ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

বলি, দেশটায় এসব কি হচ্ছে! বলা নেই, কওয়া নেই, সহসাই আক্রমন। এভাবেতো দেশ চলতে পারেনা। একটি গনতান্ত্রিক সরকার যে কয়টি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে তার মধ্যে সংবাদপত্র একটি। যাদের আপ্রান প্রচেষ্টায় এ সংবাদপত্র বা সংবাদ মাধ্যম ঠিকে আছে তারা হলেন সংবাদকর্মী অর্থাৎ সহজ ভাষায় সাংবাদিক। যাদেরকে কিনা বলা হয়ে থাকে জাতির বিবেক। অথচ কি নিদারুন ভাবে এ জাতির বিবেক আজ পদে পদে নিপীড়িত, নির্যাতিত ও অপমানিত। কিন্তু কর্তা ব্যাক্তিরা কি একবারো ভাবেন যে, এ অপমান শুধুই নিগৃহীত সংবাদসেবিদের নয়, এ অপমান আমার, আপনার সমস্থ দেশ ও জাতির।

কয়েক মাস আগে সরকারের দুজন গুনধর মন্ত্রী সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে অপমান করেন। তাদেরকে দাওয়াত দিয়ে বাড়ীতে নিয়ে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছিলেন। সে বিষয়েও তৎসময়ে যথেষ্ট লেখালেখি হয়েছে সরকারের ওই মন্ত্রিদয়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু জাতি হিসেবে যেহেতু আমরা বধির সেহেতু এসব লেখালেখিতে কোন কাজই হয়না। যদি হতোই তাহলে এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি বারবার ঘটতনা।

মন্ত্রিদয়ের অপমান সাংবাদিকরা ভুলতে না ভুলতেই আবারো আঘাত প্রাপ্ত হতে হল সরকারের আরেক নামীদামী আইন প্রনেতা কতৃক। নিজের অপকর্ম ও দুর্নীতিকে ধামাচাপা দেয়ার অপপ্রয়াশে গত কদিন আগে এক সংসদ সদস্য ও তার নিয়ামক বাহিনী সাংবাদিকদের ধাওয়া ও নির্যাতন করেন। খোদ আইন প্রনয়নকারী এ ব্যাক্তিটি নির্লজ্জ ভাবে এক মহিলা সাংবাদিকের গায়ে হাত তুলে আইন হাতে তুলে নিতে দ্বিধাবোধ করেননি মোটেও। ধিক, ধিক তোমায় ললাটে কলঙ্ক তিলক লেপনকারী হে জনপ্রতিনিধি!

এ কলঙ্কের দাগ শুকুতে না শকুতেই এরই ধারাবাহিকতায় এক এস আই কতৃক নিগৃহীত হতে দেখা গেল আরেক সাংবাদিককে। অনলাইন ভিত্তিক খবরে প্রকাশ, দৈনিক সংবাদের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি জাহিদুর রহমান আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১টার দিকে সিটি কর্পোরেশন এলাকার কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (মহিলা) কেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহের জন্য নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে গেলে তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিঃ শফি। ফটো সাংবাদিক বৃন্দ এ ঘটনার চিত্র ধারন করতে গেলে তাদেরকেও কঠোর ভাবে বাধা দেয়া হয়। খবরে আরও প্রকাশ, কক্সবাজারে দায়িত্বে থাকা এ পুলিশ অফিসার কুমিল্লায় এসেছেন কেবলই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে।

প্রিয় পাঠক, আইনের পোশাক পরিহিত, আইন রক্ষায় দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যাক্তিটির দায়িত্ব পালনের নমুনার কথা আপনারাই এবার বিবেচনা করুন। ওরা জনগনের টাকায় বেতনভুক্ত কর্মচারী মাত্র। অথচ ওরা নিজেদের স্বার্থে কোন বেঘাত ঘটলেই যে কোন সম্মানী ব্যাক্তিদের সাথে যাচ্ছতাই ব্যাবহার করেন। সরকার যেহেতু বধির, অন্ধ বা স্বার্থের দোষে দুষ্ট তাই সাধারন জনতা বলতে আমরা যাদেরকে বুঝি তাদেরকে আরও বেশী সোচ্চার হতে হবে। সকল অপরাধ, ও অনৈতিকতার বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠ আওয়াজ তুলে সরকারের বধিরতা দূর করতে তাদের আরও বেশী অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে হবে।

সামান্য এ সরকারী চাকরকে কেবল দোষ দিয়েই বা কি লাভ! যারা সরকার পরিচালনা করছেন কিংবা সরকারের নীতি নির্ধারক তারাই যেহেতু এসব অপকর্মের সাথে সরাসরি লিপ্ত সেখানে তাদের অধস্থন যারা আছেন তারা একই কায়দায় গুরুদের অনুসরণ করবেন, সেটাই স্বাভাবিক। সে স্বাভাবিকতার (!) দেয়াল ভেঙ্গে অস্বাভাবিকতার দৃষ্টান্ত রচনা করবেন, সে সাধ্যি বা সাধ কতজনের আছে!

অবস্থা বেগতিক টের পেয়ে সাংসদ সাহেব কৃত কর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বটে। কিন্তু এ সাদামাটা দুঃখ প্রকাশের মধ্যে কতটুকুইবা যথার্থতা নিহিত থাকে। একজনকে মেরে পিঠিয়ে পঙ্গু বানিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেবেন কিংবা দুনিয়া ছাড়া করে দেয়ার হুমকি দিয়ে শুধুই দুঃখ প্রকাশ করে বেরাবেন তাতো হয়না। এর জন্য যথাবিহিত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। আইন সভার সদস্য হয়ে আইনকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে যাচ্ছেতাই করবেন, তা কি করে হয়! এসবের একটা রফাদফা হওয়া প্রয়োজন। আইন সভার আইন তৈরিকারী এ ব্যাক্তিটিকে আইনের আওতায় এনে তার উপর যতোপযুক্ত আইন প্রয়োগ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত বলেই আমরা মনে করি।