভীতসন্ত্রস্থ নেতা কর্মীরা অসুস্থ এ মহান নেতার জন্য কিছু করতে চেয়েও করতে পারছিলনা, তাদের অনেকেরই অন্ততপক্ষে সে ভয়টা কেটে যেতো।

শুধু তাই নয়, ফজলুল বারী সাহেব এই সেদিন মৃত্যু পথযাত্রি এ ব্যক্তিত্তকে মন্ত্রিত্ত প্রদানের জন্য শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানান। তিনি তাকে খালেদার মতো নিষ্ঠুর না হওয়ার আবেদন রেখে দেশ দরদী মৃত্যুমুখী এ সহজ সরল লোকটিকে শেষ সম্মান জানিয়ে জাতির পক্ষ থেকে উদার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আহবান জানিয়েছেলেন। কিন্তু আমাদের মহামান্য ক্ষমতাধর ব্যক্তি বৃন্দের ট্র্যাজেডি এখানেই, তারা স্বীয় স্বার্থ ব্যতিত অন্য সব কিছুতেই বধির।

আমরা জানি, Man is mortal. জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে! এসব চিরাচরিত তথ্য কথা আমরা সবাই জানি। মৃত্যু চিরন্তন সত্য, অবধারিত। প্রতিটি প্রান মাত্রেই মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করতে হয়। তারপরও এ মৃত্যু মানুষকে যাতনা দিয়ে কাঁদায়। জনাব আব্দুর রাজ্জাক, একজন নেতা, সংগঠক, মক্তিযদ্ধা এ ধরনের অনেক অনেক বিশেষণের পরো যা বলতে হয় তিনি হচ্ছেন একজন সাদামাটা ধরনের সাধারন মানুষ যিনি সর্বক্ষণ নিজেকে নিয়জিত রাখতেন সাধারন মানুষের কল্যানে। সহজ সাধারন মানুষের কল্যাণকামী এ সাধারন ব্যাক্তিটি আর নেই। কিছুক্ষন আগে তিনি এ লৌকিক জগতের তাবৎ মায়াবন্ধন ছিন্ন করে বড্ড অভিমানে পাড়ি জমিয়েছেন অজানার দেশে। ইচ্ছে করলেও সে দেশ থেকে তাকে আর ফিরিয়ে আনা যাবেনা।

এখন রাষ্ট্রপতি, প্রধান মন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা বানী দিচ্ছেন, শোক বানী। অনেকেই তাকে নিয়ে আত্মজীবনী মুলক বড় বড় গল্প লিখবেন। কেউ লিখবেন কবিতা। হয়তোবা রাষ্ট্রীয় সম্মান দিয়ে তোপ ধনির মাধ্যমে সমাধিস্থ করা হতে পারে। তার বর্ণ্যাড্য জীবনের কাহিনি আমরা সবাই কম বেশী জানি। সে কথা লিখে আমার লিখাকে কলেবর করতে চাইনা, শুধু এটুকু বলতে চাই; তিনি কয়েকবার এম পি ও একবার মন্ত্রী ছিলেন। ইচ্ছে করলে দুরনিতিবাজদের সাথে পাল্লা দিয়ে তিনিও টাকার কুমির হতে পারতেন। সে সুযোগ তিনিও পেয়েছেন বার বার। কিন্তু ন্যায় নীতি ও স্বচ্ছতায় সিদ্ধ এ মানব সে পথে পা বাড়াননি। আর তাইতো আজ তাকে সহায় সম্পত্তি বিক্রি করে কিংবা জলিল সাহেবের মতো বন্দধুদের সাহায্য সহযোগিতার শরনাপন্ন হয়ে বৈদেশিক চিকিৎসার খরচ সাম্লাতে হয়। যে ব্যক্তিটি সারা জীবন যুদ্ধ করে গেলেন মানুষের অধিকারের জন্য, তার নিজের অধিকারই আজ নির্বাসিত। কি দুর্ভাগা জাতি আমরা!

তাই পীর হাবীব জাতীয় লোকদেরকে সশ্রদ্ধ চিত্তে বলতে চাই, আর কান্না নয়, নয় কোন আবেগময়ী প্রলাপ। আল্লাহ আপনাদের প্রতিভা দান করেছেন, জনসমক্ষে স্বকীয়তা ফুটিয়ে তোলার জন্য মিডিয়া নামক অস্ত্রও আছে আপনাদের। সুতরাং এসবকে সঠিক কাজে লাগানোর দায়িত্ব আপনাদের। এতে কুকিলের মতো গান গেয়ে অন্যদের পেখম নাচিয়ে তোলার কৌশলও অবলম্বন করতে পারেন, যাতে করে আর কোন আব্দুর রাজ্জাককে এভাবে অবজ্ঞা, অনাদরের অনলে পুড়ে অচিনপুরের পথে যাত্রা করতে না হয়।