ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

আমরা ছোটবেলায় বইতে পড়েছি যে চাঁদের নড়াচড়ার মাধ্যমেই জোয়ার ভাটার সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ চাঁদ যখন পৃথিবীর এক প্রান্তে কাছে আসে তখন সেখানে জোয়ার বা পানির স্ফীতি ঘটে। অপরপ্রান্তে স্বাভাবিক ভাবেই ভাটা বা সংকোচন ঘটে চাঁদ তার বিপরীত প্রান্তে অবস্থান করে বলে। আর এই প্রক্রিয়াটি চক্রাকারে চলতে থাকে। প্রত্যহ নিয়মিতভাবে সাগরের পানি দু’বার একস্থানে স্ফীত ও অন্যস্থানে অবনত হয়। এবং প্রতি সাড়ে ১২ ঘন্টা পরপর জোয়ার ভাটার এ চক্রটি চলতে থাকে। আর অমাবস্যার সময় চন্দ্র , সূর্য ও পৃথিবীর কেন্দ্র একই সরল রেখায় অবস্থান করার কারনে পানি বেশী ফুলে ওঠে।

আর বহু বছর পরপর চাঁদ পৃথিবীর অতি নিকটবর্তী হয়। এর আগে ২০০৫ সনে যখন নিকটবর্তী হয়েছিল তখন ইন্দোনেশিয়াতে সুনামি হয়েছিল । এর ও অনেক আগে ১৯৫৪ সালে অস্ট্রেলিয়াতে ব্যপক বন্যা হয়েছিল। আর এবার ২০১১ সনের ১৯ মার্চ যখন চাঁদ কাছে আসবে তখন জাপানে সুনামি হলো। অ্যাস্ট্রলজার রিচার্ড নোল এ ব্যাপারখানা লক্ষ করেন!! তার মতে এসময়ে পৃথিবীতে বড় ধরনের ভূকম্পন বা বড় কোন ঝড়ের সৃষ্টি হয়। নিচের ছবিটিতে বিভিন্ন সময়ের সুপারমুন ও তৎকালীন সময়ের দুর্যোগ তুলে ধরা হয়েছে।

তবে নাসার বিজ্ঞানিরা এমন কথা মানতে নারাজ। তাদের মতে এসময় চাঁদ খুব সামান্য পরিমানই কাছে আসে । ১৯ মার্চ চাঁদ ও পৃথিবীর দুরত্ব হবে ২,২১,৫৬৭ মাইল । অন্যান্য সময় এ দূরত্ব থাকে ২,৩৮,০০০ মাইল। বিংশ শতকের সুপার মুনের ইতিহাস নিচে তুলে ধরা হলো –
* DEC 06, 1911 | 02:51 AM
* JAN 14, 1930 | 10:21 PM
* JAN 26, 1948 | 07:12 AM
* NOV 10, 1954 | 02:29 PM
* OCT 22, 1972 | 01:26 PM
* JAN 08, 1974 | 12:37 PM
* FEB 26, 1975 | 01:15 AM
* JAN 19, 1992 | 09:29 PM
* MAR 08, 1993 | 09:46 AM

এসকল সুপার মুনের সময় এর সাথে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বৈজ্ঞানিক কোন সম্পর্ক থাক বা না থাক এটা যে একটা কাকতালীয় ব্যপার সেটা মানতে তো অসুবিধা নাই। মজার ব্যপার হচ্ছে ১৯৯২ সনেও সুপার মুন হয়েছিল, আর তৎকালীন সময়ে এদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যপক জলোচ্ছাস ও প্রাণহানী হয়েছিল।

(বিভিন্ন ওয়েবসাইট, বই ও স্মৃতিশক্তির সহায়তায় লিখিত)