ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

২০১২ সালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ নাকি ১৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে,আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের 13 বিলিয়ন ডলারের সিংহভাগ রেমিটেন্সের মাধ্যমে এবং এ নিয়ে সরকার সহ আমরা সবাই বেশ গর্বিত।

কিন্তু কিছু কথা তারপরও কিছু কথা থেকে যায়। মানুষ বিদেশে সবাইকে ছেড়ে আসে মনে এই আশা নিয়ে দ্রত কিছু টাকা জমাব তারপর দেশে ফিরে পরিবার পরিজন নিয়ে কিছু করে সুখে শান্তিতে কাটাব। এক কোথায় “উই আর ওয়েটিং ফর নেক্সট লাইফ”

বর্তমানে 75 লাখ থেকে 1 কোটি মানুষ প্রবাসে আছে বলে আমরা জানি, আসুন একটা হিসাব করে দেখি কী অবস্থা এই প্রবাসীদের
আমি যদি মোট প্রবাসী পরিমাণ 85 লক্ষ ধরি তবে

85 লক্ষ হিসাবে আমাদের মোট প্রবাসীদের আয়ের একটি হিসাব
মোট জনশক্তি (জন) 85 লক্ষ
মোট আয় (টাকায়) 112000 কোটি টাকা
জনপ্রতি মাসিক আয় (টাকায়) 10980 টাকা .

এই 85 লাখ মানুষের প্রথম 20% মানুষ কম করে হলেও মোট আয়ের 60% তারাই করে
মোট জনশক্তির 20% (জন) 17 লক্ষ
মোট আয় 60% (টাকায়) 67200 কোটি টাকা
জনপ্রতি মাসিক আয় 20% (টাকায়) 32941 টাকা

বাকি 80% মানে 68 লাখ মানুষের সম্ভাব্য আয়

মোট জনশক্তি 80% (জন) 68 লক্ষ
মোট আয় 40% (টাকায়) 44800 কোটি টাকা
জনপ্রতি মাসিক আয় 80% (টাকায়) 5490 টাকা

আমরা 1400 কোটি ডলার দেখে খুব খুশি, কিন্তু তাদের গড় আয় মাত্র 5 থেকে 10 হাজার টাকা কী হয় তাদের এই টাকা দিয়ে? বাংলাদেশে একজন দিনমজুর অথবা একজন রিকশাঅলার গর আয়ও আল্লাহর রহমতে এরচেয়ে বেশি. প্রবাসীরা কী লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে এই সপ্ন্ন নিয়ে আসে?
20-25 বছর বয়সে আসে বিয়ে করতে করতে 40 পেরিয়ে যায়, মা বলে ছেলের আমার বয়েস কম গরম দেশের পানি তো তাই চুলে পাক ধরেছে, এর পড়ে কখন যে সন্তান হলো বড় হলো নিজে বুড়ো হয়ে গেল আর বউ পথ চেয়ে চেয়ে বুড়ি হয়ে গেল টেরই পাওয়া যায় না। তারপরও কিছু দুর্নীতিবাজ ভি ও আই পি ব্যাবসাইর কারণে অল্প পয়সায় দেশে কথা বলতে পারছে বলে যোগাযোগটা অন্তত নিয়মিত হয়।

এখন আসেন কেন এমন হয়?
এর প্রধান কারণ সরকারের অবেবস্তাপনা এবং লোভী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলি প্রতারণা

আমাদের সরকারের প্রবাস নীতির বড়ই অভাব।
ওই দিন এক অনুষ্টানে আমাদের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বার বার হিসাব দিচ্ছিলেন মোট কতজন তার আমলে বিদেশে গেছে কিন্তু তিনি একটি বারোও বলেননি যে বিদেশে গিয়ে তারা কেমন আছে। সরকারের ভাবটা যেন এমন যে ভাবেই হোক দেশ থেকে তাড়াতে পারলেই হয় কমছে কম

* দেশের কিছু জনসংখ্যা কমে
* দেশের কিছু উত্পাদিত খাদ্য বাঁচে
* সর্বপরি ১০ হাজার হোক বা ৫ হাজার হোক তাতেই দেশের লাভ (বোনাচ)

আরেক দিন টিভিতে আমাদের বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর একটি কথা শুনেতো আতকে উঠলাম, তিনি প্রবাসীদের বলছেন

১ আপনারা যে টাকা পাঠান তা আপনার পরিবারের জন্যে সরকারের জন্যে নয়

২ বিদেশে থাকা অবস্তায় আপনাদের সিভিল রাইট এর বেপারে সরকারের কিছু করার নেই

এই যদি হয় আমাদের সরকারের মাইন্ড সেট আপ তবে তার অধীনেস্ত এম্বাছি গুলি কেমন উপকারের আসে প্রবাসীদের তা সহজেই অনুমেয়

এখন বলি লোভী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলি প্রতারণা নিয়ে

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলি 99.99% কৃতিত্ব দাবি করে জনশক্তি রপ্তানির , কিন্তু একবার ভেবেছেন জনশক্তি রপ্তানির নামে তারা কী করেছেন?

আজ মনে করেন একটি বিদেশী কোম্পানী ঠিক করে বাংলাদেশ থেকে 5000 শ্রমিক 900 রিয়াল বেতনে আনবে.

এই খবর যখন অন্য কোনও রিক্রুটিং এজেন্সি গিয়ে হাজির হয় আর অফার দেয় ভিসা গুলি আমাকে দেন আমি 500 রিয়াল বেতনে শ্রমিক এনে দিব,

আবার অন্য কোনও রিক্রুটিং এজেন্সি গিয়ে হাজির হয় ,ভিসা গুলি আমাকে দেন আমি 300 রিয়াল বেতনে শ্রমিক এনে দিব,

এরপরে আর একজন রিক্রুটিং এজেন্সি গিয়ে বলবে ভিসা যদি আমকে দেন তবে বেতন দিবেন 250, আর আমি (রিক্রুটিং এজেন্সি) আপনাকে (কোম্পানিকে) দিব ভিসা প্রতি 3000 রিয়াল, এর পড়ে শুরু হয় প্রতিযোগিতা কে কতো কোম্পানিকে দিবে কখন যে 3 হাজার 30 হাজার হয়ে গেল টের পেলাম না।

আর এই লোভী রিক্রুটিং এজেন্সি গুলি এই ভিসা দেশে এনে সহজ দেশের সরল মানুষকে কী বিভিন্ন ভাবে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে বিদেশে পাঠায়.

তাই সরকার সহ সংসিলিষ্ট সবাই মিলে অবিলম্বে একটি প্রবাস নীতি প্রণয়ন করা উচিত.

আর প্রবাসীদের কাছে অনুরোধ কমছেকম প্রবাসীদের ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলন জোরদার করুন,কারণ আপনার কাছে ভোট নাই তো এদেশের রাজনৈতিক নেতাদের কাছে আপনার এক পয়সার মুল্য নাই।