ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

অবশেষে পশ্চিম বঙ্গ নাম ঠিক রেখে ইংরেজি নামে পরিবর্তন করা হলো। এখন ইংরেজিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল এর পরিবর্তে বলা হবে পশ্চিম বাংলা।
সংক্ষেপে PB. আর এতে করে পশ্চিম বঙ্গ নাম থেকে শুধু বঙ্গ হওয়ার বিতর্কে অবসান করলেন মমতা।

আয়তন – ৮৮,৭৫২ বর্গকিলোমিটার (৩৪,২৬৭.৩ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (2011)- ৯১,৩৪৭,৭৩৬
অঞ্চল – পূর্ব ভারত
প্রতিষ্ঠা- ১ নভেম্বর, ১৯৫৬
রাজধানী- কলকাতা
জেলা — ১৯টি
– রাজ্যপাল____ এম কে নারায়ণন
– মুখ্যমন্ত্রী____ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
– বিধানসভা____এককক্ষীয় (২৯৫টি আসনবিশিষ্ট)২৯৪ জন নির্বাচিত, ১ জন মনোনীত

আনন্দবাজার থেকে অংশবিশেষ নিচে তুলে ধরলাম :

‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ হওয়ার ফলে জাতীয় ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজ্যের বর্ণানুক্রমিক নামের তালিকায় এই রাজ্য এখন আছে ২৮-তম স্থানে। সর্বভারতীয় বিভিন্ন বৈঠকে তাই ‘ডব্লিউ’ আদ্যক্ষর অনুযায়ী ডাক আসে শেষে। ইংরেজি হরফে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ লেখা হলে বর্তমান তালিকায় পঞ্জাবকে সরিয়ে ২১-এ চলে আসবে এই রাজ্য। পঞ্জাব এক ধাপ নেমে হবে ২২।

নামের আদ্যক্ষর ‘ডব্লিউ’ থাকায় সর্বভারতীয় স্তরের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ অনেক পরে বলার সুযোগ পেত। নাম ‘পি’ দিয়ে শুরু হলে তুলনামূলক ভাবে রাজ্য আগে সুযোগ পাবে। তা ছাড়া, রাজ্যে সরকারি কাজকর্মের বেশির ভাগই এখন বাংলা ভাষায় হয়। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ নামটিই নথিভুক্ত আছে। ফলে, নাম পরিবর্তনের জন্য নথিপত্র, সাইনবোর্ড-সহ আনুষঙ্গিক বিষয় ঢেলে সাজার দরকার পড়বে না।

মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা যা-ই হোক, রাজ্যের নাম বদল করে ইংরেজিতেও ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লেখক-শিল্পী-শিক্ষক-খেলোয়াড়-সহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ। তাঁদের অধিকাংশেরই মত, ইংরেজিতে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামকরণ কোনও উল্লেখযোগ্য ‘প্রাপ্তি’ নয়। পূর্ববঙ্গ যখন অবলুপ্ত, তখন পশ্চিমবঙ্গ নামটিই বা কেন থাকবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সরকারের পক্ষে পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের যুক্তি, “প্রশাসনিক এবং ঐতিহাসিক প্রয়োজন বিবেচনা করে সহমতের ভিত্তিতে যতটা করা যায়, তা-ই করার চেষ্টা হয়েছে।” যদিও প্রশ্ন উঠেছে, এ রাজ্যের ভাষাগত সংখ্যালঘুদের উপর রাজ্যের নামবদলের এই সিদ্ধান্ত কি কার্যত চাপিয়ে দেওয়া হল? কারণ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ছাড়া অন্য কোনও সংখ্যালঘু গোষ্ঠী এখনও ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামকে সে ভাবে স্বাগত জানায়নি।
অন্য দিকে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো কেউ কেউ আবার আগে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামের পক্ষে থাকলেও এখন মত বদলেছেন।

সুনীলবাবু দু’মাস আগে বলেছিলেন,
ইংরেজিতেও পশ্চিমবঙ্গই থাক। কিন্তু এ দিন তিনিও বলেন, “আমাদের হৃদয়ে অখণ্ড বাংলা।” এমনকী আয়ারল্যান্ড বা পাঞ্জাবের বিভাজনকে ভৌগোলিক এবং ঐতিহাসিক সত্য বলে মানলেও তাঁর বক্তব্য, “ও সব কথা তুলে লাভ নেই। ইতিহাস দিয়ে হৃদয় কথা বলে না। মানুষ বরং নতুন নতুন ইতিহাস তৈরি করে।” বিধানসভায় এ দিন সর্বদল বৈঠকের পরে পার্থবাবু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ নামের ফলে সব উদ্দেশ্য হয়তো পূরণ হবে না। কিন্তু এই মুহূর্তে সহমতটাই বড় কথা।” শাসক দলের বক্তব্য, ১৯৯৯ সালে রাজ্যের নামবদলের উদ্যোগ থমকে গিয়েছিল সর্বসম্মতিরঅভাবেই। সেই জন্য এ বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক সহমতের ভিত্তিতেই এগোলেন।

বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রও বলেন, “আদ্যক্ষরে এগোনোটাই একমাত্র কারণ ছিল না। আরও কিছু বিষয় ছিল। তবে নানা মত যা-ই থাকুক বা আগে যা-ই হয়ে থাকুক না কেন, এখন ঐকমত্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ হবে।” ইংরেজিতে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ একটি শব্দ হিসেবেই লেখা হবে। শুধু ‘পি’ই লেখা হবে বড় হাতের হরফে।

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে এ দিন সর্বদল বৈঠকে অবশ্য মূলত ‘বাংলা’, ‘বঙ্গ’, ‘বঙ্গভূমি’ এবং ‘পশ্চিমবাংলা’ নিয়ে আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ‘বঙ্গভূমি’ নামটির পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু তিনি বৈঠকে বলেন, ওই নাম নিয়ে ঐকমত্য না-থাকলে তিনি নিজের মত ‘চাপিয়ে’ দিতে চান না।

বিস্তারিত জানতে এখানে যান : লিংক

শুনতে পারেন বিবিসির প্রতিবেদনটি: লিংক

দেখতে পারেন রাজ্যের সাইটটি: লিংক