ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

মাছরাঙা টিভির সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন জিপিএ ফাইভ পাওয়া ছাত্রছাত্রীদের কিছু প্রশ্ন করেছেন, যেগুলো নিতান্তই সাধারণ প্রশ্ন, যেগুলোর অধিকাংশের উত্তর সাবলীলভাবে লিখতে পড়তে জানা অন্তত মাধ্যমিক পর্যায়ের যেকোনো শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরই জানা থাকার কথা, জানা থাকা উচিত। আমার মেয়ের বয়স সাড়ে পাঁচ, দেড় বছর হলো স্কুলে যাচ্ছে, নার্সারি ক্লাসের ছাত্রী। সে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, শহীদ দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বাংলাদেশের রাজধানী, জাতীয় কবি, জাতীয়সঙ্গীতের কবি, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী প্রমুখের নাম ঠিকঠাক বলতে পারে, জাতীয় সঙ্গীত পুরোটা প্রায় সঠিক সুরে গাইতে পারে। “আমরা করবো জয়” গানটা যে পিট সিগারের লেখা, এটার মূল ইংরেজি ভার্সনটা “উই শ্যাল ওভারকাম” সেটাও সে জানে এবং গাইতে পারে। জাতীয় ফল, জাতীয় ফুল, জাতীয় মাছ, জাতীয় পতাকা ইত্যাদিসহ শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধের ছবি দেখে ঠিকঠাক চিনে ফেলতে পারে। “সাবাস বাংলাদেশ” ভাস্কর্যটা যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আছে, সেটাও তাকে চিনিয়ে দিতে হয়নি, ছবিতে দেখেই সে নিজে থেকে চিনে নিতে পেরেছে। এমনকি তার বাসার সম্পূর্ণ ঠিকানা, লোকেশনসহ বলতে পারে। তার দাদা-দাদী, নানা-নানীর নাম, দাদাবাড়ি-নানাবাড়ির বাসার নম্বরসহ বলতে পারে। কেউ যদি মনে করেন এগুলো পুঁথিগত মুখস্ত বিদ্যা, তাহলে ভুল করবেন। কারণ, এই তথ্যগুলোর প্রতিটি সে তার নিজের আগ্রহে শিখেছে, শেখার আনন্দে বারংবার প্রশ্ন করে করে শিখেছে। এবং প্রতিদিন সে শিখেই চলেছে। … ভিডিওতে যে ছেলেমেয়েগুলোকে প্রশ্ন করা হয়েছে, তারা সবাই আমার মেয়ের চেয়ে অন্তত দশ বছরের বড়, দশ বছর ধরে তারা স্কুলে যাতায়াত করছে। এ প্লাস গ্রেডিংয়ের কথা ছেড়ে দিন, তারা দশ বছর স্কুলে যাতায়াত করছে, দশ বছর ধরে বাংলা ইংরেজি, অংক, বিজ্ঞান, সমাজ, ভূগোল ইত্যাদি বিষয়ের দশ ধাপের বই পড়েছে – এই কারণেই তাদের ওই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর ঠিকঠাক দিতে পারা উচিত ছিল, আবশ্যক ছিল। তারা সেটা পারেনি, তাদের লজ্জা পেতে হবে, লজ্জিত হতে হবে। সেটা তারা সংখ্যায় ১৩ জন হোক, বা ১৩ হাজার জনই হোক। কারণ এটাকে আমার কাছে অজ্ঞতা বলে মনে হয়নি একেবারেই, মনে হয়েছে শিখতে না চাওয়ার প্রবণতা। বাংলাদেশের ত্রিশটার বেশি টিভি চ্যানেলে রোজ একবার করে হলেও রাষ্ট্রপতির নাম বলা হয়, অসংখ্য মাধ্যমে তাঁর নামটা প্রচার হয়ে আসছে সারাদিন, মাসে প্রতিদিন। তিনি এমন কিছু প্রচারবিমুখ বা আড়ালে থাকা মানুষও নন, বরং তাঁর অভিনব হাস্যরসপ্রিয় বিভিন্ন বক্তৃতার জন্য তিনি এমনকি ফেসবুক ইউটিউবের মতো সামাজিক মাধ্যমেও নিয়মিতই হাজির থাকেন। তারপরও স্কুল ফাইনাল পাশ করা একজন ছাত্র কেন সেই নামটা জানবে না? টু-থ্রিতে পড়ার বয়সেই আমরা নয়টা গ্রহের নাম শিখেছি (আজকাল নাকি কোন্ গ্রহকে বাদ দেয়া হচ্ছে, কোনটাকে যুক্তও করা হচ্ছে, সেটা অন্য প্রসঙ্গ), তার মধ্যে নেপচুন নামটা আছে। কী করে একটা এসএসসি পাশ ছেলে সেই পৃথিবীর বাইরের গ্রহটাকে আমাদের দেশের নিকটতম প্রতিবেশী দেশের রাজধানী বলতে পারে? কমন সেন্সও কি কাজ করে না এসব উত্তর দেয়ার সময়? এটা আসলে না জানা নয়, এটা জানতে না চাওয়া। এবং সেটা একজন ছাত্রের জন্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

 

এবার আসা যাক, ছেলেমেয়েগুলোর চেহারা প্রকাশ করে সাংবাদিক তাদের কী ক্ষতি করেছে – সেই প্রসঙ্গে। আমি মোটেই বিশ্বাস করি না, তাদের আদৌ কোনো ক্ষতি সাংবাদিকের দ্বারা হয়েছে। তারা আসলে ক্ষতির মধ্যেই আছে, সাংবাদিক কেবল সেই ক্ষতিটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। তাঁর রিপোর্টে মাত্র ১৩ জনের ছবি এসেছে, কিন্তু এই ১৩ জন প্রকৃতপক্ষেই ১৩শ’ বা ১৩ হাজার কিংবা ১ লাখ ৩০ হাজারের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের দোষ, নাকি সিস্টেমের দোষ, নাকি সরকারের উচ্চনম্বর প্রীতির দোষ – সেই প্রশ্ন এখন করছেন কেন? কেন এখন বলছেন, নম্বর দিয়ে সব বিচার করা যায় না অথবা জিপিএ ফাইভ কখনও মেধার মানদণ্ড হতে পারে না? তাহলে যখন এসএসসি’র জিপিএ’র ভিত্তিতে এইচএসসি এবং এসএসসি+এইচএসসি’র জিপিএ’র ভিত্তিতে অনার্সের ভর্তির নিয়ম চালু হয়, তখন কেন সেটা মেনে নেন? তখন কেন বলেন না, নম্বর দিয়ে বিচার করে উচ্চশ্রেণীতে ভর্তি করা যাবে না? চার কামরার বাসার ভাড়ার চেয়েও প্রাইভেট স্কুলের মাসিক বেতন বেশি হলে আমাদের শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা সানন্দে মেনে নেন, কেউ আন্দোলনের কথা মুখেও আনেন না। কিন্তু তারা ঠিকই আন্দোলন করেন ওই অতিরিক্ত বেতনের উপর ভ্যাট ধরা হলে, তাও সেটা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে। অথচ ছেলেমেয়েদের প্রকৃত মেধা-যাঁচাইয়ের মাধ্যমে যে উচ্চশিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হচ্ছে না – সে ব্যাপারে তাদের কিছুই আসে যায় না। বরং উল্টো চিত্রটাই দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ ভর্তি পরীক্ষায় বেসিক ইংলিশের ২০ নম্বরের প্রশ্ন রাখলো, ছয় হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন টেনেটুনে তাতে পাশমার্ক পেলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো রাস্তার বাদাম বিক্রেতার সাথে পর্যন্ত সম্পর্ক নাই – এমন লোকেরাও রে রে করে উঠলো, “হালারা কীয়ের পরীক্ষা নেয়? কী বুঝাইবার চায়? নিজেরা খুব পণ্ডিত আইছে, আর আমগো পুলাপাইন বেকটিই ব্যাক্কল, না?” ফলে বিশ্ববিদ্যালয়কেই বরং তাদের পরীক্ষা পদ্ধতি শিথিল করতে হয়! গত বছর জেএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট হওয়ার পর একজন অভিভাবক (যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক) প্রকাশ্যে রাস্তায় প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রতিবাদ করে বলেছিলেন যে, তাঁর সন্তান জিপিএ ফাইভ পাওয়ার মতো প্রস্তুতি নেয়নি, তেমন ভালো পরীক্ষাও দেয়নি, তথাপি তাকে জিপিএ ফাইভ দেয়া হলো কেন? আমাদের যারা সিস্টেমের দোষ ধরছেন, তারা ক’জন বুকে হাত দিয়ে নিজ নিজ সন্তানের পড়াশোনার প্রকৃত মূল্যায়ন করেন? কতজন অভিভাবক অভাবনীয়ভাবে সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়া সন্তানের ফলাফলে গর্বিত না হয়ে চিন্তিত হয়েছেন? ফলাফল চ্যালেঞ্জ করেছেন? কেউ করেননি। কেউ একজনও না। অথচ সবাই জানে, যতজন ফি-বছর জিপিএ ফাইভ পাচ্ছে, সব বিষয়ে নব্বইয়ের বেশি নম্বর পাবার মতো ততজন ছাত্র প্রতিবছর পরীক্ষায় বসে না। তাতে এটাই প্রমাণ হয়, সন্তানের প্রকৃত শিক্ষার্জন তাদের কাছে মোটেই গুরুত্ব পায় না, তারা যেকোনো উপায়ে ছেলেমেয়েকে আরেক ধাপ সামনে ঠেলে দিতে পারলেই খুশি। তাহলে আর তাদের লজ্জা পাওয়ার বা সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার কী আছে? আমি নিশ্চিত, তারা বরং খুশি যে, ফাঁকতালে দেশব্যাপী প্রচার পেয়ে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গেছে। আর ভুলভাল উত্তর দেয়ায় টিটকারি বা দুয়োধ্বনি শোনা? কে দেবে দুয়োধ্বনি? কে করবে টিটকারি? সে-ও তো ওই একইরকম “আই অ্যাম জিপিএ ফাইভ”! এদের ভুল ধরবে যারা, তারা নিজেরাই তো জানে না কিছু, তাই ভুল যে করেছে, বলে না দেয়া পর্যন্ত বুঝবেই বা কী করে তারা?

 

ছেলেমেয়েগুলোর চেহারা ব্লার করে দেয়ার কথা যারা বলছেন, সবাই বলছেন আসলে, তারা একবারও কি ভেবে দেখেছেন, ছেলেমেয়েগুলো কোন্ মাত্রার অপরাধ করেছে যে, তাদের চেহারা ব্লার করে দেখাতে হবে? তারা কি গোপন সেক্স ভিডিও তৈরি করেছে? ড্রাগ প্যাডল করেছে? চোরা-কারবারি করেছে? আইএস-জাতীয় নিষিদ্ধ ঘোষিত বাহিনীতে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র করেছে? নেশায় বাধা দেয়ার জন্য বাবা-মা’কে খুন করেছে? কেন তাদের চেহারা ব্লার করা হবে? চেহারা ব্লার করে প্রচার করার বিষয়টা তখনই আসে, যখন কেউ ঘোরতর অপরাধ করে। এই ছেলেমেয়েরা কি “অপরাধী” হিসেবে স্বাক্ষাতকার দিয়েছিল, যে তাদের পরিচয় গোপন রাখতে হবে? ব্লার করার প্রশ্ন তখনই আসে, যখন স্বাক্ষাকতারদানকারী নিজেই নিজের পরিচয় গোপন রাখতে চায়। এই ছেলেমেয়েরা কেউ কি তা চেয়েছিল? তারা তো চেহারা দেখাতেই চেয়েছে। তাদের ইন্টারভিউ তো গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়নি। বরং আনন্দের সাথেই তারা তাদের জ্ঞানের বহর জানান দিয়েছে। পরিচয় গোপন তো দূরের কথা, এরা বরং অতিমাত্রায় প্রচারপ্রিয়। নইলে স্কুল বন্ধ থাকার পরও দল বেঁধে সাক্ষাতকার দিতে চলে আসতো না। চলে আসলেও, উত্তর না জানা প্রশ্নের ভুল উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যেতে পারতো বা চুপ থাকতো। সেটা তারা থাকেনি, বরং ‘কোনোদিন না শোনা’ প্রশ্নের ‘যা মনে আসে তাই’ জবাবও কনফিডেন্টলি দিয়ে গেছে, যাতে করে সেই অংশের ফুটেজ কেটে তাকে বাদ দিয়ে দেয়া না হয়। নইলে, যদি ধরেও নিই যে, এসএসসি পাশ একজন ছাত্রকে পিথাগোরাসের নাম কখনও বলা হয়নি, তথাপি কোনো শিক্ষক পিথাগোরাসকে ঔপন্যাসিক হিসেবে নিশ্চয়ই পরিচয় করিয়ে দেননি বা কোনো বইয়ে তাঁর এই পরিচয় লেখা আছে – সেটাই কি আদৌ সম্ভব? তাহলে তাকে ঔপন্যাসিক বলার কারণ কী? পিথাগোরাসকে না চিনলেও তাকে মনগড়াভাবে ঔপন্যাসিক বানিয়ে দেয়ার যুক্তি একটাই, প্রশ্নটা স্কিপ করে গেলে যদি ওই অংশের ফুটেজ কেটে বাদ দিয়ে দেয়া হয়? … আজ যারা তাদের ‘সামাজিক জীবন তছনছ হয়ে যাওয়ার’ ভয়ে আতঙ্কিত, তাদের বরং উচিত নিজ নিজ ছেলেমেয়েকে ফেসবুক-টুইটারের অলীক সামাজিক জীবনের বাইরে এসে তাদের সিলেবাসের ভেতরের সমাজ, বিজ্ঞান বইগুলো ঠিকঠাকমতো পড়তে বলা।

 

কী হতো, যদি প্রকৃতই চেহারা ব্লার করে ভিডিওটা দেখানো হতো? এটাই হতো যে, কেউ বিশ্বাসই করতো না যে, প্রশ্নগুলো প্রকৃতই এসএসসি পাশ ছাত্রছাত্রীদের করা হয়েছে, সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়া ছাত্রছাত্রীর কথা বাদই দিলাম। সবাই এটাই বলতো, কোত্থেকে কোন্ মূর্খ পোলাপান ধরে এনে ভিডিও বানিয়েছে নিজেদের টিআরপি বাড়ানোর জন্য। তাই যা করা হয়েছে, সেটাই বরং ঠিক আছে। একদম ঠিক আছে। আমি তো বলবো, মাছরাঙা টিভির উচিত এই রিপোর্টিং অব্যহত রাখা। ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামা যে, আমরা আসছি আপনার স্কুলে, তৈরি থাকুন আপনাদের গর্বের ধন জিপিএ ফাইভ পাওয়া হীরার টুকরাদের নিয়ে। এবং ছাত্রছাত্রীদের সাথে সাথে তাদের স্কুলের টিচারদেরও ক্যামেরার সামনে দাঁড় করানো, সমাজের সামনে দাঁড় করানো। বছরের পর বছর ধরে শিক্ষাখাতে যে চরম অরাজকতা চলছে, তার ভিত্তিমূলে একটা বড় ধাক্কা দিতে পারার জন্য কোথায় মাছরাঙা টিভি এবং তার সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনকে বাহবা দিবেন, তা না সবাই নেমেছেন তাকে ধুয়ে দিতে। কেউ তো একজন শুরু করেছেন, কেউ তো উচ্চকণ্ঠে সরব হয়েছেন। তাকে কোথায় সাহস যোগাবেন, তা না তার কণ্ঠ রোধ করতে নেমেছেন – কার স্বার্থে?

 

আমাদের দুই প্রধান দলের একটার নেতা সারা দেশ অচল করে দেয়ার ঘোষণা দেন ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা ৫০ নম্বরের করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে, আর দেশবাসী তাকে সমর্থন জানিয়ে এমনভাবে জেহাদী জোশে ফুঁসে ওঠেন যে, প্রমাণিত হয়ে যায়, পরীক্ষার পূর্ণমান অর্ধেক করাতে বুঝি প্রকৃতই ইসলাম ধর্ম বিষয়ের শিক্ষাদান, তথা ইসলাম ধর্মটাই দেশে অর্ধেক কমে যাচ্ছে! অপরদিকে আরেক দলের নেতা আবার সরাসরি বিষ্ময় প্রকাশ করেন – ছেলেমেয়েরা ফেল করবে কেন? ফেল করার তো কোনো কারণই নাই! একজন ছাত্র নিশ্চয়ই ফেল করার জন্য সারা বছর পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয় না, তথাপি তাকে ফেল করিয়ে দেয়ার মানে তো তার পড়াশোনার ইচ্ছাকে ডিমোরালাইজ করা! … অদ্ভুত ব্যাপার যে, এবারও আমরা এই মতটার পক্ষে দেশবাসীর পূর্ণ সমর্থন পাই এই প্রশ্ন না করেই যে, ফেলই যদি কেউ না করে, তাহলে খামাখা আর পরীক্ষাই বা নেয়ার দরকার কী? আর পড়াশোনার ইচ্ছা যাতে ডিমোরালাইজ না হয়, সেজন্য ফেল না করার আগাম গ্যারান্টি দিয়ে দেয়া মানেই তো পাশ করার আগাম গ্যারান্টি দিয়ে রাখা। যে ছাত্র জানেই যে, সে পাশ করে গেছে, শুধু পরীক্ষার খাতায় নাম লেখার ফর্মালিটিটুকুই বাকি, তার আর পড়তে বসার দরকার কী? ডিমোরালাইজ তাহলে কে কাকে কীভাবে করলো?

 

আমাদের মতো অডিয়েন্স, আমাদের মতো শিক্ষা-সমঝদার, আমাদের মতো সামাজিক-সম্মান-বিশারদদের জন্যই সুমন গেয়েছিলেন – “এসব প্রশ্ন কখনো ক’রো না, বোবা-কালা হয়ে থাকো”। সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন কিছু বোবা-কালার শান্তি নষ্ট করেছেন, এটাই কি তাঁর অপরাধ?