ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

অনেক বাণী’র মত এটি এমন একটি বাণী, যা কিনা ৫ বছরের শিশু থেকে নিয়ে ৮০/৯০… বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধার পর্যন্ত থিওরিটিক্যাল ও প্র্যাকটিক্যাল রপ্ত রয়েছে।আর তা হল “বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন”। আর গরম কালে তো আমাদের চরম বোধগম্য এ কথাটি আমরা অনেকেই ভুলে যাই।যার ফলে রাস্তা-ঘাটে দেখা যায় একেক জনের পানির তৃষ্ণা মেটানোর অনিরাপদ দৌরাত্ম্য।কেউ আমরা তৃষ্ণা মেটাতে বেছে নিচ্ছি রাস্তার ফেরিওয়ালার পানি/শরবত,আবার কেউ পান করছি ফুটপাতে গড়ে উঠা বিভিন্ন দোকান/হোটেলের পানি।পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই প্রকারের অনিরাপদ পানি পান করার ফলাফল খুব ভয়াবহ, যার কারনে এই পানি পান করে বছরে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। [সূত্রঃ দৈনিক খোলা কাগজ]

আমাদের মধ্যে আবার কেউ কেউ এ দুয়ের ভয়াবহ পরিণতি থেকে বাঁচতে ১০/১৫ টাকার বিনিময়ে নিশ্চিন্তে পান করছি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলজাত মিনারেল পানি।।কিন্তু তারপরও যে যেভাবে পারছি, সে সেভাবে গরমের চরম তৃষ্ণা এই সব পানির মাধ্যমে নিবারণ করে চলেছি।কিন্তু কথা হচ্ছে আমরা যারা নিরাপত্তার জন্য টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন মিনারেল পানি কিনে পান করছি, তারা কী আসলেই আমরা মিনারেল পানি পান করছি??

প্রশ্নটি শুনার পর আশ্চর্য হওয়া ছাড়া আর কিছুই হওয়া যায় না।হ্যা,আসলেই কথাটি আশ্চর্যজনক হলেও সত্য।তাই, মিনারেল পানির বোতলে জেনারেল পানির রমরমা আয়োজনের এক লোমহর্ষক ঘটনা তুলে ধরার প্রয়াস চালাবো আজ আপনাদের সামনে।

প্রিয় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানের মধ্যে একটি সুপরিচিত স্থানের নাম সায়েদাবাদ। যা কিনা রাজধানীর ব্যস্তবহুল স্থানসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি স্থান।এই স্থান হতে দেশের বিভিন্ন জেলার বাস/ট্রাক সহ বিভিন্ন যানবাহন ছেড়ে যায়।হঠাৎ একদিন আমার ঢাকা হতে কুমিল্লা যাওয়ার সুবাদে সেখানে যাওয়া হল।বাস আসতে দেরি হওয়ার কারনে বাস কাউন্টারে বসে থাকতে আর ভাল না লাগায় বাহিরে হাটতে বের হলাম।হাটতে হাটতে হঠাৎ গিয়ে দাড়ালাম সায়েদাবাদে অবস্থিত একটা শিশু পার্কের পিছনের অংশে।দেখলাম কিছু বস্তির শিশু-কিশোর নোংরা হাতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের যেমন মাম,প্রাণ,ইত্যাদি বেশ কয়েকটা ব্র্যান্ডের বোতলে ঐ স্থানে থাকা একটা স্যাঁতস্যাঁতে,ময়লা পানির ট্যাপ থেকে পানি ভরছে আর বোতলের মুখ লাগাচ্ছে।আর কিছু ব্যক্তি তারপর বোতলের মুখে প্লাস্টিকের ক্যাপ লাগাচ্ছে,যাতে করে বোতলটি ইন্টেক দেখা যায়।তারপর ১০/১২ টি বোতল এক করে এক দল বোতলগুলিকে প্যাকেটিং করে আরেক রুমে নিয়ে জমা করছে।

এ অবস্থা দেখার সাথে সাথে গা শিউরে উঠলো আমার।চোখের সামনে কি দেখছি এগুলো !! আমি কিছু না বুঝার ভান করে ওখান থেকে বেড়িয়ে আসা এক কিশোরকে জিজ্ঞাসা করলাম,কিরে ভাই এগুলো কি তোরা বেচবি নাকি?ছেলেটা বলল,না এগুলা অন্য বেডারা লইয়া গিয়া বেচবো।আমরা খালি এহানে কাম করি।

তখন হঠাৎ করে স্মরণ হল,আমি যে একটু আগে বাস কাউন্টারে বসে যে বোতলের পানি পান করলাম সেটা কি তাহলে এই পানি??শুধু আমি কেন আমার সাথে অন্যরা বসে যে বোতলজাত মিনারেল পানির নামে যে পানি পান করছিল তাঁদের গুলোও কি তবে এই পানি??এই চিন্তা আসাটাই স্বাভাবিক। কারন যেভাবে ওরা বোতলগুলোকে প্যাকেট করছিল তাতে বুঝার কোন উপায় নাই যে,কোনটা বোতলের গায়ে লেখা নামের ব্র্যান্ডের বাজারজাত করা পানি আর কোনটা এই লোকদের বাজারজাত করা পানি।

আর তাছাড়া কয়েকমাস আগে কয়েকটা দৈনিক পত্রিকার মধ্যেও দেখলাম ঢাকার কেরাণীগঞ্জ,জিঞ্জিরা,যাত্রাবাড়ী সহ পুরাতন ঢাকার কিছু স্থানে এই সমস্ত ভেজাল মিনারেল পানির রমরমা ব্যবসার সম্পর্কে কয়েকটা প্রতিবেদন।এরপরও আমরা কি করে নিশ্চিত হতে পারি যে, আমরা প্রতিনিয়ত যেসব বোতলজাত মিনারেল পানি পান করছি তা আসলেই মিনারেল পানি। প্রশ্নটি সংশ্লিষ্টদের কাছে….।

বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারনে অনেকেই নিজের ও পরিবারের পান করার জন্য বোতলজাত মিনারেল পানি ব্যবহার করে থাকেন।যদি এই হয় পানির অবস্থা,তবে কি হতে পারে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের দেশের পরিবারসমূহের স্বাস্থ্যের অবস্থা??….যেখানে কিনা জনস্বাস্থ্যের ব্যাপারে সরকারের এতো উদ্যোগ। প্রশ্নটি প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের নিকটে।

তাই আমরা আশা করবো বর্তমান সরকার যথাশীঘ্র এ অবস্থার সমাধানকল্পে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।এবং এ সংক্রান্ত আইনসমূহ দৃঢ় হতে সুদৃঢ় পর্যায়ে আনবেন।এবং এর দ্বারা আপনারা আমাদের রক্ষক ও সেবক হিসেবে আমাদেরকে এই মরার উপর খাড়ার ঘা’র অবস্থা থেকে রক্ষা করবেন।