ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

bdnews24.com খুলেই চায়না-বাংলা সম্পর্কের নতুন জোয়ারে মন ভালো করা খবরে যখন ফোনস্ক্রিনটা টাচ করে আরো একটু নীচে নামলাম তখনই আমার ভালো মন উদ্বেগে ভরে উঠলো। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও রাবি’র দুই শিক্ষককে ফোনে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। এরকম খবরে মন ভালো থাকার তো কথা ছিলো না।

 

অহরহ ঘটে যাচ্ছে একই ঘটনা, একই অপরাধ। অথচ আমরা শান্তির কথা বলি। বলি, আমরা সভ্যকরণে গুরুজনে কতটা শ্রদ্ধাশীল। অথচ সেই গুণিজনকেই মেরা ফেলার হুমকি পাঠানো হচ্ছে আমাদের সামনেই, চাপাতির কোপে রক্তাক্ত হচ্ছে গুণিজনের রচনা।

 

দু’দিন আগেই বিশিষ্টজন অধ্যাপক আনু মুহাম্মাদকে থানায় বসা অবস্থায় ফোনে হত্যার হুমকি দেয়া হলো। এরও কয়েকদিন আগে অধ্যাপক আবুল কাসেমকেও হত্যার হুমকি দেয়া হলো। বরিশালে পুরোহিত ও শেরপুরে মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার হুমকি দেয়া হলো। ইমরাম এইচ সরকার ও কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপারকে হত্যার হুমকি দেয়া হলো মোবাইল ফোনে। রাবি শিক্ষক মাহুবুব আলম ও বিসিএসআইআর’র চার কর্মকর্তাকেও একইভাবে হত্যার হুমকি দেয়া হলো।

 

এরকমভাবে প্রায়ই আমরা পত্রিকার খবরে দেখতে পাই বিশিষ্টজনদের ফোনে হত্যার হুমকি দিয়ে চলেছে কোন এক কুচক্রী মহল। কিন্তু আমাদের প্রশাসন এই সব অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পারেনি কখনওই। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, মোবাইল ফোনে এরকম অপকর্ম বন্ধ করতেই সরকার বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল সিমকার্ড নিবন্ধন করলো, কিন্তু অপরাধীরা যে ভাবে অপকর্ম ঘটিয়েই যাচ্ছে তাতে দেখা যায় সরকারের এই প্রচেষ্টা বৃথাই তাদের কাছে।

 

আমরা এমন এক দেশে বসবাস করি যেদেশের সর্বোচ্চ গুণিজনেরা সবসময় আতঙ্ক নিয়ে দিন পার করেন। এই বুঝি নির্জনে কিংবা লোকালয়েই কেউ তার গলায় চাপাতি ধরে জানটা হিচড়ে বের করে নেয়। যারা দেশকে সভ্যতা ও উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন, যারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন, যারা দেশবাসীকে আলোর সন্ধান দিচ্ছেন তারাই হত্যার হুমকি মাথায় নিয়ে কতটা অসহায়ভাবে দিন পার করছেন, কেনোনা হুমকিদাতাকে তো আর প্রশাসন কিছুই করতে পারছে না কিংবা কোন গুণিজন হত্যার শিকারই যদি হয়ে যায় তবে হত্যাকারিকেও আমরা খুঁজে পাই না, প্রশাসন কিছুই করতে পারে না তাদের।   আফসোস! আমরা কতটা অসহায় গুটিকতক হুমকিদাতাদের কাছে, কি হবে এই ধরাধামে সভ্যতার বুলি কপচিয়ে যদি না আমরা সভতার মশালধারীকে একটুখানি নিরাপত্তার ছায়ায় রাখতে পারি?