ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

বাংলানিউজে খবরটা দেখেই কিছুটা পুলক অনুভব করলাম। প্রচণ্ড খরায় ফসলাদি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার উপক্রম দেখা দিলে এক পশলা বৃষ্টি যেমন কৃষকের মনে নতুন প্রানের সঞ্চার ঘটায় ঠিক তেমনি এ সংবাদটাও আমার আশাহত হৃদয়ে অনেকটা আশার আলো জাগিয়ে তোলল। সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি নির্মম ও অমানবিক খুনের শিকার হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুনিদেরকে গ্রেফতারের ব্যাপারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেও দু সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে খুনিদের কেউ ধরা পরেনি। এতে সাংবাদিক সম্প্রদায় সহ সমাজের সর্বস্তরের লোকের মধ্যে বিরাট বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাঁরা নিরাশ হয়ে পুলিশ বিভাগ সহ সরকারের উপর ক্রমান্বয়ে আস্থা হারাতে থাকে। দোষীদেরকে খুঁজে বের করে তড়িৎ গতিতে বিচারের আওতাধীন আনার জন্যও বিভিন্ন নীরব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের উপর যথেষ্ট চাপ প্রয়োগ করে। এতে সরকার বাহাদুরের মানে লাগে। যার ফলে দু দিন আগে আমাদের সরকার প্রধান বেশ ক্ষোব্ধ হয়েই স্পর্শকাতর এ বিষয়টিকে নিয়ে বক্তব্য প্রদান করার প্রয়োজন(!) অনুভব করলেন। যা কেবল তার সহমর্মিতা ও কোমল হৃদ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, পত্রিকার খাবার হিসেবেও খোরমা-পোলাওয়ের কাজ করেছে। এ হত্যা রহস্য উদঘাটনে সরকার বেশ সৎ ও সদয় মনোভাবসম্পন্ন বলে জনগনের মনে যে একটা ইতবাচক ধারনা ছিল তাও তিরোহিত হল তার নিষ্ঠুর বচনে।

এমনি একটি মনমরা সময়ে বাংলানিউজের “সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডঃ ফতুল্লায় ব্লক রেইডে আটক ১ (আরও তথ্যসহ)” শিরোনামে সংবাদটি বেশ আশার সৃষ্টি করেছে। স্টাফ করেসপনডেন্ট-এর বরাতে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যায় জড়িত সন্দেহে রাজধানীর অদূরে ফতুল্লা থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গত বুধবার রাতে ব্লক রেইড দিয়ে সোনারগাঁও-এর মারুফদি গ্রামের ওই ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করে এবং তার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যার সাথে অন্যান্য জড়িত ব্যাক্তিদের ব্যাপারেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি প্রতিবেদককে জানায়। এও জানায়, আটককৃত ব্যাক্তি সাগর–রুনি হত্যাকাণ্ডের যে পূর্বাপর ব্যাখ্যা করেছে তার উপর ভিত্তি করে গোয়েন্দা পুলিশ গত তিন দিন যাবত বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেছে এবং মুল হোতাদের ধরার বিষয়ে বেশ ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

সন্দেহ নেই, সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে এ সংবাদটি মেঘাচ্ছন্ন আকাশে এক খণ্ড রোদের ঝিলিক। আশাহত হৃদয়ে ঝলকিত আশার আলো। এ সংবাদ যদি প্রকৃতপক্ষেই সত্য হয়ে থাকে এবং এর ধারাবাহিকতা বজায়ে রেখে সংশ্লিষ্ট বিভাগ উত্তরোত্তর সাফল্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে তবে পুলিশ প্রশাসন, ডিবি, র‍্যাব কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার উপর জনমনে যে ঘৃণা মিশ্রিত সন্দেহ দানা বেঁধে উঠেছে তা কিছুটা হলেও কেটে যাবে। এবং পাশাপাশি, সত্য বেরিয়ে আসলে নিহত সাংবাদিক দম্পতির ব্যাক্তি চরিতে যে কলঙ্ক কালিমা লেপিত হয়েছে তাও অনেকটা দূরীভূত হবে।

অবস্থার প্রেক্ষাপটে বলতেই হয়, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর নানা ধরনের সন্দেহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। নানা মুনির নানা মত। পেশাগত দায়িত্ব পালনে যে শত্রুতার সৃষ্টি হয়েছে, কেউ কেউ এটাকেই এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের কারণ বলে মনে করছেন। কেউ আবার এ হত্যাকাণ্ডকে নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছেন। কোন কোন মিডিয়াকর্মী রসালো কাহিনীর জন্ম দিয়ে তাদের ব্যাক্তি চরিত্র হনন করতেও পিছিয়ে নেই। এ সবই সম্ভব হচ্ছে একমাত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলা, গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার জন্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে ৪৮ ঘণ্টার কথা বলেছিলেন সে সময়ের মধ্যে যদি প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে বা খুনিকে গ্রেফতার করতে তাঁরা সক্ষম হতেন তাহলে আজ এ নিষ্ঠুর খুনকে নিয়ে যে রাবন কাহিনী সৃষ্টি হচ্ছে তা হতোনা।

সাংবাদিক দম্পতি খুন হওয়ার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশ বা তদন্তকারী কর্মকর্তারা যদি সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালনে ব্রত হতেন তাহলে আজ যে সব ব্যর্থতার দায়ে অভিযুক্ত হচ্ছেন তার অনেক কিছুই তাঁরা এড়িয়ে যেতে পারতেন। খুনিদের শনাক্ত বা পাকড়াও করতে যে সব ক্লু বা আলামতের প্রয়োজন তা সবই অস্পষ্ট বলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা বলে দিয়েছেন। কিন্তু এ ব্যর্থতা কার? তাঁরা ঘটনাস্থলে কি সাক্ষী গোপালের ভুমিকা পালন করার জন্যই গিয়েছিলেন কেবল। যা হোক এসব পুরনো কাসুন্দি আমি আর ঘাঁটতে চাইনা। শুধু এতোটুকু বলতে চাই, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো একটি জঘন্য, নির্মম ও স্পর্শকাতর হত্যারহস্য উদঘাটনে যে আশার আলো ঝলক দিয়ে উঠেছে তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিচক অনীহা, অবহেলা, কারসাজি বা কোন স্বার্থের দ্বন্দ্বে যেন নিভে না যায়। কারণ, এ খুনের হোতাদের দেখার জন্য জাতি কিন্তু অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

পুনশ্চ: লেখাটি যখন পোষ্ট করবো তখন বিডি নিউজ সহ আরও দুয়েকটি অনলাইন পোর্টালে দেখতে পেলাম সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মোটিভ বা কারণ পুলিশ জানতে পেরেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখানেই কোন তথ্য তাঁরা জানাতে পারছেননা। ভয় হয়। জনগণকে দমিয়ে রাখার জন্য কোন পরিকল্পিত কৌশল নয়তো? কামনা করি, আমার এ আশঙ্কা যেন সত্যি না হয়।