ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

জানামতে রুবেল অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেট খেলতে গেছেন, গার্লফ্রেন্ডের সাথে মৌজ-মাস্তি করতে না। খেলাটা কিন্তু গল্ফ বা টেনিসের মতো পার্সোনাল না, আইপিএল-বিগব্যাশের মতো খ্যাপ খেলাও না। এটা দলীয় খেলা, দেশের জন্য খেলা। আর রুবেল দলের হয়েই খেলেছেন, টিমম্যান হয়েই খেলেছেন। প্রথম বলেই উইকেট ফেলে টপ অর্ডার ধ্বস নামিয়েছেন, জানের উপর যন্ত্রণা সয়ে জমে যাওয়া জুটি ভাঙার ক্যাচ লুফেছেন। দলের জয়ে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছেন – তা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না।

অথচ ফেসবুকজুড়ে দেশের জয়ে রুবেলের প্রথম বলের উইকেট, দুর্দান্ত ক্যাচ কিছুই স্থান পেল না, সবাই তাকে দেশে রেখে যাওয়া স্ক্যান্ডালের কাদা ছুঁড়েই ঘায়েল করছেন! অসিরা ব্যাটিংয়ে নামা প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানকেও এতটা স্লেজিং করে না, যতটা আমরা আমাদের নিজ দলের খেলোয়াড়কে করছি। এমনকি টিভিতে দেখলাম অস্ট্রেলিয়ার গ্যালারিতে পর্যন্ত প্ল্যাকার্ড ধরে রুবেলকে খোঁচানো হচ্ছে, কুৎসিত ইংগিত করা হচ্ছে, প্রকারান্তরে টিটকারি দেয়া হচ্ছে! মূর্খ বাঙালী, রুবেলকে উস্কানি দিয়ে, বিব্রত করে, বিরক্ত এবং ক্ষিপ্ত করে সস্তা বিনোদন আর স্থুল আনন্দ পাওয়ার বাইরে কার কতটুকু লাভ হচ্ছে? গ্যালারির সেই প্ল্যাকার্ড আজ স্টার-স্পোর্টসের ক্যামেরায় এসেছে, কাল রমিজ-সিধুর বৈঠকখানার রসালো গপ্পের টেবিলে উঠবে – সেটাই কি সবাই চাইছেন?

রুবেল দলের অংশ, দলের প্রত্যেকটা সদস্য মিলেই কিন্তু একটা কাঠামো। একজনকে হতোদ্যম করা মানে যে গোটা দলটারই মনোবলে চিড় ধরানো – এই সাধারণ ব্যাপারটা কি কারুর চোখে পড়ছে না? রুবেল সত্যি সত্যিই অপরাধ করেছেন কি করেননি – সেটা আদালতে প্রমাণ হবে, কিন্তু এত বড় মাপের, প্রায় ক্যারিয়ার-বিধ্বংসী অভিযোগের এই পাহাড়-পরিমাণ চাপ নিয়েও তিনি যে খেলাটা আজ খেলেছেন, তার প্রতিদানে এই ব্যবহারই কি তাঁর প্রাপ্য? বিশ্বকাপের মতো সবচেয়ে বড় আসরে, সবচেয়ে বেশি ও ধারাবাহিক মনোসংযোগের আসরে আমরা এভাবে দলের একজন অপরিহার্য সদস্যকে স্লেজিং করে, হতোদ্যম করে কি নিজের পায়েই কুড়াল মারছি না? …

রুবেলের বিরুদ্ধে মাঠের বাইরে যত অভিযোগই থাকুক, সেসব তো তাঁকে মাঠের বাইরে মোকাবেলা করতে হবেই… এমনকি আদালতের কাঠগোড়া পেরিয়ে জেলেও যেতে হতে পারে, যার ট্রায়াল তিনি ইতোমধ্যে দিয়ে গেছেন। কিন্তু যখন তিনি মাঠের ভেতর, তখন তিনি আর ব্যক্তি রুবেল নন, তিনি টিম-বাংলাদেশের লাল-সবুজের অবিচ্ছেদ্য অংশ, শরীরের একটা প্রতঙ্গের মতোই। পায়ে বিষ্ঠা লাগলে আমরা পা ধুয়ে ফেলি। দগদগে ঘা হয়ে পুঁজ বেরিয়ে গেলেও আগে তার চিকিৎসা করি। বিনা চিকিৎসায় কেটে ফেলি না বা ঘায়ের কারণে পা-টাকেই গালাগালি করি না।

রুবেলকে অপমান করে, কটাক্ষ করে, কুৎসিত ইঙ্গিত করে নিজেদের জাতীয় পরিচয়কেই আমরা প্রশ্নবিদ্ধ করছি না কি?