ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

অনুশোচনা!
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহ।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তাআলার জন্য। আমরা তাঁরই কাছে প্রার্থনা করি এবং তাঁরই সাহায্য খুঁজি । আমাদের প্রতিনিয়ত ভূলগুলোর জন্য আমরা তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ যাকে পথ দেখান কেউ তাকে ভূল পথে নিতে পারে না। এবং তিনি যাকে বিপথে নেন তাকে কেউ সঠিক পথে আনতে পারে না। নিঃসন্দেহে আমি নিজের মধ্যে এ বিশ্বাস রাখি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) তাঁর রাসূল। এবং আমি আরো বিশ্বাস করি নিশ্চয়ই হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আমাদের শেষ নবী এবং দুনিয়ার সবর্ শ্রেষ্ঠ মানুষ।

আসুন ক্ষণিকের জন্য একটু চোখ বন্ধ করে চিন্তা করি, মনে করার চেষ্টা করি সবর্শেষ কি ভূল আর পাপ আমরা করেছি। ভাবুন এই মাত্র কোন কাজে আপনি আল্লাহর অবাধ্য হলেন। ভাবুন কোন কাজটির জন্য আপনার নিজেকে দোষী মনে হচ্ছে। এবং নিজেকে জিজ্ঞেস করুন ঠিক কতক্ষণ আগে আপনি ভূল কাজটি করেছেন। ঠিক কোন মুহূর্তের কাজটি আপনার কাছে খারাপ মনে হচ্ছে। আর আমাদের ভাবনাগুলো প্রকাশে আমরা সবাই যদি সত্যবাদী হই তবে নিশ্চিতভাবে বলতে পারি এমন একজন কেউ পাওয়া যাবে না, যে বলবে না “আজকেই আমরা পাপ করেছি। ” আর হয়ত কেউ বলবে “এক ঘন্টাও হয়নি আমরা আল্লাহর অবাধ্য হয়েছি।” প্রকৃতপক্ষে এবং যা চরম সত্য , আমি এবং আপনি আমরা প্রত্যেকেই পাপী। দিনে ও রাতে আমরা পাপ করি আল্লাহর অবাধ্য হয়ে। আমাদের পাপ এখন ধ্রুব সত্য; আমরা করেই যাচ্ছি, করেই যাচ্ছি। আমরা আল্লাহর অবাধ্য হচ্ছি আমাদের কথায়, আমাদের দেখায়, আমাদের ব্যবহারে। আমরা পাপ করছি আমাদের হাত দিয়ে, আমাদের পা দিয়ে। আমাদের সমস্ত স্বত্তা পাপে পূণর্। ভাবুন প্রতিটা দিন আমাদের যায় এমন কিছু করে যা আমাদের করা উচিত না, এবং এমন কিছু না করে যা আমাদের করা উচিত। এরপরেও! এরপরেও, যা সবচেয়ে খারাপ, আমরা অনেকেই জানি না যে কোন কাজটি খারাপ, পাপ এবং কোনটি করলে আল্লাহ অসন্তূষ্ট হবেন। আমরা বুঝতেই পারি না আমরা কতটা ভুল করছি। পাপ এখন আমাদের নিত্যদিনের সংগী। আমাদের খাওয়া-দাওয়ার মত পাপও এখন আমাদের অভ্যাসের অংশ।

ইসলামের প্রথমভাগের কয়েকজন সাহাবী ( হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাথী বা সহচর) যারা তাবিঈনদের (তাবিঈনরা হচ্ছেন সাহাবীদের পরবতির্ ইসলামের দ্বিতীয় প্রজন্ম) দেখে গেছেন, তাদের মধ্য থেকে হযরত আনাস ইবনে মালিক(রাঃ) যখন তাবিঈনদের দেখলেন সাহাবীদের থেকে কেমন খাপছাড়া তখন তিনি তাদের কর্মকান্ডগুলোকে ভুল হিসেবে, পাপ হিসেবে অবহিত করেন। । তিনি বলেন তাবিঈনরা যেটিকে মনে করছে গোনা যায় না এমন একটি চুলের মত নগণ্য ভুল তিনি যদি নবীজির( সাঃ) সময়ে একাজগুলো করতেন তার মনে হত তিনি ধ্বংস হয়ে গেছেন। যদি আনাস ইবনে মালিক(রাঃ) ইসলামের দ্বিতীয় প্রজন্ম সম্পর্কে একথা বলেন, একবার চিন্তা করুন তিনি যদি এসময়ে আমাদের দেখতেন তাহলে কি বলতেন। তিনি কি বলতেন যখন দেখতেন আমাদের অনেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে না, আমাদের উপার্জনের কোনো না কোনো অংশ হারাম মিশ্রিত, যখন আমাদের বেশীরভাগই ছোটখাট নয় সবসময় বড় বড় পাপগুলো করে যাচ্ছে, ভাবুন একবার তিনি আমাদের কি বলতেন। চিন্তা করে দেখুন সাহাবীরা, এমনকি আমাদের নবীজিও (সাঃ) এসময়ের আমাদের দেখে হতাশ হতেন।

একজন সাহাবী যিনি অনেক দিন বেঁচে ছিলেন এবং যখন তিনি তার চারপাশের সমাজের পরিবর্তিত অবস্থা দেখলেন তিনি বলেন “আমি কোনো কিছুই ইসলামিক হিসেবে চিনতে পারছি না শুধু তোমাদের প্রার্থনাগুলো ছাড়া, এমকি তোমরা এটাও পরিবর্তন করছ। তোমাদের জীবন যাত্রা আমার চেনা নয়। ইসলামের অংশ হিসেবে তোমাদের চরিত্র, তোমাদের আবেগ, তোমরা যা করছ এবং যা করছ না সবই আমার অপরিচিত শুধু তোমাদের প্রার্থনা ছাড়া।” আজকে আমাদের যুগেও আমরা প্রার্থনার প্রাচ্যুযর্ লক্ষ্য করি। ওহ মুসলিম, এটা ভাবার এখনি সময় আমরা কিভাবে মুসলিম হিসেবে আমাদের জীবন-যাপন করছি, আল্লাহ আমাদের যে জীবন দিয়েছেন সে জীবনে আমরা কি করছি!

সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম একজন সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাস’রুদ(রাঃ) বলেন, একজন বিশ্বাসী তার পাপকে মনে করে পাহাড় সমান যার উপর সে বসে আছে এবং তার সর্বদা মনে হয় যেকোনো সময় তার পাপের পাহাড় ভেঙে পড়ে তাকে ধ্বংস করে দিবে। অন্যদিকে একজন মুনাফিক বা ভন্ডের উদাহরণ হচ্ছে যে তার পাপগুলোকে দেখে ভোঁ ভোঁ করে তার চারপাশে উড়ে বেড়ানো মাছিরমত। হাত নাড়া দিলেই তার পাপ উধাও হয়ে যাবে। একজন মুনাফিক তার পাপকে তুচ্ছ মনে করে। কিন্তু একজন বিশ্বাসী, মুমিন তার পাপকে অতিরঞ্জিত করে আরো বড় পাপ হিসেবে। একজন মুমিনের ভুল অবশ্যই একজন মুনাফিকের চেয়ে অনেক অনেকাংশে কম। তারপরো সে মনে করে তার পাপের পরিমাণ হচ্ছে পাহাড়সম। আসুন আমরা চিন্তা করে দেখি আমরা আমাদের পাপগুলোকে নিয়ে কি ভাবি? চার পাশে উড়ে বেড়ানো মাছির মত? নাকি পাহাড় সম বোঝাভাবি? এর মধ্যেই আমাদের ঈমানের, আমাদের সামগ্রিক বিশ্বাসের স্বরুপ নিহিত আছে। আপনি আপনার সম্পর্কে বুঝতে পারবেন।

ওহ মুসলিম! আমাদের নবীজি(সাঃ) আমাদের সামান্য ভুলগুলোর জন্য সতকর্ করেছেন। তিনি(সাঃ) বলেন, ছোট ছোট খারাপকাজগুলো জিরজিরে শুকনো ডালের মত যা অনেক্গুলোএকসাথে স্তুপে পরিণত হয়। এবং প্রকৃত পক্ষে এরকম একটি স্তুপ থেকে একটি শক্তিশালী আগুনের সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য তিনি, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আরো বলেন, যদি আল্লাহ তার বান্দাকে ছোট-খাট ভুলগুলোর কথা জিজ্ঞেস করেন, সেখানে তার আর কোনো আশা থাকবে না, আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তাআলার ক্রোধ থেকে সে বাঁচতে পারবে না।

তাহলে আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তাআলার এই ক্রোধ থেকে আমরা কিভাবে বাঁচতে পারি, আমাদের পাপগুলো থেকে আমরা কিভাবে পরিত্রাণ পেতে পারি? অবশ্যই এর থেকে পরিত্রাণের উপায় আছে। পবিত্র কোরআনে এবং হাদীসে অত্যন্ত গুরত্ব সহকারে এই বিষয়টির উপর জোর দেয়া হয়েছে। নবীজি(সাঃ) বলেন, ” আদম (আঃ) এর পুত্র (এ ক্ষেত্রে সমগ্র মানব জাতিকে বোঝানো হয়েছে) প্রত্যেকেই পাপী”। একমাত্র ফেরেশতারাই আল্লাহর অবাধ্য নয়। আপনি যদি পাপ না করেন অথার্ৎ মানুষরা যদি পাপ না করত তাহলে তারা ফেরেশতা হয়ে যেত। এটা মানুষের পক্ষে কখোনই সম্ভব না এমন একটা স্তরে পৌঁছানো যখন সে নিজেকে পরিপূণর্ শুদ্ধ হিসেবে দাবি করতে পারবে। মানুষ মাত্রই ভুল। এটা সত্যি এবং এজন্যই নবীজি(সাঃ) বলেন, ” আদম (আঃ) এর পুত্র (এ ক্ষেত্রে সমগ্র মানব জাতিকে বোঝানো হয়েছে) প্রত্যেকেই পাপী”। যদি তাই হয়, আমরা সবাই যদি পাপী হই, তার মানে কি আমরা সবাই এক। অবশ্যই না! সব পাপীই সমান নয়, আমাদের পাপের অনেক মাত্রা বা স্তর আছে। নবীজি (সাঃ) এক্ষেত্র গুরুত্ব দিয়ে বলেন “পাপীদের মধ্যে সেই উত্তম যে অনুশোচনা (তওবা) করে।” অথার্ৎ তওবা করাই ( অনুশোচনা করা, আল্লাহর কাছে আমাদের ভুলগুলো স্বীকার করা, ক্ষমা চাওয়া) হচ্ছে আমাদের পাপগুলো থেকে পরিত্রাণের, আমাদের আত্মাকে শুদ্ধ করার একমাত্র উপায়। তওবা ছাড়া অন্য কোনো পথ বা সমাধান নেই।

ওহ মুসলিম! এজন্য যখন খুশি বা নিজের মনের মত তওবা করা আমাদের জন্য নয়; সর্বদা তওবা করা প্রত্যেক মুসলিম নরনারীর জন্য একটি বাধ্যতা মুলক কাজ। প্রতিনিয়ত অনুশোচনা করা দরকার কারন আমরা সবাই জানি আমরা পাপী। কোনো না কোনোভাবে আমরা আল্লাহর অবাধ্য হয়েছি, হচ্ছি। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। ওহ মুসলিম! আমাদের পাপ্গুলো মুছে, আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের একমাত্র উপায় হচ্ছে তওবা করা। আমাদের ভুলগুলো স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। যার জন্যই আল্লাহ পবিত্র কোরাআনে আমাদের আদেশ করেন,

“মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।” (২৪ঃ ৩১)
“মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ তা’আলার কাছে আন্তরিকভাবে তওবা কর।” (৬৬ ঃ ৮)

তারমানে আপনার আন্তরিকতার উপর ভিত্তি করে অনুশোচনার বিভিন্ন স্তর রয়েছে। উপরের আয়াতে সত্যিকার ভাবে অন্তর আল্লাহর থেকে ক্ষমা চাইতেই বলা হয়েছে। আপনার অন্তরে আপনার পাপগুলোর জন্য অনুশোচনা জাগ্রত করুন। আপনার দ্বারা সম্ভব সবর্োচ্চ উপায়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। ওহ মুসলিম! তওবা করা প্রত্যেক মুসলিম নরনারীর জন্য অবশ্য কর্তব্য এবং আল্লাহর নবীগণ সবর্দা তওবা করতেন। আপনি কি জানেন না আমাদের নবীদেরকেও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হত। আমাদের আদি পিতা হযরত আদম(আঃ) আল্লাহর কাছে তওবা করেছিলেন তার ভুলের জন্য। আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তাআলা হযরত আদম(আঃ) কে ক্ষমা করেছিলেন, এবং অবাধ্য ইবলিস শয়তানকে কাফিরের অন্তরভুক্ত করেছিলেন । হযরত নূহ (আঃ), হযরত মূসা (আঃ), হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এবং অন্যান্য নবীরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেতে লজ্জিত ছিলেন না। ওহ মুসলিম! আমাদের প্রিয় নবীজি(সাঃ) যদি দিনে শতবার তওবা করে থাকেন (বুখারী) , তাহলে একবার ভাবুন আমাদের দিনে কতবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। যিনি (সাঃ) সকল সমালোচনার উর্দ্ধে তিনি(সাঃ) আমাদের আমাদের পাপগুলো মার্জনার উপায় দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। অনুশোচনা করা, অন্তরে পাপবোধ জাগ্রত করা, আলাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া আমাদের জন্য বাধ্যতামুলক, অবশ্যকর্তব্য(ফরজ)। যে কিনা কোর’আন এবং হাদীস পড়ে সেই জানে আল্লাহ কতোনা ক্ষমাশীল। আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তাআলা আমাদের তওবা করতে নিদর্েশ করেন এবং পবিত্র কোরাআনে তিনি তাঁর মহত্বের কথা আমাদের কথা আমাদের জানানঃ

“তিনি তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন পাপসমূহ মার্জনা করেন এবং তোমাদের কৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।” (৪২ঃ ২৫)
“অতঃপর যে তওবা করে স্বীয় অত্যাচারের পর এবং সংশোধিত হয়, নিশ্চয় আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।” (৫ঃ৩৯)
“তারা আল্লাহর কাছে তওবা করে না কেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে না কেন? আল্লাহ যে ক্ষমাশীল, দয়ালু।” ( ৫ঃ৭৪)
“কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তত করে এবং দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (২৫ঃ৭০)
“আর তোমরা নিজেদের পালনকর্তা সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর। অনন্তর তাঁরই প্রতি মনোনিবেশ কর।”( ১১ঃ৩)
“তিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে।” (৩৩ঃ৭১)
“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।” (৩ঃ১০২)

 
প্রকৃতপক্ষে আল্লাআহ সুবহানাল্লাহ তাআলা মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমশীল। ওহ মুসলিম! আসুন আমরা আমাদের অন্তর দিয়ে, অন্তরের গভীর থেকে আমারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। এমন কোনো পাপ নেই তিনি ক্ষমা করেন না। আমরা সকলে সবসময় আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ প্রার্থনা করি। তওবা সম্পর্কিত কয়েকটি হাদীসে কুদ্সীঃ (হাদীসসমূহের মধ্যে এমন কতগুলো হাদীস রয়েছে যেগুলো আল্লাহর নবী (সাঃ) নিজ জবানে বর্ণনা করলেও তা মহান আল্লাহ তায়া’লার নামে বিবৃত হয়েছে। যেমন – ‘আল্লাহ তায়া’লা বলেছেন’ কিংবা ‘মহান আল্লাহ তায়া’লা বলেন’ এভাবে উল্লেখ হয়েছে। হাদীস শাস্ত্র বিশারদ – মুহাদ্দিসদের কাছে এগুলো ‘হাদীসে কুদসী’ নামে পরিচিত।)

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- তোমাদের প্রভূ বলেছেন, “সকলে আমাকেই ভয় করবে। কারণ, আমিই এর যোগ্য; এতএব আমার সাথে আর কাউকেও যেন উপাস্য স্থির করা না হয়। অনন্তর যে আমার সাথে আর কাউকেও উপাস্য স্থির করবে না, তাকে আমি ক্ষমা করে দেয়া কর্তব্য মনে করি।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- কোন মুসলমান বান্দা যখন ‘লা -ইলাহা ইল্লাল্লাহু‘ (আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই) বলে, তখন তা আকাশসমূহ ছেদন করে যায়, এমনকি তা আল্লাহর সম্মুখে গিয়ে পৌছে। আল্লাহ্‌ তখন বলেন, “স্থির হও”, তখন এটা বলে, “আমি কিরূপে স্থির হব- আমি যার দ্বারা উচ্চারিত হয়েছি এখনও তাকে মাফ করা হয়নি”। আল্লাহ তখন বলেন, আমি তোমাকে সে লোকের জিহ্বা দ্বারা পরিচালিত করিনি যাকে তার আগ মুহুর্তে মাফ করে দেইনি।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ বলেছেন, “হে আদম সন্তান! যতক্ষন পর্যন্ত তুমি আমাকে ডাকতে থাক এবং আমার আশা পোষণ করতে থাক সে পর্যন্ত আমি তোমাকে মার্জনা করতে থাকি, তোমার যত পাপই হোক না কেন। আর আমি কোন ভয় করি না। হে আদম সন্তান! যদি তোমার পাপরাশি আসমান পর্যন্তও পৌছে, তারপর তুমি আমার কাছে মাফ চাও, আমি তোমাকে মাফ করে দিই এবং আমি কাউকে গ্রাহ্য করি না।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান মর্যাদাশালী আল্লাহ বলেছেন, “হে আদম সন্তান! যে পর্যন্ত তুমি আমার উপাসনা কর এবং আমার কাছে কামনা কর, আর আমার সাথে কোন শরীক না কর, সে পর্যন্ত আমি তোমার সকল পাপ মার্জনা করে দেই। আর তুমি যদি আকাশসমূহ ভরা অপরাধ ও পাপ নিয়ে আমার দিকে এগুতে থাক, আমিও অনুরূপ ক্ষমা নিয়ে তোমার দিকে এগিয়ে আসি এবং তোমাকে ক্ষমা করে দেই। আর আমি সকল পরিণামের ঊর্দ্ধে।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান ও পরাক্রান্ত আল্লাহ্‌ বলেন, “যে লোক কোন ভাল কাজ করে তার জন্য ওর দশগুন এবং তার চেয়েও বেশি পুরস্কার রয়েছে। আর যে লোক কোন খারাপ কাজ করে, এর প্রতিদান ওর সমপরিমান কিংবা আমি তা ক্ষমা করে দেই। আর যে লোক আমার সাথে কোন কিছু শরীক না করে পৃথিবী সমান পাপ করে তারপর আমার সাথে সাক্ষাত করে, আমি তাকে ওর সমপরিমাণ মার্জনা করে থাকি। আর আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দু’হাত অগ্রসর হই। যে লোক আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি দ্রুত পায়ে তার দিকে অগ্রসর হই।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান মর্যাদাশীল আল্লাহ্‌ বলেছেন, “যে লোক জানে যে, আমি যাঁবতীয় গুনাহ মাফের অধিকারী, তাকে আমি মাফ করে দেই। আর আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক না করা পর্যন্ত আমি কারো কোন দোষ ধরি না।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- বান্দা যখন বলে, “হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রতিপালক!” আল্লাহ তখন বলেন, “হে আমার বান্দা! আমি উপস্থিত আছি। তুমি চাও, তুমি যা চাইবে তোমাকে তাই দেয়া হবে।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ বলবেন, “যে লোক কোন একদিন আমাকে স্মরণ করেছে বা কোন এক স্থানে আমাকে ভয় করেছে, তাকে দোযখের অগ্নি থেকে বের কর।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ্‌ বলেছেন, “আমার বান্দা যখন আমাকে নিভৃতে স্বরণ করে, আমিও তাকে নিভৃতে স্মরণ করি। আর সে যখন আমাকে কোন মজলিসের মধ্যে স্মরণ করে, আমিও তাকে এমন এক মজলিশের মধ্যে স্মরণ করি, যা তার সেই মজলিশের চেয়েও উত্তম- যাতে সে আমাকে স্মরণ করেছিল।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ্‌ বলেন, “আমার প্রতি বান্দার যে ধারণা রয়েছে আমি তার সাথে থাকি। সে যখন আমাকে স্মরণ করে আমি তখন তার সাথেই থাকি।” রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “আল্লাহর কসম! তোমাদের তওবা করায় আল্লাহ্‌ সেরূপ আনন্দিত হন, মরুভূমিতে হারিয়ে হারিয়ে যাওয়া প্রাণী খুজে পেলে তোমরা যেরূপ আনন্দিত হও। আমার দিকে যে এক বিঘত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। আমার দিকে সে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক গজ অগ্রসর হই; আর সে যখন আমার দিকে পায়দলে অগ্রসর হয়, আমি তখন দ্রুতবেগে তার দিকে অগ্রসর হই।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ্‌ এক বান্দাকে দোযখে প্রবেশ করানোর আদেশ দেবেন। সে যখন দোযখের প্রান্তদেশে উপনীত হবে, তখন পিছু ফিরে তাকবে এবং বলবে, “আল্লাহর কসম! ‘হে প্রতিপালক! তোমার সম্পর্কে আমার কি ভাল ধারণা ছিল না? তখন মহান প্রতাপশালী আল্লাহর বলবেন, “তাকে ফিরিয়ে আন। কারণ, আমি আমার বান্দার ধারণার সাথে অবস্থান করি।” আল্লাহ্‌ তাকে ক্ষমা করে দেবেন।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান ও পরাক্রান্ত আল্লাহ্‌ বলেন, “আমি আমার প্রতি আমার বান্দার ধারণার সাথে আছি। আর আমাকে যখন সে স্মরণ করে, আমি তখন তার সাথেই অবস্থান করি। সে যদি আমায় মনে মনে স্মরণ করে, আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করি। সে যদি আমাকে কোন এক সম্প্রদায়ের মধ্যে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে ওর চেয়েও উৎকৃষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে স্মরণ করি। সে যদি আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তার দিকে আমি একহাত অগ্রসর হই। সে যদি আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, তবে তার দিকে আমি এক গজ অগ্রসর হই। আর সে যদি আমার দিকে পায়দলে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে আগাই।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- তোমাদের মহান ও পরাক্রান্ত প্রতিপালক বলেছেন, “একটি ভাল কাজ করলে দশটি পূন্য লেখা হয় আর একটি খারাপ কাজের জন্য একটি পাপ লেখা হয়, অথবা আমি তা মাফ করে দেই। আর যে লোক পৃথিবী পরিমাণ পাপ নিয়ে আমার সাথে দেখা করে তাকে আমি পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে দেখা দেই। আর যে লোক একটি পূর্ণ কর্ম করার সংকল্প করে, কিন্তু তখনও তা সম্পন্ন করেনি, আমি তার জন্য একটি সওয়াব লিখি। আর যে লোক আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই, আর আমার দিকে যে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক গজ এগিয়ে আসি।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ্‌ হযরত দাউদ (আ) -এর প্রতি প্রত্যাদেশ পাঠালেন, “আমার ইয্‌যত ও জালালের কসম! আমার এরূপ কোন বান্দা নেই, সে আমার সৃষ্টজীবকে ছেড়ে আমায় আঁকড়ে ধরে আমার আশ্রয় অবলম্বন করে, বরং আমি তার নিয়তের দ্বারা তা জানতে পারি, তখন আকাশসমূহ ও তাতে যা কিছু রয়েছে এবং পৃথিবী ও তাতে যা কিছু রয়েছে সবাই মিলে তাকে প্রতারণার জালে আটকিয়ে ফেলে। কিন্তু এর মধ্য থেকে আমি তার পরিত্রাণের পথ প্রশস্ত করে দেই। আর এরূপ কোন বান্দা নেই যে, সে আমাকে ত্যাগ করে কোন সৃষ্টির আশ্রয় নেয়, আমি তার নিয়ত অভিপ্রায় দ্বারা তা জানতে পারি, বরং আসমানের সমস্ত পন্থা তার সামনে কেটে ফেলি। আর তার বাসনাকে তার পায়ের তলে দৃঢ়ভাবে বেধে রাখি। আর এরূপ কোন বান্দা নেই, যে আমার আদেশের আগেই তাকে অনুগত করা না হয়। চাওয়ার আগে আমি তাকে দান করি। আর আমার কাছে মাফ চাওয়ার আগেই আমি তাকে মার্জনা করে দেই।”

সূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ্‌ বলেন, “আমার যে বান্দা আমার দিকে দু’হাত তুলে ধরে তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে আমি শরম পাই।” ফেরেশতাগন আরয করেন, “হে আমাদের প্রতিপালক! সে এর উপযুক্ত নয়।” মহান আল্লাহ বলেন, “কিন্তু আমি তো তাকওয়া ও মার অধিকারী।” আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রাখছি যে, নিশ্চয়ই আমি তাকে মার্জনা করে দিয়েছি।

সূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- মহান আল্লাহ্‌ বলেছেন, “আমি অত্যন্ত করুণাময় ও মহান ক্ষমাকারী। এটা অসম্ভব যে, আমি একজন মুসলমান বান্দার (পাপ-সমূহ) পৃথিবীতে গোপন রাখব, অতঃপর তার সে সব অসদাচরণ প্রকাশ করে তাকে অপদস্ত করব। আমি আমার বান্দার পাপ মার্জনা করতে থাকি যে পর্যন্ত সে মাফ চাইতে থাকে।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- নিশ্চয় কোন বান্দা পাপ করে, অতঃপর বলে, “আমার প্রতিপালক! আমি পাপ করেছি, আমাকে ক্ষমা করুন।” তখন তার রব বলেন, “আমার বান্দা কি জানে যে, তার এরূপ একজন প্রতিপালক আছেন, যিনি তাকে ক্ষমা করেন এবং তার ডাকে সাড়া দেন?” তিনি বলেন, “আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম।” তারপর যতদিন আল্লাহ চান ততদিন সে পাপ করা থেকে নিবৃত থাকে। তারপর সে পাপ করে এবং বলে, “হে আমার রব! আমি আরও একটি পাপ করে ফেলেছি, আমায় আপনি ক্ষমা করুন।” তখন তার রব বলেন, “আমার বান্দা জানে কি যে, তার এরূপ একজন প্রতিপালক আছেন যিনি পাপ মার্জনা করেন এবং তার ডাকে সাড়া দেন? সুতরাং নিশ্চয় আমি তাকে মাফ করে দেই। অতঃপর সে তার ইচ্ছেমত আমল করুক।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- রক্ষণাবেক্ষণকারী উভয় ফেরেশতার মধ্যে এমন কেউ নেই, যে হেফাযতকৃত বিষয় গুলো আল্লাহর কাছে উঠিয়ে নিয়ে যায়, অতঃপর তিনি তার প্রথম পৃষ্ঠায় লিখিত পূণ্য দেখে এবং শেষের পৃষ্ঠায়ও পূণ্য দেখে বরং মহান আল্লাহ্‌ ফেরেশতাদেরকে বলেন, “তোমরা সাক্ষী থাক। আমি আমার বান্দাকে উভয় পৃষ্ঠার মধ্যখানে যা কিছু ত্রুটি আছে সব ক্ষমা করে দিয়েছি।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- এক ব্যক্তি নামাজে যত ছিল। সে যখন সেজদা দিল, তখন আরেক জন আগমন করল এবং তার ঘাড়ে আরোহন করল। নিচের জন বলল, “আল্লাহর কসম! কখনও আল্লাহ্‌ তোমাকে মাফ করবেন না।” তখন মহান ও মর্যাদাশালী আল্লাহ বললেন, “আমার বান্দা তখন আমার কসম করে বলেছে যে, আমি আমার বান্দাকে মাফ করব না। অথচ অবশ্যই আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহ কসম! অমুককে আল্লাহ্‌ ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ্‌ বললেন, “কোন একজন আমার নামে কসম করে বলে যে, আমি অমুককে ক্ষমা করবো না? নিশ্চয়ই আমি অমুককে মাফ করে দিয়েছি এবং তোমার সত্য কর্ম নষ্ট করে দিয়েছি।”
মুসলিম এ হাদীসটি হযরত জুনদুব (রা) থেকে সংগ্রহ করেছেন।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- এক লোককে দোযখ থেকে বের করে আনা হবে। তারপর তার মহান রব তাকে বলবেন, “আমি যদি তোমাকে দোযখ থেকে নিষ্কৃৃতি দেই, বিনিময়ে তুমি আমাকে কি দেবে? সে বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার কাছে যা চাও তোমাকে আমি তাই দেব।’ তখন আল্লাহ বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলছ। আমার ইযযতের কসম! আমি তোমার কাছে এরূপ বস্তু চেয়েছিলাম যা এর চেয়ে সহজ, অথচ তুমি আমাকে তা দাওনি। আমি তোমার কাছে চেয়েছি যে, তুমি যদি চাও আমি তোমাকে দান করব, তুমি যদি প্রার্থনা কর তবে আমি তা কবুল করব, তুমি যদি মাফ চাও তবে আমি তোমাকে মাফ করব।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- বান্দা যখন বলে, “রাব্বিগ-ফিরলী, (প্রভু আমাকে ক্ষমা করুন)” প্রতিপালক তখন বলেন, “আমার বান্দা এটা উপলব্ধি করেছে যে, আমি ছাড়া আর কেউ পাপসমূহ মাফ করতে পারে না।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- ফেরেশতাগণ আরয করেন, “হে প্রতিপালক! তোমার অমুক বান্দা একটি পাপ করতে মনস্থ করছে।” আল্লাহ্‌ সর্বাপো বড় দ্রষ্টা, তিনি বলেন, “তাকে লক্ষ্য করতে থাক, সে যদি তা করে ফেলে তবে ওটার সমপরিমাণ পাপ তার জন্য লিখ। আর সে যদি তা ছেড়ে দেয় তবে ওতে তার জন্য একটি পূর্ণ লিখ। কারণ, নিশ্চয়ই সে ওটা আমার শাস্তির ভয়ে ছেড়ে দিয়েছে।”

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন- সুমহান আল্লাহ্‌ বলেন, “নিশ্চয়ই আমি দুনিয়াবাসীদেরকে শাস্তি দিতে মনস্থ করি। অনন্তর আমি যখন আমার ঘর আবাদকারী, আমার উদ্দেশ্যে পরসপরের বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ ব্যক্তি ও খুব ভোরে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারীর প্রতি তাকাই, তখন আমি তাদের উপর থেকে সেই শাস্তি অপসারণ করে নেই।”

ওহ মুসলিম! আসুন আর বিলম্ব না করে এই মুহূর্তে আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ প্রার্থনা করি। আমাদের কৃত পাপের জন্য ক্ষমা চাই, তা যত ছোট বা বড়ই হোক না কেন। নিশ্চই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের ক্ষমা করবেন।

সূত্র:
(অবশ্যই দেখা উচিত) The Power of Repentance – Shaykh Yasir Qadhi (http://www.youtube.com/watch?v=lmcaRQyftOM)
http://www.ourholyquran.com/
http://www.bangla-quran.co.uk/bangla-hadith-hadis-in-bengali/bangla-hadis-kudsi