ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে গোসল করলাম । তারপর পরিপাটি হয়ে একটা পাঞ্জাবি পড়লাম। মন একটু খারাপ ছিল কারন এইবার নতুন পাঞ্জাবি কিন্তে পারিনি বা কিনিনি। সেই পুরাতন পাঞ্জাবি খানা পড়ে বসে আছি নামাজে যাব বলে।

সাড়ে আটটায় নামাজ । ইতস্তত ভাব নিয়ে দরজা খুললাম । দরজার পাশে দাড়িয়ে অন্যদের মসজিদে যাওয়া দেখছি।
হঠাৎ চোখ পড়ল আমার পাশের বাসা থেকে বের হওয়া একজনের দিকে। আমার দুঃখ অনেকখানি কমে গেল তার গায়েও পুরাতন পাঞ্জাবি দেখে। সেও হয়ত আমার মত আনইজি ফিল করছিল , তাই তার সাথে হাঁটা দিলাম। পুরাতন পাঞ্জাবির দুঃখ যেন একে অপরকে দেখে হ্রাস পায়। কিছুদূর যেতেই দেখি দুজন ভিক্ষুক ছেড়া পাঞ্জাবি পড়ে ভিক্ষা করছে।

এই দৃশ্য দেখে খূব লজ্জিত হয়ে পড়লাম কারন তাঁদের পাঞ্জাবির তুলনায় যে আমাদের পাঞ্জাবি অনেক উজ্জল । মাথা নিচু করে মসজিদে চলে গেলাম।
নামাজ শেষে যখন বাসায় ফিরি দেখি মনে কোন দুঃখ নাই সকালে যেটা ছিল।

অনেকেই তো ছেড়া বা পুরাতন পাঞ্জাবি পড়ে ঈদ পালন করছে ,অনেকেই তো দেখি করছেই না ,ভিক্ষা করছে বা রিক্সা চালাচ্ছে। তাঁদের দুঃখ কি আমার চেয়ে কোন অংশে কম?
অন্তরে দুঃখ থাকুক বা না থাকুক সবার গায়ে কিন্তু নতুন জামা আছে।

রিকশাওয়ালা ঈদ মোবারক বলে যাত্রী গ্রহন করছে।
ভিক্ষুক হাসি-মুখে ভিক্ষা নিচ্ছে,সেমাই খাচ্ছে।
তার মুখ দেখে বোঝার কোন উপায় নাই যে তার মনে কোন দুঃখ আছে।

পাশের অনেক বাসিন্দা যাদের কে বস্তিবাসী বলি তাঁদের গায়েও দেখি নতুন জামা। বাচ্চারা নতুন জামা পড়ে এদিক-ওদিক যাচ্ছে। এসব দেখে কারও মন কি খারাপ হতে পারে নাকি হওয়াই সম্ভব?
এখন অনেক ফুর্তিতে আছি।
সবাইকে অনেক অনেক ঈদ মোবারক।
দিনটি সবার ভালো কাটুক।