ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

মমতা দিদি বাংলাদেশে আসার আগে শর্ত হিসেবে চেয়েছিলেন ১০০ টন ইলিশ । সেটা নিলেন ঠিকই কিন্তু দিলেন এক মমতাময়ী থাপ্পড়। এর আগে মমতা যখন নির্বাচনে জয়লাভ করলেন তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে নিজে দূরালাপনীতে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। আমরা এদেশের জনগনও ভেবেছিলাম মমতাময়ী নারীর ছোঁয়ায় কিছু পাব আপন করে।

আর মমতা তার বদৌলতে সকল সৌজন্যতার আদব লেহাজ ভুলে গিয়ে সফরের দুদিন আগে বেঁকে বসলেন, বাংলাদেশ থেকে আসা পদ্মার ইলিশ খাওয়ার লোভে !!!

শুনছি ওখানে পদ্মার ইলিশের এতোটাই কদর যে, পাশের বাড়ির গিন্নি যখন ভাঁজে তখন পাশের বাড়ির দাদা সাদা ভাত, লবন আর কাঁচা মরিচ নিয়ে শুধু গন্ধেই এক থাল ভাত খেয়ে ফেলতে পারেন।

কাল ইটিভিতে মমতার ইলিশ সংক্রান্ত একটি খবর দেখলুম, সস্তায় এক দিনে ১৩টি ট্রাকে ১০০ টন ইলিশ নিয়ে গেলেন।

১৪ জুলাই, ২০১১ এপিপি(Associated Prime Press) বাংলাতে প্রকাশিত খবটি নিচে তুলে ধরলাম :

সস্তায় পদ্মার ইলিশ পেতে উদ্যোগী মমতা
উদয়ন পাল, কলকাতা: পদ্মার ইলিশ বাঙালির পাতে সহজলভ্য করতে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের হস্তক্ষেপ চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে মমতা বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার পদ্মার ইলিশের উপর ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ধার্য করেছে। ফলে ইলিশের উৎপাদন যাই হোক না কেন, আমদানিকারীদের ভারতে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আনতে সরকার নির্ধারিত দরে তা কিনতে হচ্ছে। উৎপাদন বেশি হলেও বাজারে ইলিশের দাম কখনও কমছে না। সেই কারণে মমতা চান, বাংলাদেশ সরকার ইলিশের উপর ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য তুলে নিক এবং অবাধ রপ্তানির ব্যবস্থা চালু করুক। তাহলে রাজ্যের বাজারে সস্তায় পৌঁছাবে বাংলাদেশের ইলিশ। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফর কালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টি যাতে তোলেন, সেই অনুরোধই করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এবার দেখুন আশা পূরণের পালা :

বনিক বার্তায় ৫ সেপ্টেম্বর এর খবর : কলকাতার দৃষ্টি পদ্মার ইলিশে

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের ঠিক দুদিন আগে কলকাতায় পৌঁছেছে ১০০ টন পদ্মার ইলিশ। শনিবার সকালে বেনাপোল বন্দর দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ ইলিশ কলকাতায় পৌঁছে। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা একে ইলিশের রেকর্ড আমদানি হিসেবে উল্লেখ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, ‘বাংলাদেশ থেকে বড় চালানের ইলিশ যাওয়ায় আজ রোববার থেকেই কলকাতার বিভিন্ন বাজারে বাংলাদেশী ইলিশের ঢল নামবে। সারা কলকাতায় তাই আনন্দের জোয়ার।’

এরপর ২৭ আগস্ট পেট্রাপোল বন্দরে সুসংহত চেকপোস্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে অনুরোধ করেন, কলকাতার আমদানিকারকরা যাতে সস্তায় বাংলাদেশী ইলিশ আমদানি করতে পারেন সেটি বিবেচনা করতে।

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ইলিশ আমদানিকারক সংস্থা ‘হিলশা’র সভাপতি অতুলচন্দ্র দাস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর সফরের পর বাংলাদেশ সরকার রফতানি মূল্য কমাবে বলে আশা করছি। তাহলে নিয়মিতভাবে বেশি পরিমাণে ইলিশ আনা সম্ভব হবে।’ হিলশা জানায়, কলকাতায় প্রতিদিন ৫০ টনের মতো ইলিশের চাহিদা রয়েছে।

ভারতে ইলিশ রফতানির বিষয়ে যাত্রাবাড়ী মত্স্য আড়তদার সমিতির সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশের বাজারেই ইলিশের দাম বেশি। ভারতে রফতানি করে কম মূল্য পাওয়া যায়। দেশীয় চাহিদা পূরণের পর ইলিশ রফতানির কথা জানান এ ব্যবসায়ী।

কালের কন্ঠের খবর :
মৌসুমের সবচেয়ে বড় ইলিশের চালান এল পশ্চিমবঙ্গে

মমতা বলেছিলেন, ‘পদ্মার ইলিশ চাই। ওটা দুই বাংলার বাঙালিদের মেলবন্ধনের অন্যতম অনুসঙ্গ।’

এদিকে কলকাতায় কাকুরগাছিতে প্রথমবারের মতো ইলিশ উৎসব অনুষ্ঠিত হলো। কলকাতা শহর ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর মানুষ এই উৎসবে যোগ দেন। ইলিশ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন স্বাদের রান্নার আয়োজন করা হয়। কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় উৎসবের উদ্বোধন করেন। শনিবার বিকেলে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে যে ইলিশ ঢুকেছিল এপার বাংলায়, কলকাতার ইলিশ উৎসবেও সেই মাছ দিয়ে রান্না হয়েছে নানা পদ।

সকালের খবরে প্রকাশিত খবর : ঢাকার বাজারে আগুন, সস্তা কলকাতায়
সম্প্রতি ১৩টি ট্রাকে অন্তত ১০০ টন ইলিশ ভারতে রফতানি করা হয়। এসব ইলিশের অধিকাংশের ওজন ১ কেজির বেশি। জানা গেছে, কলকাতার বাজারে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। তবে সেখানকার পাইকারি বাজারে বাংলাদেশি ইলিশ বিক্রি হয় ২৬০ রুপিতে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বাজারে ইলিশের কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার ওপর। বেশ কিছুদিন ধরে ভারতের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতারা আরও কম দামে বাংলাদেশের ইলিশ পেতে কূটনৈতিক তত্পরতা চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী কম দামে মাছটির আমদানি বাড়াতে কূটনৈতিক তত্পরতার ওপর জোর দিয়েছেন। এক চিঠিতে মনমোহনের সফরের সময় দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ইলিশের মূল্য কমানোর বিষয়টি এজেন্ডা হিসেবে রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা। এর আগে ইলিশের দাম কমানো ও রফতানি বাড়াতে পশ্চিমবঙ্গের ইলিশ আমদানিকারক সমিতি হিলশার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কলকাতা ছাড়া ভারতের অন্য অঞ্চলেও বাংলাদেশি ইলিশের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। বিভিন্ন দিবস ও ধর্মীয় উত্সবকে সামনে রেখে চোরাই পথেও ভারতে ইলিশ পাচার বাড়ছে।

বিশ্বের মোট ইলিশের অর্ধেক উত্পাদিত হয় বাংলাদেশে। বিশ্বে মোট উত্পাদিত ইলিশের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ উত্পাদিত হয় এখান থেকেই। দেশে মোট উত্পাদিত মাছের প্রায় ১২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকেই। জিডিপিতে এর অবদান শতকরা ১ ভাগ।

এবার শেষমেশ ইলিশের বাজারের খবর আনন্দ বাজারে :কাঁটাতার পেরিয়ে এল একশো টন বাংলাদেশি ইলিশ

হয় দিঘা-খেজুরির কুচো থেকে ছোট ইলিশ। ওজনে বড় জোর আড়াইশো থেকে ছ’শো। অথবা মুম্বই-পারাদ্বীপ থেকে আসা দেড়-দু’কেজির ইলিশ। যে দু’য়ের কোনওটার স্বাদই বাঙালির জিভে রোচে না।
অবশেষে খরা কাটিয়ে শনিবার সকালে পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ১০০ টন ইলিশ ঢুকল এ রাজ্যে। যা চলতি মরসুমে রেকর্ড। আজ, রবিবার থেকেই বাংলাদেশি ইলিশের ঢল নামতে চলেছে বিভিন্ন বাজারে। গত ক’দিন ধরে বাজারে গিয়ে মুখ ব্যাজার করে ঘুরেছেন যাঁরা, তাঁরা অতএব চওড়া হাসি হাসতেই পারেন।

আর দু’দিন বাদেই, ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সঙ্গে দু’দিনের বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে শনিবার বেশি পরিমাণে ইলিশ এনে আমদানিকারীরা সম্ভবত বাংলাদেশ সরকারকে এই ইঙ্গিতই দিতে চাইলেন যে, এ রাজ্যে ইলিশের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তা ছাড়া, গত ২৭ অগস্ট পেট্রাপোল বন্দরে প্রস্তাবিত সুসংহত চেকপোস্টের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধ করেছিলেন, এ রাজ্যের আমদানিকারীরা যাতে সস্তায় ইলিশ আমদানি করতে পারেনতা দেখতে। সব মিলিয়ে এই শুভাগমন।

বস্তুত, জামাইষষ্ঠীর পর থেকেই নিয়মিত ভাবে ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। কিন্তু বাংলাদেশে দামের কারণে ইলিশ এতটাই কম আনা হচ্ছে যে, রাজ্যের সর্বত্র তা পৌঁচ্ছছে না। দামও থাকছে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। দিন কয়েক আগে সবচেয়ে বেশি ৬০ টন বাংলাদেশি ইলিশ এসেছিল।

এর আগে বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় চাল চাইলে বাসমতি চাল বেচকত চেয়েছিল। আর যা দিয়েছিল তা ছিল পচা। কিন্তু অতিরিক্ত ইলিশ ঠিকই বেনাপোল সিমান্ত দিয়ে নিয়ে ছিল চাল দেবার আগে।

ছোটবেলা গোপাল ভাঁড়ের জামাই ষষ্ঠিতে ইলিশ মাছ কেনার গল্প শুনেছিলাম। সেখানে গোপাল কেহ যাতে মাছের দাম জিজ্ঞেস করতে না পারে এবং ভাগ বসাতে না পারে সেজন্য নেংটু হয়ে মাছ নিয়ে এসেছিলেন। সেটা শুনে আমরা খুব হেসেছিলাম। আর মমতার ইলিশ মাছের গল্প শুনে আমাদের বাচ্চারা হাসবে না কাঁদবে ? দিগম্বর মানে লজ্বা, গোপাল সে লজ্বাকে তুচ্ছ করেছেন ইলিশের জন্য। মমতা কি এর ব্যতিক্রম কিছু করতে পেরেছেন। ছি! মমতা ছি!…… তিনি বোধ হয় দাম(তিস্তা) দেয়ার ভয়ে এবং তার ভাগের মাছ যাতে আয়েশ করে খেতে পারেন সেজন্যই কি আসেননি ? না অন্য কিছু . . ।


এমন মমতাময়ী ছলনা কি করতে পারতো, আমার দেশের কোন নেত্রী ?