ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

একটা সময় ছিলো জনগণকে জাগাতে নেতৃত্বের দরকার হতো। ক্ষূদিরাম, সূর্যসেন, বাঘা যতীন, নেতাজ্বি সুভাষ বোস থেকে বঙ্গবন্ধুর আমল পর্যন্ত বাঙালি নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষা করেছে। বঙ্গবন্ধুর অকাল প্রয়াণের পর এই জনগণ প্রকৃত অর্থে নেতৃত্বের সঙ্কটে ভুগেছে অনেক দিন।

আজকাল তাই আর তাদের জেগে উঠতে নেতা চাই না, নিজের ‘ওয়েক-আপ কল’ তারা নিজ নিজ মস্তিষ্কের এলার্ম ঘড়িতে সেট করে রাখে সর্বদা। তাই শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ সংগঠিত হতে যেমন নেতার দরকার হয়নি, কোটাবিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতেও তেমনি সময় লাগেনি।

কিন্তু  এই আন্দোলনটা চলছে একেবারেই শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে; তাদেরই একক নেতৃত্বে। আশংকা থেকেই যায়,  টিন-এজ বয়সী, প্রায় নাবালক শিশু-কিশোররা যেভাবে, যে প্রজ্ঞার সাথে এত বড় একটা সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, বড়দের অনধিকার চর্চায় তা না ভেস্তে যায় পুরোপুরি।

কী এমন দাবি আমাদের ছেলেমেয়েদের? খুব বেশি কিছু তো চায়নি তারা। চেয়েছে কেবল নিরাপদ সড়ক। কার জন্য চেয়েছে? সবার জন্য। এই দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য। যে যাত্রী গাড়িতে চড়ে পথ পাড়ি দেয়, তার জন্য যেমন, যে চালক সেই যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেন, তারও জন্য। যে মানুষ গাড়িতে না চড়ে পায়ে হেঁটে পারাপার করতে চান, তার জন্য যেমন, যিনি পথের পাশে দাঁড়িয়ে গাড়িতে চড়ার অপেক্ষা করেন, তারও জন্য।

এতে দোষের কী আছে? কী এমন অসম্ভব দাবি এটা? কোনোভাবেই কি অন্যায় কোনও দাবি?

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে ঢাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

মনে পড়ছে, সেই নব্বইয়ের দশকে শাহবাগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেধাবী ছাত্রীর ট্রাকচাপায় নিহত হওয়ার ঘটনা সারাদেশে আলোড়ন তুলেছিলো। সে সময়ের তুমুল জনপ্রিয় ব্যান্ড ফিডব্যাকের গানে পর্যন্ত উঠে এসেছিলো সেই ঘটনা –“ফটাশ করে ফাটলো খুলি আরেক তরুণীর/ ট্রাকের চাপাতলে মৃত্যুর বর্ণনা ভয়ঙ্করী/ তাই বান্ধবীরা তুললো নতুন দাবী – চাই স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি!”

সেই গ্যারান্টি আজও কি আমরা পেয়েছি? সেই মেয়েটির পরও আরও অগণিত মেধাবী ছাত্রছাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন ওই শাহবাগ-টিএসসি-চারুকলা-দোয়েল চত্ত্বরের আশপাশ দিয়ে – প্রশাসন একটারও কি কোনও প্রতিকার করেছে?

মেগাস্টার অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় তার প্রাণপ্রিয় স্ত্রীকে হারিয়ে দেশব্যাপী গড়ে তুললেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন। সেই আন্দোলন একটা ট্রেডমার্কে পরিণত হলো; ব্র্যান্ড হয়ে উঠলো ক্রমশ, কিন্তু সড়ক নিরাপদ হলো কি?

বগুড়ার প্রথম বিলাসবহুল আবাসিক মোটেল সেফওয়ের মালিক এগারো সদস্যের পুরো পরিবার নিয়ে প্রাণ হারালেন ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে। যিনি তার মোটেলের নাম রেখেছিলেন সেফওয়ে, তিনি পরপারে চলে গেলেন একটি ‘আনসেফ’ পথ ধরে।

দুর্ঘটনাস্থলে নামকাওয়াস্তে একটা স্মারক স্তম্ভ বসানো ছাড়া আর কোনও উন্নতি কি হয়েছে? সেফ হয়েছে এদেশের কোনও হাইওয়ে?

আমরা সর্বপ্রথম অস্কার জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম যে নির্মাতার হাত ধরে, তাকেও আমাদের হারাতে হলো এক অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনায়। তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের এই অকাল প্রয়াণের ক্ষতি আমরা কি আদৌ কাটিয়ে উঠতে পারবো কোনোদিন?

ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যস্ত দুটো মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। দুর্ঘটনা একটুও কি কমেছে এই দুটো রাস্তায়? ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কও চার লেনে উন্নীত করার কাজ শেষের পথে।

উদ্বোধনের আগেই বলে দিতে পারি – দুর্ঘটনা তাতে একটুও কমবে না। যমুনা সেতুর মতো অত্যন্ত পরিকল্পিত, সম্পূর্ণরূপে বিভক্ত, গতিশীল একটা সেতুতেও দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাতে প্রাণহানিও পর্যন্ত ঘটেছে।

অতএব, আমরা সকলেই জানি, সড়ক সংস্কার, নিয়মিত রক্ষনাবেক্ষণ ও আধুনিকীকরণ নিরাপদ সড়কের একটা অংশ মাত্র, কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয়। সড়ক তখনই নিরাপদ হবে, যখন সড়কে চলাচলকারী চালকেরা একে নিরাপদ রাখবেন। তার জন্য নিশ্চিত করতে হবে চালকদের যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সর্বোপরি  দায়িত্ববোধ।

আর এই ইস্যুতেই আন্দোলন করছে আমাদের শিশুরা। তারা এখন আর কাউকে বিশ্বাস করে না। তারা অনেক আন্দোলন সংগ্রাম দেখেছে, অনেক কার্যক্রম দেখেছে, অনেক সভা-সেমিনার হতে দেখেছে, মিছিল মিটিং শুনেছে, কিন্তু কাজের কাজ যে কিছুই হয়নি, তা নিজের রক্ত দিয়ে, বন্ধুর লাশ কোলে নিয়ে হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছে।

তাই আসল জায়গাটায় হাত দিয়েছে তারা। কতটা অসহায় এবং কতটা ডেসপারেট হলে পরে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে পনের-ষোল বছর বয়সী ছেলেরা লাঠি হাতে প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করতে নামে – একবার কি উপলব্ধি করেছেন?

তারা এমনকি আর পুলিশকেও বিশ্বাস করতে পারে না, কেননা পুলিশের গাড়িই যে লাইসেন্সবিহীন চালকের দ্বারা চলছে, তা তারা নিজেরাই হাতেনাতে ধরে ফেলেছে।

রিকুইজিশন করা পুলিশবাহী হিউম্যান হলার তারা আটকে দিয়েছে, যার চালক একজন ১৪-১৫ বছর বয়সী কিশোর, যার লাইসেন্স থাকা তো দূরের কথা, লাইসেন্স পাওয়ারই বয়স হয়নি। আর খোদ ইউনিফর্ম পরা পুলিশ কনস্টেবল, পুলিশেরই গাড়ি চালানোর সময় তাদের হাতে আটক হয়েছে লাইসেন্স দেখাতে না পারার কারণে।


মহাখালীতে পুলিশ সার্জেন্টের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করে দেখছে শিক্ষার্থীরা  ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

অদক্ষ চালকরা যে ক্যান্সারের মতো দেশের প্রতিটি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে, বেসরকারির পাশাপাশি এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যন্ত ঢুকে বসে আছে। সোনালী ব্যাংকের একটি স্টাফ বাস রাস্তা ছেড়ে ফুটপাথ ডিঙ্গিয়ে সরাসরি মধুমিতা হলের পিলারে আঘাত করলো। একটা পিক-আপ ভ্যানের চালক লাইসেন্স দেখাতে না পেরে ছাত্রদের উপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে দিয়ে পালিয়ে গেল।

আর কত সহ্য করা যায়? আর কত ফাঁকাবুলির আশ্বাস তারা সহ্য করবে? “কত হাজার মরলে পরে মানবে তুমি শেষে/ বড্ড বেশি মানুষ গেছে বানের জলে ভেসে…?”

হাফ-ইয়ারলি পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে, ঈদের পর বড়জোর দেড়-দুই মাস পাওয়া যাবে ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য, কারণ ডিসেম্বরেই নির্বাচন। স্কুলগুলোতে দমবন্ধ করা পড়াশোনার চাপ। সেই চাপ অগ্রাহ্য করে ছেলেমেয়েগুলোকে আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছি। তারা আর কারুর নিয়ন্ত্রণে নেই। এমনকি আমার পক্ষেও সম্ভব নয় আমার সন্তানকে তার বন্ধু-হত্যার কি তার নিজেরই সম্ভাব্য-হত্যার প্রতিকার চাইবার আন্দোলন থেকে ফেরানোর। কীভাবে ফেরাবেন তাদের?

পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে তাদের ফেরানো যাবে না, কারণ তারা গাড়িচাপা পড়ার চেয়ে পুলিশের মার খাওয়া কম কষ্টের – সে হিসেব জেনে গেছে। তাহলে ছাত্রদের ঘরে ফেরানোর উপায় কী?

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বোচ্চ শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আইনমন্ত্রী দু’মাসের মধ্যে নতুন আইনের ঘোষণা দিয়েছেন, এমনকি নৌপরিবহন মন্ত্রীও নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন – তারপরও আন্দোলন চলছে কেন?

কারণ তাদের পেশ করা নয় দফা এখনও মেনে নেয়া হয়নি। কিংবা মেনে নেয়া হলেও তারা সেটা বিশ্বাস করতে পারছে না।

যে দাবিটি তাদের নয় দফার মধ্যে উল্লেখ নেই অথচ সবচেয়ে প্রধান দাবি – নৌপরিবহন মন্ত্রী পদত্যাগ করেননি।

যে ব্যক্তি একই সঙ্গে সরকারের মন্ত্রীসভার অতি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, সরকার পরিচালনাকারী রাজনৈতিক দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় সদস্য এবং সেই সঙ্গে দেশের পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠনের প্রায় আজীবন সভাপতি – সেই ব্যক্তি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তাদের নয় দফার একটা দফাও বাস্তবায়ন হবে না, এটা তারা ভালোই জানে।

তিনি এই তিনটি প্রতিষ্ঠান-সংগঠনের একটিতেও ক্ষমতাবান থাকা অবস্থায় এদেশের অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে কোনও প্রকারের ব্যবস্থা নিতে দেবেন না – এটা তাদের আশংকার জায়গা।

এই তিনদিনের অবরোধেই প্রমাণ হয়ে গেছে রাজধানীতে চলাচলকারী অধিকাংশ গণপরিবহনের চালকের বৈধ লাইসেন্স নেই, সহকারীর তো প্রশ্নই আসে না।

যেখানে লাইসেন্সধারীরাই অবৈধ চালক, সেখানে লাইসেন্সবিহীন চালকের সংখ্যাও তাদের ছাপিয়ে যাচ্ছে – তাহলে প্রকৃত লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা কত? কাদের হাতে আমাদের রাস্তাগুলোর নিয়ন্ত্রণ?

অথচ পরিবহন মালিক শ্রমিকদের সংগঠনের দায়িত্ব কেবল মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ নয়, বরং তাদের রুটিরুজির জায়গাটার উন্নয়ন করা, নির্বিঘ্ন করা। সংগঠনের বরং কড়াকড়ি নিয়ম করা উচিত, ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এমন কোনও চালককে কোনোমতেই চালকদের কোনও সংগঠনের সদস্য হতে দেয়া যাবে না।

একই কথা চালকের সহকারী ও অন্যান্য শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এমনকি পরিবহন মালিক হতে গেলেও তার কিছু দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিজ পরিবহনের ফিটনেস ঠিক রাখা, রুট-পারমিট, ইনস্যুরেন্স, ট্যাক্স-টোকেন ইত্যাদি হালনাগাদ করা, লাইসেন্স পরীক্ষা করে দক্ষ চালক, সহকারী নিয়োগ দেয়া থেকে নিয়ে সড়কে তার গাড়ি যেন কোনোপ্রকার চাঁদাবাজির শিকার না হয় – সেটা নিশ্চিত করাও মালিকের দায়িত্ব।

একটা ছোট্ট উদাহরণ দেয়া যাক। বাংলাদেশের “সাধারণ পরিবহন” লেখা পণ্যবাহি ট্রাকগুলো প্রায় নিরানব্বইভাগ চলাচল করে এজেন্সির মাধ্যমে। ট্রাক মালিক একটা ট্রাক কিনে কোনও একটা এজেন্সিতে যোগ দেন, তারপর সেই এজেন্সি দেশব্যাপী তার শাখার মাধ্যমে ওই ট্রাকটি কোথা থেকে কোথায় মাল পরিবহন করবে, তার বন্দোবস্ত করতে থাকে।

ধরা যাক, একজন ট্রাক চালক তার ট্রাকে আলু বোঝাই করে নিয়ে দিনাজপুর থেকে রওনা হলেন ঢাকার পথে। ঢাকায় কারওয়ানবাজারে আলু নামিয়ে দেয়ার সময়েই তাকে জানিয়ে দেয়া হলো, পরবর্তী ট্রিপের মাল ওঠাতে তাকে সদরঘাটে উপস্থিত থাকতে হবে ঠিক এক ঘণ্টার মধ্যে।

সদরঘাট থেকে নারকেলের ছোবড়া তুলে নিয়ে তিনি রওনা হয়ে গেলেন সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জে মাল নামিয়ে দিয়ে আবার সেখান থেকে পাথর বোঝাই করে রওনা হয়ে গেলেন টাঙ্গাইলের পথে।

এই যে লাগাতার একটার পর একটা ট্রিপ, এর মধ্যে ড্রাইভার বেচারার বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ এক জায়গায় মাল লোড করা এবং অপর জায়গায় আনলোড করার ফাঁকে সর্বোচ্চ যে ঘণ্টাখানেক সময় মেলে, সেটুকুই। এত কম বিশ্রাম নিয়ে একজন চালক শত শত মাইল পথ অমানুষিক ভারবাহী মাল বোঝাই একটা ট্রাক নিয়ে কত দিন লাগাতার চলতে পারেন?

এই ব্যাপারে সামান্যতমও বিবেচনাবোধ কোনো ট্রাক মালিকের আছে বলে মনে হয় না। আর এটা একা একজন মালিকের কাজ নয়ও। একজন মালিক একা এটা করতে পারবে না বলেই না মালিকদের সংগঠন। সারাদেশের সংগঠনের ফেডারেশন।

সেই ফেডারেশন নিজেদের কাজের একটা স্বচ্ছ, সুস্থ ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা না করে বরং সদস্যদের আক্ষরিক অর্থেই সাত খুন মাফ করতে ব্যস্ত থাকবে – এটা হতে দেয়া যায় না। অথচ দিনের পর দিন এটাই হয়ে আসছে। আর এখানেই  এই সংগঠনের সভাপতির ব্যর্থতা।

এই ব্যর্থতার অভিযোগে তার প্রতি অনাস্থা আনুন, তাকে সভাপতির পদ থেকে অব্যহতি দিন, প্রয়োজনে সংগঠন থেকেই বহিষ্কার করুন। সড়ক নিরাপদ হতে সময় লাগবে না।

এই ছাত্ররা সরকারের অত্যন্ত ক্ষমতাবান অতিগুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী থেকে জনপ্রতিনিধি পর্যন্ত কাউকে ছাড় দেয়নি। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো, উল্টো রাস্তায় গাড়ি চালানো, গাড়ির ফিটনেস, ইনস্যুরেন্স, ব্লু-বুক হালনাগাদ না থাকা ইত্যাদি কোনও ইস্যুতেই কাউকে ছাড় দেয়নি, বরং বাবা-চাচা-আংকেল বলে বুঝিয়ে শুনিয়ে সবাইকে লাইনে এনেছে।

স্বাধীন দেশের সাতচল্লিশ বছরের ইতিহসে প্রথমবারের মতো প্রধান সড়কগুলোতে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরী পরিবহনগুলোর জন্য  ‘ইমার্জেন্সি লেন’ আবিষ্কৃত হয়েছে।

কেবল সাধারণ চালকরাই নন, এমনকি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে নিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সার্জেন্টকে পর্যন্ত তারা বেআইনি চলাচল থেকে বিরত করেছে, পুলিশকে বাধ্য করেছে পুলিশেরই বিরুদ্ধে মামলা নিতে। এতদিন পুলিশ যা করতে পারেনি চাকরি বাঁচানোর ভয়ে, ছাত্ররা তা নিমেষেই করে ফেলেছে। কারণ তারা পরিণামের পরোয়া করে না। তাদের হারাবার ভয় নেই।

কিন্তু আমাদের তো আছে। আমরা আর কতবার আমাদের সন্তানদের হারাবো?   আন্দোলনরত আমাদের সন্তানদের পড়াশোনায় যথেষ্ট ক্ষতি হয়ে গেছে, এবার যেন জীবনের ক্ষতিটুকু না বাড়ে তাই আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে, প্রজাতন্ত্রের মালিকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের আশু বোধোদয় হবে – এটুকুই কামনা।