ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

“দাম বাড়লেই বিপাক” এর দ্বা্রা এটাই বুঝা যায় যে,কোন জিনিস বা দ্রব্য এর মূল্যবৃদ্ধি।এই যে কথাটা“দাম বাড়লেই বিপাক”এই কথাটার সাথে আমরা যারা মধ্যবিত্ত আছি দূ্র্ভাগ্যক্রমে আমরাই তার সবচেয়ে ঘনিষ্ট।বলতে গেলে এই কথাটা আমাদের নিকট আত্বীয় এর চেয়েও নিকট আত্বীয়।আর এই কথাটা হাস্যকরও হতে পারে আবার চিন্তার কারনও হতে পারে।যার অবস্থা বর্তমানে যেমন ঠিক এই কথাটা শুনে তার মনে তেমন প্রভাবই ফেলবে।তবে আমার কাছে হাস্যকর না হলেও চিন্তার কারন বটে।কারন আমার মেম্বারশীপটা “মধ্যবিত্ত” নামক এক গ্রুপে,যে গ্রুপের মেম্বার না পারে কাউকে কিছু দিতে আর না পারে কারো কাছে হাত পাত্-তে।তবে যদি আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছা করেন আর বেশীদিন লাগবে না হয়তো আমার এই গ্রুপ পরিবর্তন হতে।দাম বাড়াটা যেন বর্তমানে আমাদের দেশে “রানীক্ষেত”রোগ এর মত হয়ে গেছে।অর্থাৎ একটার দাম বাড়লে সবগুলোই বাতাস পেয়ে বেড়ে যেতে থাকে।

সেদিন ঢাকার-ই এক জায়গা হতে একটি টেম্পুতে করে কয়েকজন আসছিলাম।মনটা খুব খারাপ লাগছিল।কেন জানি তখন আমাদের দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট গুলো বার বার আমার মগজে replay হচ্ছিল। যাই হোক চলতে চলতে মাঝপথে হঠাৎ ঐ গাড়িতে থাকা এক বয়োজৈষ্ঠ ব্যক্তি বলে উঠলো “বাংলাদেশে আর বাচুম না,বাচতে হইলে অন্য কোথাও চইলা যাওয়া লাগব,কেমনে যামু?খালি যাওয়ার টাকা-টা থাকলেই হইত চইলা যাইতাম”ঐ বয়োজেষ্ঠ এর কথাটা শুনে হঠাৎ,“কাটাঘায়ে লবনের ছিটার” মত আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল।তখন ঐ বয়োজেষ্ঠ ব্যক্তির পাশে বসা আরেক ব্যক্তি বলে উঠলো চাচা কই যাইবেন?আমগো অহন অবস্থা হইছে ডাঙ্গায় বাঘ আর জলে কুমির এর মত না পারি মরতে না পারতাছি বাচার মত বাচতে।লোকটার কথাটা শুনে চাচা একটা লম্বা একটা নিশ্বাস নিয়ে ছাড়ল।কিছুক্ষন সবাই চুপ থাকলো।কিন্তু আমার কেন যেন কিছূ না বলতে পেরে দম বন্ধ হওয়ার অবস্থা হল। হঠাৎ বললাম চাচা আপনে তো জীবনের তিন ভাগের দুই ভাগ অতিক্রম করছেন,কিন্তু আমাদের তো মাত্র এক ভাগ শেষ হল।আমার কথাটা শুনে ঐ বয়োজেষ্ঠর মনটা মনে হচ্ছে আমার চেয়ে বেশী খারাপ হয়ে গেল।সে বলতে লাগল “বাবা এডাই চিন্তা করি আমি তো কোন রকমে পার করলাম,আমার পোলা মাইয়া গুলার যে সামনে কি হইব?বুঝতাসি না অরা কেমনে কি করব?” হঠাৎ গাড়ীতে বসা আরেক ভদ্রলোক বলল ভাই জানুয়ারি-তে সি,এন,জির দাম বাড়তাছে,শুনছেন নাকি?আমি বললাম হ্যা ভাই শুনলাম তো,উনি বললেন কত হইব জানেন?আমি বললাম না ভাই জানি না,ভদ্রলোক বললেন ৫২ টাকা লিটার নাকি হইব।শুনে হঠাৎ চমকে উঠলাম,আমি বললাম মগের মুল্লুক নাকি?এখন বাস সহ অন্যান্য গাড়ীর ভাড়ার যে অবস্থা ৫২ টাকা লিটার হইলে নবাব ছাড়া কেউই যানবাহন চড়তে পারবেনা,ঐ লোকটা বলল সমস্যা নাই ভাই আল্লাহরে ধন্যবাদ যে আমাদের সাথে দুইটা পা ফিট কইরা দিছেন, যাতে দাম বাড়ার পর হাইটা অফিসে যেতে পারি,নাইলে গড়াগড়ি দিয়া অফিসে যাওয়া লাগত।আরেক ভদ্রলোক বলল ভাই আপনে কন গাড়ী ভাড়ার কথা কিন্ত এই সি,এন,জির দাম বাড়লে আমগো দেশে শুধুমাত্র আমার আপনার অফিসের বেতন ছাড়া সবকিছুই বাইড়া যাইব।তখন আমরা কি করমু?আমি বললাম ভাই একটা জিনিস যেটা হচ্ছে,আমাদের দেশের এই সব জিনিস যারা বাড়ান তাদের তো আমাদের মত কোন সমস্যায় পড়তে হয় না।কারণ তাদের জন্য তো বাংলাদেশের সব পাইকারী।খুচরা খালি আমার-আপনার আর যারা বিরোধী দলে থাকে তাদের জন্য।যার কারনে আমি আপনে খুচরা নীতি থেকে বাহির হইতে এখানে বইসা “টক-শো”করি আর বিরোধী দল রাস্তায় আন্দোলন করে “সরকার হঠাও-সরকার হঠাও,আমারে বসাও-আমারে বসাও” আর এই শ্লোগানটা বর্তমানে আমাদের কাছে বলতে গেলে কমন হয়ে গেছে কারন এই শ্লোগানটা দুই যুগ ধরে শুনে আসছি।এমনি করে অনেকের অনেক কথা উঠলো।কেউ কেউ বলতে লাগল “আগামীতে ভোট দিতেই যামু না কারে দিমু?লাউ আর কদু সব একই” আমি বললাম ভাই এটা বলা আর মাথা ব্যাথা হলে মাথা কেটে ফেলা একই হয়ে যায়।আমাদেরকেই আমাদের সমাধান খুজে বের করতে হবে।কারন দেশটা তো আমাদের,সরকারও আমাদের।সুতরাং এগুলো বলে কোন ফায়দা নাই।তারপর ও যেন কিছুতেই কথার ঝড় থামছে না।আবার কেউ কেউ বলছে “আর নাহ দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে”।এমনি করে আরো নানান কথা।কিন্তু দেখলাম আমার সাথে বসা আরেক ভদ্রলোক কিছুই বলছে না।সে দেখলাম বাহিরের দিকে তাকিয়ে আরামে পাণ চিবিয়ে যাচ্ছে।তার ব্যাপারে হঠাৎ কৌ্তুহল জাগল।তাকে বললাম ভাই আপনে তো কিছু বলছেন না এ ব্যাপারে?সে কিছুক্ষন চুপ থেকে বলল না ভাই আমি আর কি বলমু?“সরকার যা পারে করুক!আমি কাপড় ব্যবসায়ী সরকার দাম বাড়াইলে আমিও আমার কাপড়ের দাম বাড়ামু,আমি তো আর লস দিতে পারুম না” তার কথাটা শুনে আমার আর কথা বলতে ইচ্ছাই হচ্ছিল না,চুপ মেরে গেলাম। কিন্তু “টক-শো” এখনও দূর্দান্ত গতিতে চলছে।আর আমারও গন্তব্য আগে-ভাগেই চলে এসেছে।আমি নেমে গেলাম গাড়ীটা বাকীদেরকে নিয়ে চলে গেল।বাসার দিকে হাটা শুরু করলাম আর ভাবতে লাগলাম,ঐ লোকটার না হয় ব্যবসা আছে কিন্তু আমাদের মত মানুষদের কি আছে?সরকার কোন কিছু বাড়ানোর আগে আলোচনা করে ব্যবসায়ীদের সাথে তারা কি একবারও আমাদের মত মানুষদের সাথে আলোচনা করেছে?যে সরকারে থাকে সে কি একবারও বুঝে না যে দাম বাড়লে বিপাকে পড়ে কারা সাধারণ মানুষ নাকি ব্যবসায়ীরা?আর আমাদের দেশের ব্যবসায়ীর আসল চেহারাটা চিনার জন্য “রমযান”মাস বা কোন উৎসবের দিনই যথেষ্ট।তাই সরকারের কাছে আমার আবেদন এখনও সময় আছে,আপনারা কোন কিছু বাস্তবায়নের সময় নিজেকে সরকার না ভেবে নিজেকে সাধারন মধ্যবিত্ত ভেবে বাস্তবায়নের চিন্তা করবেন।এই হচ্ছে আমার চল্লিশ বছর পুর্বে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের দশ কোটি মধ্যবিত্তের প্রত্যাশা।

(সবাই ভাল থাকুক)