ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

এইতো কিছুদিন হল ধরণী হতে চিরতরে লুকিয়ে গেল বাংলাভাষার কথা সাহিত্যের অন্যতম কলম যাদুকর হুমায়ূন আহমদ।তাঁর মৃত্যুর পূর্বে ও পরের অবস্থাগুলো ছিল নানা জল্পনা-কল্পনা আর তর্ক-বিতর্কে টুইটম্বুর।কিন্তু পরিসংখ্যান অনুযায়ী তাঁর মৃত্যুর পরের অবস্থাটাই ছিল তুলনামূলক বেশি বিতর্কিত।যা দেখার পরও লাখো ভক্ত অনেক কিছু বলতে চেয়েও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে পারেনি।কিন্তু কোনদিন কিছু বলবে যে না সেটা ভাবাটাও বোকামী।হ্যা,আজ বলতে চাই,বলব আজ।কারন আজ বলতে কোন দ্বিধাবোধ করছিনা।আর সেটা কেবল নিজের আক্ষেপের ফলশ্রুতিতে।জানি না হয়তো আমার আক্ষেপের সাথে হুমায়ুন ভক্ত অন্যান্যদের আক্ষেপেরও সাদৃশ্য আছে কিনা।

হুমায়ূন আহমদের মৃত্যুর দিনটা থেকে নিয়ে তাঁকে দেশে আনা পর্যন্ত সময়টাতে আমার অবস্থাটা ছিল ঠিক”অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর”।শহীদ মিনারে ফুলে ফুলে সিক্ত হল বাংলা সাহিত্যের জাদুকরের কফিন।জানাযার মধ্য দিয়ে সিংহভাগ পরিপূর্ণতা লাভ করল তাঁর মৃত্যু পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার।বাকী ছিল দাফন।কখন হবে?কোথায় হবে? উত্তর একটাই,দাফন তখনই হবে যখন দাফনের স্থান নির্ধারণ হবে।ইন্টারনেটে বিভিন্ন নিউজ সাইট কিছুক্ষন পর পরই launch করছিলাম এ ব্যাপারে ব্রেকিং নিউজ পেতে।হটাৎ চোখে পড়লো হুমায়ূনের দাফন নিয়ে তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের মাঝে তুমুল দ্বন্দ শীর্ষক এক খবরে।পরে দেখলাম একদিকে হুমায়ূনের প্রথম স্ত্রীর পরিবার যার সাথে প্লাস হয়েছেন হুমায়ূনের দুই ভাই ড.জাফর ইকবাল,আহসান হাবীব সহ হুমায়ূনের সেই ‘মা’ যার মাধ্যমে কিনা হুমায়ূন দুনিয়ায় এসে কাজল থেকে হয়েছেন হুমায়ূন আহমদ।আর দ্বিতীয় পক্ষের মধ্যে হুমায়ূন পত্নী শাওন একাই।এ যেন মনে হচ্ছে হুমায়ূনের অসহায়ত্বর সুযোগে তাঁর লাশ নিয়ে রশি টানাটানিকর অবস্থা।

আমরা বেশিরভাগ ভক্তই ভেবেছিলাম আমাদের প্রাণের লেখকের দেহের উপরের মাটিকে মাঝে মধ্যে দেখার প্রবল ইচ্ছাকে পূরণার্থে লেখককে ঢাকায় সমাধিস্থ হওয়ার কোন বিকল্পই নাই।কিন্তু তা আর হল না।লাশ নিয়ে হুমায়ূন পরিবারের কাড়াকাড়ির দাপটে প্রথমদিকে আমাদের সেই ইচ্ছাটা কোণঠাসা হয়ে গেলো।কিন্তু পরবর্তীতে যখন প্রথম পক্ষের সিদ্ধান্ত শুনলাম,তখন হঠাৎ আধারের মাঝে আলোর সন্ধান স্বরুপ শোকের মাঝে কিছুটা সুখ অনুভব করেছিলাম।কিন্তু এরপর হঠাৎ দেখলাম হুমায়ূনের ‘মা’ সহ সন্তান ও ভাই-বোনদের সবাইর ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে দখিন হাওয়ার বর্তমান গৃহিণী শাওনের হুমায়ূনকে নুহাশ পল্লীতে দাফনের ব্যাপারে একচেটিয়া অবস্থান।সাথে সাথে বিচারে তাল গাছ পাওয়ার জন্য শাওনের সে কি জোরদার লবিং দেখলাম সেদিন আমরা গোটা দেশবাসী।যা দেখে হুমায়ুন ভক্ত আমরা গোটা দেশবাসী সবাই হতবম্ব ও ক্ষুব্ধ।

আসলেই অবস্থাটা তখন আমাদের কাছে হতভম্ব হওয়ারই মত।নয়তো কি,এমন এক জায়গায় হুমায়ুনের দাফন সম্পন্ন হচ্ছে যেখানে কিনা সবাই আমরা চাইলেও যখন তখন যেতে পারবো না।যার ভিত্তি স্বরূপ বিডিব্লগে আমারই এক ব্লগার বন্ধুর ব্লগ পড়ে বিস্তারিত জানতে পারলাম।এখন শাওনের কাছে আমাদের প্রশ্ন,আপনি সেদিন ক্যামেরার সামনে বললেন,আপনারা চাইলে হুমায়ুন আহমদ আপনাদের মাঝে বেঁচে থাকবে চিরকাল,আর আপনারা না চাইলে বাঁচবে না।হ্যা,আমরা অবশ্যই চাই হুমায়ূন আহমদ আমাদের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকুক।আর সাথে সাথে যদি সত্যিকারার্থে এই হয় আপনার আশা আকাঙ্খা, যা কিনা আপনি আমাদের সামনে কান্নারত অবস্থায় পেশ করছিলেন।তবে কেন এখন আপনি আমাদের প্রিয় লেখককে আমাদের থেকে দূরে নিয়ে গেলেন।লেখককে দেশের প্রাণকেন্দ্র ঢাকা থেকে কেন নেয়া হল গাজীপুর নুহাশ পল্লী।আপনি কি আসলেই চান যে হুমায়ুন আহমদ আমাদের মাঝে বেঁচে থাকুক।যদি আসলেই আপনি তা চাইতেন,তবে কেন নিলেন আপনি এই সিদ্ধান্ত।তার মানে আপনি আমাদের হুমায়ূনকে নিয়ে যা করলেন তা কি এখন আমরা ধরে নিব সেটা আপনার দেয়া বক্তব্যের প্রথম নয় দ্বিতীয় অংশের প্রাথমিক প্রতিফলনের একটা অংশ।

আক্ষেপ ও খুব রাগ হয় আপনার উপর তাই প্রশ্নটি করলাম আপনাকে।আর এ প্রশ্ন শুধু যে আমার তা নাও হতে পারে। হয়তোবা তা হুমায়ূনের লাখো ভক্তদেরও হতে পারে।হুমায়ূনের কারো একার নয়,হুমায়ুন ছিলেন সবার।হুমায়ুন কারো একার জন্য লেখেননি,লিখেছিলেন সবার জন্য।তবে কেন লাখো ভক্তের মনের ইচ্ছাকে আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কাছে জলাঞ্জলি দিতে হল???